একটি নষ্ট গল্প

একটি নষ্ট গল্প

আশিক মাহমুদ রিয়াদ

দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে করছে একটা শরীরকে কাছে টানতে৷ কিন্তু ইচ্ছে থাকলেই কি হয় নাকি? আজকাল খোঁজ করলে চাঁদকেও হাতে পাওয়া যায়। কিন্তু দেহ চাইলে কি দেহ পাওয়া যায়? সামনের বিল্ডিংয়ের বেলকনিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়ের পায়েচারী খেয়াল করছে শাহিন, অপলক তাকিয়ে থাকে সেদিকে ব্যালকনিতে মৃদু আলো। মেয়েটির খোলা চুল, দুরত্ব বেশি নয়৷ মেয়েটি আন মনে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে, কানে কখনো মোবাইল থাকে। আবার কখনো থাকে না! দিনের বেলায় মেয়েটি কি কখনো ব্যালকনিতে আসে? শুক্রবার ছুটির দিন, সেদিন সারাদিন খেয়াল করা যাবে৷



রাতে ঘুম আসে না, দীর্ঘক্ষণ ঘুম আনার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কোলবালিশের সাথে দলামোচড় দিয়ে ক্ষাণিক নিজেকে শ্রান্ত করে নেয়৷ এরপর ভাবে কোন সম্ভোগের নগ্ন দৃশ্য৷ হঠাৎ আচমকা কোন দু:স্বপ্নে তার ঘুম ভেঙে যায়, সারা শরীর হয় ঘর্মাক্ত। বাইরে বিদঘুটে বিড়ালের ডাকাডাকি শব্দ, রাতের নিরবতায় রুম জুড়ে শোনা যায় বাটাবাটির শব্দ। কখনো বা মেঝেতে কোন কিছু টানার শব্দ। এরপর কখন ঘুমিয়ে পড়ে তা ঠিক আন্দাজ করতে পারে না।

২.
তার গলায় তখন চলছে চুম্বনের চুম্বকীয়তা। মেয়েটি নিশ্বাস ঘণ হয়ে ওঠে, কপাল থেকে নামে চুম্বনের নগ্ন নৃত্য, এরপর নামে বুকে। হাত দিয়ে ছোঁয় সব থেকে নমনীয় কোন বস্তু, পেট থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত নামতেই এলার্মের কর্কশ শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ততক্ষণে যা হবার হয়ে গিয়েছে!

এটা না হলে আরো কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করে বিছানায় কাটানো যেতো, বাথরুমে গিয়ে সকালের গোসলের সাথে রাতে অসম্পুর্ণ স্বপ্নটায় আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয়। অস্বস্তিকর ঝাকুনিতে বমি করে শক্ত হওয়া শিসদণ্ড, যেটাকে সঠিক সময় কাজে লাগাতে না পারলে কাপুরুষ বলা হয়। এভাবেই হয় দিনের শুরু, জ্যাম উপেক্ষা করতে হলে ভোর বেলাতেই বের হওয়া ভালো। ততক্ষণে আলোকিত হয়েছে চারপাশ, নতুন দিনের উত্থান গড়িয়ে উপসংহারের পরিণতির উপখ্যান। বৃহস্পতিবার! হোটলে ঢুকে গরম গরম বাসি তেলের পরোটা খাওয়ার সাথে সাথে মোবাইলের ক্যালেন্ডারে তারিখটা চোখ বুলিয়ে নেয় একবার। আগামীকাল তাহলে পাহাড়া দেওয়ার দিন। নারীকন্ঠের আওয়াজ পেতেই, পরোটা মুখে দিয়ে পেছনে ফিরে তাকায় শাহিন। চোখ বুলিয় নেয় মেয়েটার সারা শরীরে, মেয়েটির চোখে চোখ পড়তেই ক্ষাণিক বিড়ম্ব হয়ে আবারো পরোটা চাবানোয় মুখ দেয়। ক্ষাণিক বাদে আবারো তাকিয়ে দেখে মেয়েটির বক্ষ বৃক্ষে! কি অদ্ভুত জাগতিক বাসনা তাকে ঘিরে ধরে মুহুর্তে, তার পৌরষবোধ সত্ত্বা জেগে ওঠে৷ ঠিক তখনই রাস্তা দিয়ে বিরক্তির হর্ণ বাজিয়ে একটা বাস বেরিয়ে যায়। উত্থান হওয়া অপ্রাপ্তির কল্পনার অবসান ঘটে এখানেই।




