কোরবানীর ঈদের সেরা কবিতা সংকলন (২০২৩) / ঈদ উল আযহা

কোরবানীর ঈদের সেরা কবিতা সংকলন (২০২৩) / ঈদ উল আযহা

ঈদ মোবারক
আশিক মাহমুদ রিয়াদ

বাতাসে বইছে দেখো আজ পবিত্রতার স্নিগ্ধতা
আকাশে ফকফকে সূর্য, পাতা ঝিলমিল করা পত্রপল্লবি
আজ এসেছে খুশির দিন, চারদিকে আনন্দের হিড়িক
বিভেদ ভুলে এসো বাড়াই যোগাযোগ,
তোমাকে জানাই ঈদ মোবারক।

মসজিদের আজান ভেসে আসে।
ঘুম ভেঙে চারদিকে কী সুন্দর মোহমায়া।
আজ দেখো বিজয়ের এই দিনে,
দুঃখ ভুলে হাসতে শিখেছি আমরা!

আলিঙ্গন করেছি পরস্পরকে,
ভেঙেছি মধ্যকার জরাজরকে
দু’হাত ভরে এসো বিলিয়ে দেই আজ
সবাই সেজেছে আজ,
এসো অস্তিত্বের আহ্বানে!

বঞ্চিতরাও হাসুক এইদিনে !
এই উচ্ছ্বাসের আহ্বানে।
হাসুক সব মলিন গোলাপ ,
সব বিভেদ ভুলে
সাহায্যের হাত বাড়াও আজ এই দিনে !

হে প্রভু, তোমার করুনার প্রতিচ্ছবি বিশ্বভূবনে !
তোমার তরে মাথা নত করি তবে,
পূণ্যের উদগীরণে ভরে যাক বিশ্ব,
সব ভেদাভেদ ভুলে, দুঃখ মুছে
প্রার্থনা করি আজ আকুলতায়
যত আছে সময় কালক্ষয় !
ধুয়ে মুছে যাক তোমার করুণায় !

এসো সবাই একসাথে
দাড়াই পাশাপাশি,
করি ঈদের সালাত আদায়।
স্নিগ্ধতায় ডুবে যাই আজ
এই পার্থিব আনন্দ ক্ষণে,
এসো জড়াই আলিঙ্গনে
সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা
ঈদ মোবারক ।


ঈদ এসেছে ঈদ
আশিক মাহমুদ রিয়াদ

পবিত্র রমজান শেষে এলো খুশির ঈদ,
পাখিরা গায় আজ স্নিগ্ধতার গজল..
হৃদয়ে বাজে পবিত্রতার গীত..
আজ যে খুশির বাধন হারিয়ে,
জড়িয়ে চাঁদর ভালোবাসার..
জানাই তোমায় ঈদ মোবারক।

ঈদ এসেছে নিয়ে খুশির বার্তা..
গাছে গাছে বসেছে পাখিদের কলরব…
রাস্তায় নেমেছে নতুনত্বের ঢাল..
আজ ভেদাভেদ ভোলার দিন..
এসো করি ঝিলমিল.ভেসে বেড়াই আনন্দে.

বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ
হৃদয়ে বাজে আনন্দের গীত…
আকাশে সরু এক ফালি চাঁদ উঠেছে ঐ..
ঈদ এসেছে, ঈদ এসেছে.. আগামীকাল কই..

সন্ধ্যে রাতে হুরোহরি.. হৃদয়ে বাজে কলরব
রাত পেরোলেই ঈদের দিন.. হবে কত কি কতসব..
সকাল সকাল ঘুম ভাঙলেই,
ভেসে আসে মসজিদের আজানের ডাক!

গোসল সেরে,
নতুন পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে,
গায়ে মেখে সুগন্ধি..
এগোই তবে মসজিদের দিকে..
একটু একটু হাসি ফিকে..

