কালো গোলাপ 

|মুহাম্মদ ফারহান ইসলাম নীল

 

বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরেছি ঠিক বারোটার সময় ৷ যদিও ফেরার ইচ্ছা ছিলনা ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে ফিরতে হয়েছে ৷ চাইলে বাইরের খাবার খেতে পারতাম ৷ কিন্তু বাইরের খাবার আমার একদম পেটে হজম হয়না ৷ বাসায় ফিরেই মাকে বললাম খুব ক্ষুধা লাগছে খেতে দাও ৷ 

আমার মমতাময়ী মা একটু মেজাজ দেখিয়ে বললো , যে ছেলে এক টাকা আয় করতে পারেনা আমি সেই ছেলেকে ভাত দিতে পারবো না ৷ 

মায়ের কথা শুনে আমি বুকের মাঝ বরাবর আঘাত পেলাম ৷ 

মা এটা কি বলছে ? আমার বাবার এতো টাকা ,পয়সা থাকতে আমি কষ্ট করে টাকা আয় করতে যাবো কোন দুঃখে ? 

আমার মতো মাকেও ক্ষুধা লেগেছে নাকি ? তাই    এমন কর্কশ কথা বলছে ?

 

আমি আবার বললাম , কি হলো মা ভাত দিবে না ?

 

আমি কি বলেছি তোর কানে যায়নি ? যেদিন টাকা আয় করতে পারবি সেদিন ভাত খেতে আসবি ৷

 

বাবার এতো টাকা থাকতে আমি টাকা ইনকাম করবো কেন ?

আমাদের যতো সম্পদ আছে আজীবন আমরা তিনজন বসে খেলে তো ফুরাবেনা ৷ আর তুমি বলছো ইনকাম করতে ?

 

হুম বলছি ৷ আজীবন বাবার ঘাড়ে বসে বসে খাবি নাকি ? নিজে তো কিছু একটা কর ৷

 

হুম এবার ঠিক অাছে ৷ 

 

কি ঠিক আছে ?

 

এই যে বললে নিজে কিছু করতে ৷ বাবাকে বলবে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে ৷ আমি বিজনেস শুরু করবো ৷ 

 

তোর বাবা বলেছে এক টাকাও দিবে না ৷ নিজে চাকুরী করে টাকা ইনকাম করবি তারপর সেই টাকা দিয়ে বিজনেস করবি নাকি পুকুরের পানিতে ঢালবি তোর ব্যাপার ৷ আমরা তোকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই ৷

 

মা আমার ক্ষুধা লাগছে ৷ তুমি ভাত না দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বলছো ? যদিও না খেয়ে মরেই যাই তাহলে প্রতিষ্ঠিত হবো কিভাবে ?

 

একবেলা না খেয়ে থাকলে কেউ মরে না ৷ 

কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখিস ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা   একবেলা খেয়েই বেঁচে আছে ৷ তোর মতো ওরা তিনবেলা পোলাও , বিরিয়ানী খায় না ৷ ওরা কি মানুষ না ? ওরা কি বেঁচে নেই ?

 

মায়ের কথা বার্তা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে ৷ ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারলাম না ৷ মা তো এর আগে কখনো এমন কথা বলেনি ৷ আজ হঠাৎ বস্তির ছেলেদের না খেয়ে থাকার কথা বলছে কেন ? নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে ৷

 

মা সত্যি করে বলো তো তোমার কি হয়েছে ? হঠাৎ  কমলাপুর স্টেশনের ছোট্ট পিচ্ছিদের কথা বললে যে ?

 

মায়ের চোখে অশ্রু চলে এলো ৷ মায়ের চোখে পানি দেখে আমিও কেঁদে ফেললাম ৷ 

মা অার আমি কাঁদছি ৷ মা কেন কাঁদছে জানিনা ৷ আমি কাঁদছি মায়ের চোখের জল দেখে ৷ 

মা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে বললো , একটু আগে টিভিতে দেখলাম কমলাপুর স্টেশনে পড়ে থাকা ছোট্ট বাচ্চা গুলো ক্ষুধার জ্বালায় বাসি , পঁচা খাবার খুলো ডাস্টবিন থেকে নিয়ে খাচ্ছে ৷ 

আচ্ছা রনি বলতে পারিস ওদের কি অপরাধ ছিল ? ওরা কেন এভাবে স্টেশনে পড়ে থাকে ? কেন পঁচা খাবার খায় ? ওদের কি ভালো খাবার খেতে ইচ্ছা করে না ?