৩.
অফিসে ঢোকার সাথে সাথে বসের রুমে ডাক পড়ে তার। নাহিদা ম্যাম, ভীষণ কাটখোট্টা একজন মানুষ হলেও তার রূপের গাঙের বাণের জলে মুগ্ধতায় তার দিকে কিছুক্ষণ পর পর তাকিয়ে থাকে শাহিন।
‘আপনার গত মাসের রিপোর্টটা ভালো ছিলো, ওয়েল অ্যানালাইসিস। বাট ইউ হ্যাভ টু নো, হাউ ইউ ইপ্রেস ইওর ক্লাইন্ট’, মিষ্টি কন্ঠে ইংরেজীর সাথে সাথে ঠোটের নাচনির নগ্ন নৃত্য তার হৃদয়ে সমুদ্র সাফেন ঢেউয়ের বাণ আনে। নাহিদা ম্যাম অস্মভব কামুক একজন মহিলা, তার স্বামী কি তাকে পুরোপুরি সুখ দিতে পারে? ম্যাম কি সুখি? ম্যাডামের চোখের দিকে চোখ ফেলে শাহিন বলে, ওকে ম্যাম। আই হ্যাভ ইওর ইন্সপিরিশেন আই থিংক আই গ্রো আপ ফাস্ট।’
নাহিদা ম্যাডাম ক্ষাণিক হেসে বলে, ওয়েল। ইউ হ্যাভ টু গো নাও। ভালো মতন কাজ করুন। বেস্ট অফ লাক। শেষ বার নাহিদা ম্যাডামের রুম থেকে বেরোনার আগেতার শরীরের দিকে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয় শাহিন। নিজের চেয়ারে গিয়ে বসতেই নিজের উথিত পৌরষত্বের প্রতিক যেন বিক্ষোভের আন্দোলনে জাগ্রত হয়ে ওঠে। এ বয়সে এসব কমন ব্যাপার ! অদ্ভুত অকারণে উড়িয়ে দেয়া যায়।



শুক্রবার একটু দেড়িতেই ঘুম ভাঙে শাহিনের। দেড়িতে ঘুম ভাঙার কারণে, ক্ষাণিকটা আফসোস হয় তার। সকালের কাজের মহিলাও আজ আসেনি। অবশ্য এবারের কাজের মহিলাটার ফিগারও বেশ। একবার একজনকে প্রস্তাব দিয়ে ক্ষাণিক বিড়ম্বনায় পড়েছিলো শাহিন। ‘আমার দুটো ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আছে, এইসব আমার দ্বারা হইত না ভাইয়া। আফনে বিয়া করেন ভাইয়া। আপনার যৌবনের তাড়না উঠছে।’ এরপর থেকে আর সেই মহিলা আসেনি। বাড়ি ওয়ালার দিকে দেখা হলেই শাহিনের দিকে সে কেমন কৌতুহলী হয়ে তাকাতো, যেন শাহিনকে যতটা ভালোভেবে ঘর ভাড়া দিয়েছিলো ঠিক যেন আশাহুত হলো। শাহিনকে সে এলাকা ছাড়তে হয়েছিলো মাসখানেক বাদেই। একদিন সন্ধ্যে বেলায়, “একটি রিকশা তার সামনে এসে দাঁড়ায়, আমার বউরে কু প্রস্তাব দেস খানকির পুত? এক্কেবারে জায়গায় বেরেক কইরা দিমু।’ রিকশাওয়ালার কথায় ক্ষাণিক আহত হয়ে চারপাশে তাকিয়ে বিব্রত অবস্থায় হাটা শুরু করে। এর মাস খানেক যেতে না যেতেই শাহিনের পৌরষত্ব নাড়া দিয়ে ওঠে!