আজ সেই দিন এলো..
সারাদিন হবে মাতামাতি..
ঈদ এলো খুশির বার্তা নিয়ে..
ভেঙে দিয়ে সব ভেদাভেদ..
হৃদয় থেকে তোমাই জানাই আজ..
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক।




ইদ পরানের মেলা
নিশিকান্ত রায়

মিলেই যাবে রঙ ধনুটা,ভাবছি বসে ঘাটে,
জোয়ার ভাসে জলের শ্বাসে সূর্যি বসে পাটে।
মরুর হাওয়া আলোছায়া, সাগর ভরা গান,
শস্য শ্যামল কোমল ছায়ায় আলোর অভিমান।

ত্যাগ ও ভোগের সুমহিমায় আসে প্রাণের ইদ,
ভুলে যাওয়া সব ভেদাভেদ চোখ জুড়ে নাই নিঁদ।
বাতাস ঘিরে খেলা করে আনন্দেরই গান,
হিংসা ঘৃণা সব চলে যায় সমুদ্দুরের টান।

কাজল দিঘীর অলস জলে খুশীর কাঁপন উঠে,
ইদ এসে তাই ভূবন ভোলায় পাষানে ফুল ফুটে।
ছোট বড় গরীব দুঃখী অবহেলার খেলা,
মন্দ গুলো সব ভুলে যাই ইদ পরানের মেলা।




ঈদুল ফিতর
মহীতোষ গায়েন

ঈদের চাঁদ মন আকাশে হৃদয়ে ভালোবাসা
সমূহ সমাজে সবুজ মনে নতুন স্বপ্ন আশা,
শান্তি,মৈত্রী,সম্প্রীতি; ঈদের আনন্দ উৎসব
ভেদাভেদ যায় মান অভিমান মুছে যায় সব।

রমজানের রোজার শেষে ‘ঈদুল ফিতর’ আসে
দেহ মন একাকার সবাই মিলন-আনন্দে ভাসে,
সাফল্যের মহান বার্তা নিয়ে ইফতার দাওয়াত
ঈদের খুশি সবার মনে যায় বিভেদ জাতপাত।

ঈদের আমেজ মধুর আমেজ সৌহার্দ্য প্রীতিময়
হিংসা,ঘৃণা,লোভ লালসা মুক্ত মন ঈদেই বিজয়,
মাবুদ আল্লাহের সাক্ষাৎ হয় মহান ঈদের মাসে
রমজানের বরকত লাভ যেন প্রতি বছর আসে।

অধ্যাপক, সিটি কলেজ, কলকাতাl




ঈদের খুশি
মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম

নীল আকাশে চাঁদ উঠেছে
এলো খুশির ঈদ,
আনন্দ আমেজ বইছে শুধু
ভেঙে চোখের নিদ।

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে
করবো মোনাজাত,
দোওয়া করবো সবার তরে
তুলবো দুইহাত।

ঈদের দিনে পোলাও খাবো
সবাই মিলেমিশে,
ঈদের আমেজ ছড়িয়ে দিব
অনেক হেসে হেসে।

ঈদের দিনেই করবো শপথ
ভালো মানুষ হবো,
বিপদ কালে দাঁড়াতে পাশে
দ্রুত এগিয়ে যাবো।

ঈদের দিনে ভেদাভেদ ভুলে
করবো কোলাকুলি,
ঈদগাহে যাবো সবার আগে
হিংসা বিদ্বেষ ভুলি।


ঈদ সওগাত
গৌতম সরকার

ও আমার মেঘলা আকাশ
একটু বৃষ্টি দিও
খুশির এই ঈদের দিনে
আমাদের দাওয়াত নিও।

ও ভাই মেঘলা আকাশ
গ্রীষ্মের নিদাঘ দিনে
শরীরের ঘামগুলো সব
বৃষ্টির প্রহর গোনে।৷

রমজানের মাসটি জুড়ে
রোজার এই পুণ্যতোয়ায়
ও আমার মেঘলা আকাশ
বৃষ্টির আকাশ দোলায়
ভরুক আজ পুকুর জমি
প্রাণ জুড়াক দিগ্বিদিকে
ও ভাই মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি দিকে দিকে।