 

আমি কি বলে সান্তনা দিবো বুঝতে পারলাম না ৷ শুধু এতোটুকুই বললাম , মা ওদের অধিকার বঞ্চিত দূর্বল মানুষ ৷ আমরা কেড়ে নিয়েছি ওদের ভাগের খাবার তাই ওরা না খেয়ে দিন কাটায় ৷

এখন চলো তোমার ছেলেকে বাঁচাও ৷ নইলে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে মরে যাবো ৷

 

মা বললো ফ্রেশ হয়ে আয় ৷ আমি ভাত দিচ্ছি ৷

 

আমি দৌড়ে ওয়াশরুমে গেলাম ৷ দুই মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে চলে এলাম মায়ের কাছে ৷

 

রুই মাছের মাথা দিয়ে মা প্লেট ভর্তি করে রেখেছে ৷

 

মা এতো বড় মাথা কিভাবে খাবো ? তুমি অর্ধেক নাও ৷

 

তোকে দিয়েছি তুই খা ৷ 

আর কিছু একটা করার চিন্তা ভাবনা কর ৷

জানিস আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের নাদিয়া মেয়েটা বাসায় থেকেই মাসে অনেক টাকা ইনকাম করে ৷ নিজের সংসার চালায় এবং ওর ছোট দুই ভাইকে লেখাপড়া করায় ৷

 

পাশের ফ্ল্যাটের নাদিয়া মানে ? 

 

ও তুই চিনবি না ৷ 

 

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকে আমি চিনি না তাহলে তুমি চিনলে কিভাবে ? 

 

মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় অাসে ৷ আমার সাথে গল্প করে ৷ 

 

বাহ ভালোই তো ৷ 

 

হুম , মেয়েটা খুবই লক্ষী ৷ ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে নাদিয়া নিজে ইনকাম করে সংসার চালায় ৷ 

 

ওর বাবা মারা গেছে এটাও জানো ?

 

বললাম না মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় এসে আমার সাথে গল্প করে ৷ 

 

আমি তখন কোথায় থাকি ?

 

তোর কি বাসায় মন থাকে নাকি ? তুই তো বাজপাখির মতো উড়তে থাকিস তোর বদমাইশ বন্ধুদের সাথে ৷

 

খবরদার মা , আমার বন্ধুদের গালি দিবে না ৷ আমার বন্ধুরা অাছে বলেই তোমার ছেলে আজও বেকার ৷ বাবার হোটেলে খাচ্ছে আর ওদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে ৷

 

ঐ বদমাইশ গুলো তো তোকে খারাপ বানাইছে ৷

কাল সকালে বাসায় থাকিস নাদিয়াকে ডেকে আনবো ৷ ওর পা ধোয়া পানি খাওয়াবো দেখবি তোর বেকারত্ব ঘুচবে ৷

 

ছি !  মা ছি ! তুমি এসব কি বলছো ? আমি কিছু করিনা বলেই তুমি এমন কথা বলবে ?

একটা অপরিচিত মেয়ের পা ধোয়া পানি খাওয়াবে ?

তুমি এটা বলতে পারতে তোমার পা ধোয়া পানি ৷ আমি মেনে নিতাম কিন্তু একটা অচেনা মেয়ের পা ধোয়া পানি ? ছি ! ছি ! ছি !

 

তুই জানিস নাদিয়া কতটা সুন্দরী এবং লক্ষী মেয়ে ? 