শুক্রবার সারাদিন মেয়েটিকে ব্যালকনিতে না দেখতে পেয়ে আশাহত হয়ে, সিগারেট ধরিয়ে ফুরফুর করে ধোয়া ছাড়ে শাহিন৷ অদ্ভুত এক সম্মোহন কাজ করে তার শরীরে, ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে চোখ আটকে যায় বিথির প্রফাইল এর দিকে। বিয়ের পরে মেয়েদের শরীরে অদ্ভুত এক পরিবর্তন আসে। ডিভোর্সের পরে বিথির চেহারায় যেন ঠিক সেরকম পরিবর্তন এসেছে। বিথি শাহিনের অফিস কলিগ। দীর্ঘদিন তারা পাশাপাশি ডেস্কে কাজ করেছে। বিয়েরপর বিথি অসম্ভব রকমের নির্যাতন হতো, অফিসে এসে সারাদিন গোমরা মুখে বসে থাকতো। শাহিনের সাথে অবশ্য বিথির খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছিলো, সম্পর্ক গড়ায় প্রণয়ে! একদিন রেস্টুরেন্টের বিশেষ টেবিলে তিথিকে কাছে টেনে ঠোটে ঠোট যখন মেলাতে যাবে ঠিক তখনই তিথির হাত চলে যায় শাহিনের উত্থিত দন্ডে,শাহিনের হাত যায় তিথির সুডৌল পাহাড়ে! শাহিন ভীষণ কামুক হয়ে তিথিকে যেই কাছে জড়াতে যাবে ঠিক তখনই ওয়েটার এসে তাদেরকে এ অবস্থায় দেখে বিপরীত দিকে ফিরতেই তার হাতে বেধে একটা গ্লাস ভেঙে যায়। তারা দুজনই চমকিত হয়ে, লজ্জা বোধে কাতর হয়ে যায়৷ তিথিকে তারপর থেকে কখনো কাছে পায়নি শাহিন! বিথি সেদিনের পর থেকে শাহিনকে এড়িয়ে চলে, এখানেই ঘটে এক কামুকতার গল্পের অর্ধাংশের পরিণতি। বিথির ডিভোর্সের পরে, আমেরিকায় চলে গিয়েছে বেশ কদিন হলো৷ বিথির কামুক শরীরের তেজি গন্ধ নাকে ভেসে উঠলেই শাহিনের কামুকতা জেগে ওঠে প্রবলভাবে। তিথির ছবি দেখতে দেখতে পুরোনো দিনের কথা এভাবেই জাবর কেটে নেয় শাহিন। সময় পাড় হয় অবশেষে ব্যালকনিতে আসা মেয়েটিকে দেখতে পায় শাহিন। মেয়েটি অসম্ভব লাস্যময়ী! ফোনে জুম করে বার কয়েক ছবি তুলে নেয় পরে নিজের একান্ত সময়ে দেখবে বলে।



৪.
কথায় আছে নারী, নেশা, তাস তিলে তিলে সর্বনাশ। তবে শুধু নেশা আর তাসকেই সর্বনাশ বাদে নারীকে সর্বনাশ ভাবার কোন উপায় নেই। পুরুষের ভোগ বিলাসের জন্য নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে’, এমনটাই ধারনা শাহিনের। শাহিন বহুবার বহু নারীর কাছে হেরেছে। তবুও সে হাল ছাড়েনি, বিয়ের বয়স পড়ে যাচ্ছে । ঠিক কি কারণে শাহিন বিয়ে করছে না? অদ্ভুত কারণে! এসব কথা ভাবলে তার গা গুলিয়ে আসে, পেটের তলায় অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করে সারা শরীর জুড়ে বয় অস্বস্তি।