ও আমার মেঘলা আকাশ
ঈদের এই খুশির দিনে
সিমাই পায়েস খুশবু ছড়াক
নতুন এই বাদল চিনে।
ও ভাই মেঘলা আকাশ
আকাশ গঙ্গা বইয়ে দিয়ে
দিকদিগন্ত ভাসিয়ে দিও
ভালোবাসার নোঙর বেয়ে।

ও আমার মেঘলা আকাশ
নীল আকাশের চাদর ঘেরে
যে কান্না লুকিয়ে আছে
বইয়ে দাও সুখসাগরে
ও ভাই মেঘলা আকাশ
আজকের ঈদ সওগাতে
একটু বৃষ্টি দিও
সন্ধ্যে বা ভোরপ্রভাতে৷

ভালোবাসায় ভরে উঠুক
মনমানুষের জানলাগুলো
মেঘলা আকাশ তোমার পরশ
ভরে তুলুক মানুষগুলো।

ঈদের এই পুণ্যবেলায়
বাদলের পাগল খেলায়
মেতে উঠুক উতল হাওয়া
তারপর বৃষ্টি ঝরুক।

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

 

ঈদের আনন্দ
গোবিন্দ মোদক

মাগো এবার যাচ্ছি ঈদে বাড়ি,
তোমার জন্য নিয়ে রঙিন শাড়ি।
বাবার পোশাক নিয়েছি একখানা,
তোমরা যতোই করো নাকো মানা।

ভাইয়ের টুপি বোনের জন্য কুর্তি,
ঈদে হবে ভীষণ রকম স্ফূর্তি!
সন্ধ্যা হলেই উঠবে ঈদের চাঁদ,
দেবেই ভেঙে আনন্দেরই বাঁধ।

ধনী-গরীব হবেই বিভেদহীন,
সবার মনেই বাজবে সুখের বীণ।
একফালি চাঁদ থাকবে মনটা জুড়ে,
ঈদগাহতে নামাজ বাজবে সুরে

কৃষ্ণনগর, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

ছোট গল্প – অদিতি ঘোষদস্তিদার   আকাশটা আজ বড্ড বেশি  নীল। এমনটাই কি ছিল আগেও? না কি দীর্ঘ আঠারোমাসের যন্ত্রণাময় চার দেওয়ালের কুটুরী ছেড়ে বেরিয়ে ...
ভিন্ন ঈদের গল্প

ভিন্ন ঈদের গল্প

জোবায়ের রাজু এটি একটি অসাধারণ গল্প। স্বপনের গল্প। স্বপন ছাপোষা মানুষ। রামগতির ছেলে। ওই অঞ্চলের মানুষের নাকি আমাদের আমিশাপাড়াকে দ্বিতীয় আমেরিকা শহর মনে হয় ওদের ...
বড়দিনের ইস্তাহার

বড়দিনের ইস্তাহার

মহীতোষ গায়েন একদিন এইখানে বড়দিনে চাঁদ ডোবা রাতে বলেছিলে পাশে আছি চিরদিন, এখন দুঃসময়,স্মৃতি সব ভেসে গেছে,ভেসেছে শপথ,অঙ্গীকার,সব আশা ক্ষীণ। একদিন এইখানে রক্তিম ভোরে একজোট ...
বাঁশি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঁশি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুনুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা বাঁশি । কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন কলকাতার সু-পরিচিত সাহিত্যিক মহীতোষ গায়েন। শুনুন এবং জানান আপনার মতামত-    
আবেদন

আবেদন

 জাহেদ আহমদ     (এক). আমি শত সহস্র রাতের উপোস হতে রাজি আছি কবি__শুধুমাত্র একটি কবিতার জন্য মোলায়েম শব্দের শীতল স্পর্শে হৃদ দ্বিখণ্ডিত হয় হউক ...
কবিতা- "অশ্রু কেন ঝরে"। সাপ্তাহিক স্রোত -১১

কবিতা- “অশ্রু কেন ঝরে”। সাপ্তাহিক স্রোত -১১

| হাওর কবি শহীদুল্লাহ্    নেত্র তুমি কপালের নিচে – মানুষের মন থেকে, চোখে অশ্রু কেন ঝরে? দেখিতে পাইনা জল, কোথা হতে আসে! বিবেগে যখন ...