একবার বাড়িতে ফেরার সময় এক পতিতালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো তার। অসম্ভব লাস্যময়ী সেই যৌনকর্মীর বয়স ২৫-৩০ এর কাছাকাছি। মেয়েদের জীবনে দুটি সময়ে দেহের ফুল জন্মায়, প্রথমটি বয়সন্ধিতে আর দ্বিতীয়টি যৌবে! এমন কথা হয়ত কখনো কোন মণিঋষি বলেছিলেন। সেই পতিতাপাড়ার মেয়েটির নাম ছিলো লাবণ্য! তার চেহারার যেমন রূপ, সেরকম তার কথাতেও ধার।
‘শুনেন মিয়া ভাই! আফনারা শহরের মানুষ এইখানে আসেন দেহের জ্বালা মিটাইতে। কোন প্যারেশান হওয়ার দরকার নাই। আপনার হাতে সময় আছে, কিন্তু আমার হাতে সময় নাই, আমার দরকার টাকা। হেইডা আসা করি আফনে বুঝবার পারছেন?




শাহিন সারা মাসেরবেতন নিয়ে এসেছে। তার সাথে বোনাসের টাকাও আছে। যৌনতার বিধ্বংসী নেশায় সে ক্ষাণিক ভেবে মাথা নাড়ায়, আমার কোন অসুবিধা নেই। এরপর তারা ঘন্টা প্রতি চুক্তিতে যায়। ঘন্টা প্রতি দু হাজার টাকা। এমন এক খদ্দের পেয়ে লাবণ্যও বেশ আনন্দিত হয়ে বলে,

-আফনে কি এখনই কামে লাইগা পড়বার চান?
-তোমার সাথে ক্ষাণিক গল্প করি, ‘উত্তর দেয় শাহিন।
-আফনে করবার পারেন আমার অসুবিধা নাই।

মেয়েটির পড়নে সাদা স্যালোয়ার কামিজ, উত্থিত যৌবনের অর্ধেকটা ফুটে উঠেছে মেয়েটির বুকে, চোখে কৃত্রিম পাপড়িগুলো তাকে অসম্ভব সুন্দরী করে তুলেছে। আর ঠোটে লাল লিপস্টিকের আর্টে পুরুষের ভেতরের ক্যানভাসের রঙতুলি একটু হলেও নাড়া দিয়ে উঠবে। আধশোয়া অবস্থায় গল্প করার একপর্যায়ে শাহিন মেয়েটির কানের পাশে পড়ে থাকা চুলগুলোকে কানের ফাঁকে গুজে দিতেই মেয়েটি অদ্ভুত এক শব্দ করে লম্বা এক নিশ্বাস নেয়, সেই নিশ্বাসের উত্থান-পতনে তার সারা দেহ দুলে উঠে। এবার শাহিন নড়ে চড়ে বসে, ডিম লাইটের মৃদু আলোতে চলে দুটো শরীরের জন্মান্তরের অঘোর পাপ।

[আসছে নতুন গল্প।পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন]

একটি নষ্ট গল্প

যে পাপের সুখে তারা দুজনই, একে অন্যের শরীরকে নিজের করে নিতে চায়। নারীদেহের ঢেউয়ের দোলের সাথে নিজের শরীর ঠিক রেখে তালে তালে নৌকা বায় শাহিন। দুজনের হাত চলে যায় দুজনার প্রাপ্ত সুখের অস্বেদন মোহনায়, যেখানে কখনো ঘন বর্ষায় নামে ঢাল, অথবা উত্তেজিত সাঁপের মতো ফোঁস ফোঁস করে ওঠে জন্মান্তরেরে এক সুখকর মুর্ছনায়! এভাবেই এগোয় দেহের দেউরির ঝড় বাতাসে ঘণ নিশ্বাসের এক অদ্ভুত সুখকর ঝড়। মেয়েটি উত্তেজিত হয়েছে অথবা অর্থের তাড়নায় নিজের দেহের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে নেমেছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কোন সিনেমার এক ঢোকগেলা সিকোয়েন্সে। এভাবেই এগোয় তাদের কাব্যপট। বাইরের রাস্তা থেকে আসা মানুষের শব্দ, রিক্সার টুংটাং আওয়াজ কিছুই যেন কানে পৌছায় না তাদের। তারা হারিয়ে যায় পৃথিবীর এক অপার্থিব সময়। যে সময় মানুষ জন্মের দৌড় শুরু করে। কেউ কেউ এখানেই হেরে যায়, যারা জন্মে তারাই হয়ত মানুষ হয় শারিরিক গঠনে। কেউ হয় পুরুষ, কেউ হয় নারী।



ঠিক ক্ষাণিক বাদেই অট্টহাসির শব্দ। ‘তুই তো খেলা শুরু করার আগেই হাইরা গেলি মাঙ্গির পুত’ শাহিনের বাধভাঙা উজানে হঠাৎ করেই ভাটা পড়ে। এত কম সময়? নিজের বউকে টিকায়া রাখতে পারবি তো? শাহিন এখন পর্যন্ত বিয়ে করেনি অতএব তার বউকে টিকিয়ে রাখার কোন প্রশ্নই আসে না।

মেয়েটি উঠে আলো জ্বালায়, আলোতে নিজেকে অর্ধ-নগ্ন অবস্থায় দেখে শাহিন ক্ষাণিকটা লজ্জা পেয়ে নিজের পড়নের কাপড় গুলো পড়ে নেয়। ‘কি রে! প্যান্ট পড়লি কেন? লজ্জা করে? হা হা হা! অট্টো হাসিতে হেসে ফেলে মেয়েটি। এরপর চুলগুলো বেঁধে লাইট নিভিয়ে আবারো মেয়েটি এগিয়ে আসে শাহিনের দিকে।

শাহিনের কাছাকাছি এসে কানে ফিসফিস করে বলে, তুই যে পুরুষ! সেইটার প্রমাণ দিবি চল।মেয়েটি আরেক কিস্তি শাহিনকে বাগিয়ে নেয়ার ধান্দায় সম্পুর্ণ উলঙ্গ হয়, পৃথিবীর সব ফুলেদেরও একসময় লজ্জাহীন হতে হয়, ফোটার সাথে সাথেই তাদেরকে কেউ না কেউ গ্রহণ করতে যায় তারা কামুক বলে। মেয়েটির গা থেকে অদ্ভুত এক মায়া জড়ানো গন্ধ বেরোতে থাকে, যে গন্ধে মিশে থাকে অদ্ভুত কোন মায়া। যে মায়ার টানেই পুরুষ সর্বনাশে পরে একবার দু বার বার বার!

সে রাতে বেশ কয়েকবার লাবণ্যের কাছে হেরেছে শাহিন। পতিতালয় থেকে বের হয়ে তার পকেটে ছিলো শুধু বাড়ি ফিরবার টাকা, একটা সিগারেট কিনে রাস্তা দিয়ে হাটতে হাটতে ফুড়ফুড় করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে শাহিনভাবে, ‘এখানে আসাটাই তার কাছে পাপ হয়েছে, অবশ্য পাপ করার পরে সব মানুষই ভাবে সে সব কথা’



৫.
‘আপনি ব্যালকনি থেকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন?’ কেন ?’ মেয়েটির ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নে শাহিন ক্ষাণিকটা আহত হয় শাহিন। শাহিনের বিধ্বস্ত চেহারা তাকিয়ে মেয়েটি হাসি লুকিয়ে রাখতে পারে না। শাহিন মাথা উচু করে জবাব দিতে যাবে এমন সময় মেয়েটির হাসি দেখে ক্ষাণিকটা স্বস্তি ফিরে পায়। প্রশ্নের বাণে এবার ক্ষাণিকটা স্রোত এনে শাহিন জবাব দেয়,’ আপনাকে বেশ কয়েকরাতে ব্যালকনিতে দেখে আমি ক্ষাণিকটা কৌতুহলী হয়ে আপনাকে ফলো করি! আপনি গভীর রাতেও ব্যালকনিতে একা একা এসে বসে থাকেন। মেয়েটি এবারক্ষাণিকটা কঠিন গলায় বলে, ‘তাই বলে আমাকে আপনার চোখে চোখে রাখতে হবে?; প্রশ্নটা ঠিক কঠিন হয়ে ওঠে না।

এরপর আলাপচারিতায় দুজনার কথা এগোয় অনেকদূর। মেয়েটি যে শাহিনের ওপর দূর্বল হয়ে আছে তা বুঝতে পেরেই শাহিন সুযোগ নিতে ভোলে না এভাবেই এগোয় একটি প্রণয়ের নতুন প্রেমের কাব্যপটে। বসন্তের বিকেল বেলা, চারদিকে মিষ্টি ফুলের গন্ধে শাহিন মেয়েটিকে প্রস্তাব দেয় ভালোবাসারা! মেয়েটিও তাতে রাজি হয়ে যায় কোন বিলম্ব না করে। আজকালকার মেয়েদের একটি স্বভাব আছে, তারা বার বার ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে ধোকা খায় বলেই, গোটা পুরুষজাতিকেই তারা একরকম ভেবে বসে। মেয়েটির নাম নীলিমা। নীলিমা কি জেনে শুনেই একজন ভুল মানুষের প্রেমে পড়োলো? এসব ভাবতে ভাবতেই তাদের প্রণয়ের ব্যপ্তি গড়ায় বছর খানেক।




পরের বছর বসন্তের কথা, চারদিকে মিষ্টতা। সেদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নীলিমার আজ দারুণ খুশি লাগছে অদ্ভুত কোন কারণে। শাহিনের ওৎপেতে থাকা জন্মান্তরের ক্ষুধা আজ প্রবলভাবে জেগে উঠেছে, আজই সময়। যেসব দিনে নীলিমাকে নিয়ে অদ্ভুত আলিঙ্গনের গল্প ফেঁদেছে সেসবকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে।

শাহিনের ফাঁদ নীলিমা পা দেয়, কোন আকাশ পাতাল কল্পনা না করেই। এভাবেই এগোয় তাদের প্রণয়ের নতুন রূপ। শাহিন যখন নিজের পুরোটা নীলিমাকে ঢেলে দিতে যাবে ঠিক তখনই অদ্ভুত এক বিক্ষোভ এসে বাসা বাঁধে নীলিমার শরীর জুড়ে। সম্মোহনের বশ থেকে বেরিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সে। শাহিন নিজের পৌরষ্য ক্ষুধা দমিয়ে রাখতে না পেরে মেয়েটির সাথে জোড়াজুড়ি করে। ঠিক তখনই নীলিমা বাঁধা দেয়, এ বাঁধায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শাহিনের তেজী শরীর। শাহিন ভেবে বসেছে, মেয়েটি তাকে ইচ্ছে করেই তার ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য বাঁধা নিচ্ছে। ঘন নিশ্বাসের সিম্ফনি খেলা করে অন্ধকারচ্ছন্ন কামরায়। এর সমাপ্তি হয়ে একটি রক্তাক্ত, ফুলের মৃত্যুতে। চাঁপা শীৎকার! রক্তের স্রোত বয়ে যায় বিছানায়, শাহিনের আজ ভীষণ আনন্দ লাগছে। সেই আনন্দের গভীরতায় বুঁদ হয়ে সে খেয়ালই করতে পারে না মেয়েটির শরীর এতক্ষণে নিথর হয়ে গিয়েছে। সে হয়েছে খুনী!




শাহিন যখন তা উপলব্ধি করলো তখন তার আর কিছু করার নেই। মাথায় আসে এলোপাথাড়ি চিন্তা। পাগলের মতো ছুটে বেড়ায়, মেয়েটির নিথর শরীরে বার কয়েক নাড়া দেয়। নিথর দেহ নেড়ে উঠলেও, মেয়েটি চুপ করে রয় জন্মান্তরের মত। মৃত নারীদেহের দিকে চেয়ে লোভ সামলাতে না পেরে আরো বার কয়েক হত্যাযজ্ঞ চালায়, যেভাবে তার পৌষত্বের ক্ষুধায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলো মেয়েটি। এরপরো শাহিনের উত্থিত পৌরষত্ব যেন কোন ভাবেই মাথা নিচু করে দূর্বল হয়না, এরপর সময় গড়ায়, মৃতদেহ থেকে আসে বিশ্রি উটকো গন্ধ। যে শরীরের ঘ্রাণের মোহে নিজের জাগতিক চেতনা শক্তি হারিয়েছিলো শাহিন। সেই শরীরের উটকো গন্ধে এখন তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসছে। এখন কি করবে শাহিন? ভেবে পায় না। বেলা বাড়তেই, গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। লাশটিকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ফেলে রাখে।


এবার যৌনভ্রম কাটিয়ে জাগতিক সময়ে ফিরে আসে শাহিন। সে এসব কি করেছে? মানূষ হয়ে আরেকজন মানুষকে মেরে ফেলেছে? ক্ষোভ হয় নিজের প্রতি। তখনও নিজের উত্থিত লিঙ্গের দিকে তাকিয়ে এবার রাগ হয় ভীষণ, শেভিং ব্লেড দিয়ে এলো পাথারি ধ্বংসলীলা চলায় সে। রক্তক্ষরণের পরে ভীষণ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে কখন যে সে অচেতন হয়ে পরে তা জানা নেই তার। এরপর হয়ত শাহিনের ঘুম ভাঙবে নরকের সেই স্তরে যেখানে আত্মার লালসা অবিরামভাবে প্রস্ফুটিত এবং একটি হিংস্র ঝড়ের বাতাসে সর্পিল হয়..! যেখানে সেই সকল আত্মাদের একত্রিত করা হবে, যারা যৌনক্ষুধায় নিজের সত্ত্বাকে হারিয়ে ফেলেছিল। আমি কিংবা আপনিও কি সেই দলে আছেন?

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
ভোরের ডাকে

ভোরের ডাকে

সেকেন্দার আলি সেখ রাত গিয়েছে পাহাড় চূড়োয় দিন এসেছে ফিরে ফুল ফুটেছে ভোরের আলোয় সারা বাগান ঘিরে তাইতো মাঝি বৈঠা ঠেলে বাইছে দাঁড় দূরে l ...
নারী আটকায় কিসে?

নারী আটকায় কিসে?

আশিক মাহমুদ রিয়াদনারী পুরুষে আটকায় না, নারী আটকায় অর্থে, বিত্তে, শৌর্যে!নারী কখনোই পৌরষে আটকায় না নারী ছিড়ে, নাড়ি..জন্ম দেয় ফুল। প্রথম কান্নায়, প্রথম শব্দে মা ...
সাবধান! যেভাবে হ্যাক হতে পারে আপনার মূল্যবান তথ্য

সাবধান! যেভাবে হ্যাক হতে পারে আপনার মূল্যবান তথ্য

ছাইলিপি আর্টিকেল ডেস্ক বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে হ্যাকিংকে যতটা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার, আমরা অনেকেই তা করি না। হ্যাকিং! অর্থাৎ কোন কিছু চুরি ...
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসছে যৌথ বই "ইতিকথা"

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসছে যৌথ বই “ইতিকথা”

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসছে যৌথ বই “ইতিকথা”। লেখক ভারত ও বাংলাদেশের লেখকদের যৌথভাবে রচিত। ইতিকথা মূলত গল্পগ্রন্থ ধর্মী। এখানে রয়েছে বিভিন্ন লেখক এর বিভিন্ন গল্প। ...
অণুগল্প - বোহেমিয়ান

অণুগল্প – বোহেমিয়ান

তারেকুর রহমান বাহিরে একটু তাকিয়ে দেখ একটা ল্যাম্পপোস্ট ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। অথচ পৃথিবী ঘুমিয়ে, চারদিকে নিস্তব্ধতা। কিন্তু ঐ ল্যাম্পপোস্টটার দাঁড়িয়ে থাকায় একটুও ক্লান্তি নেই। আমি ...
শরৎচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায়  ও বাঙালী মুসলমান সমাজ

শরৎচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায়  ও বাঙালী মুসলমান সমাজ

মিরাজুল  হক  মানুষের  জীবনযাপনের   গতিপ্রকৃতি চলে আঁকা বাঁকা পথে । কেননা  আমাদের  চলার ধরন বহুমাত্রিক । হাঁটি হাঁটি পা পা করে ,  ঘরের চৌকাঠ ...