 

আমার জানা লাগবেনা ৷ অার জানার আগ্রহ নেই ৷

 

তোর চেয়ে নাদিয়াই ভালো ৷ ইশ্ নাদিয়ার মতো আমার একটা মেয়ে থাকলে ভালোই হতো ৷

 

যাও তাহলে নাদিয়াকে মেয়ে বানিয়ে নাও ৷

 

পারলে তো নিতাম ৷

 

আমার অার সহ্য হচ্ছে না ৷ মায়ের মুখে একটি অচেনা মেয়ের নাম বারবার শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা হয়ে গেল ৷ আমি ভাত খাওয় বাদ দিয়ে চলে গেলাম ৷ 

 

কে এই নাদিয়া ? বাসায় থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করে ? নিশ্চয়ই অনলাইনের কাজ করে ৷ নয়তো অনলাইনে মার্কেটিংয়ের কাজ করে ৷ 

অাজকাল অনেকেই এভাবে টাকা ইনকাম করছে ৷ 

কিন্তু আমার যে চাকুরী করতে ভালো লাগে না ৷ পুরুষ হয়ে অন্য পুরুষের কথা মতো কাজ করাকে আমার কাছে গোলামী করা মনে হয় ৷ আমার খুব ইচ্ছা বিজনেস করবো ৷ আমার বাবার তো টাকার অভাব নেই ৷ বাবার কাছে থেকে টাকা নিয়ে বিজনেস করবো ৷ 

 

মনের ভিতর শুধু নাদিয়া নামটি ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ আমাদের পাশের বাসায় থাকে অথচ অামি চিনি না এটা কেমন কথা ?

যাই হোক মা যেহুত বলেছে অাগামীকাল নাদিয়াকে ডেকে অানবে ৷ তখন দেখবো কে সেই নাদিয়া ? যার নাম মুখে নিতে নিতে মা ক্লান্ত হয়ে গেছে ৷

 

আমি বিছানায় শুয়েই ছিলাম ৷ মা আমার রুমে গিয়ে আমাকে ডেকে তুললো ৷ 

 

তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় নাস্তা করবি ৷

 

আমি বুঝতে পারলাম না মা এতো সকালে কেন আমাকে নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাকছে ?

এর আগে তো এভাবে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলেনি নাস্তা খেতে আয় ৷

আমি দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেছি এবং নিজেই নাস্তা খেতে গেছি ৷ আজ কি সূর্য উত্তর দিকে উঠলো নাকি ?

 

আমি ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে হতভম্ব হই ৷

ওমা একি কান্ড আসমানে চাঁদ কেন আমাদের বাসায় ৷ পৃথিবী উল্টে গেল নাকি ?

 

মা আমার দিকে তাকিয়ে বললো , রনি তোকে নাদিয়ার কথা বলছিলাম না ৷ ওর নাম নাদিয়া ৷ 

 

আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক বুঝানোর চেষ্টা করলাম ৷ চেয়ারে বসে নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে অাছি ৷ নাদিয়া নাস্তা খাচ্ছে মা ও নাস্তা খাচ্ছে ৷ আর আমি নাদিয়ার চাঁদ মুখের দিকে তাকিয়ে অাছি ৷ এর জন্যই তো বলি মা বারবার নাদিয়ার কথা বলে কেন ? 

আর কেনই বা নিজের ছেলের প্রশংসা না করে চাঁদ মুখওয়ালী নাদিয়ার কথা বলে ৷ 

অাসলেই নাদিয়ার রুপের প্রশংসা করা উচিৎ ৷ প্রশংসা করার মতোই নাদিয়ার রুপ ৷ হয়তো সৃষ্টিকর্তা নাদিয়াকে হুরপরীদের মতো করে সৃষ্টি করেছেন ৷

 

কি রে নাস্তা খাচ্ছিস না কেন ?

 

আমার ক্ষুধা নেই মা ৷ তুমি খাও ৷

 

মা হয়তো বুঝে ফেলেছে বিষয়টা ৷ তাই আমাকে ধমক দিয়ে বললো , নাস্তা খাবি না তো এখন থেকে যা ৷ নাদিয়াকে নাস্তা খেতে দে ৷ 

 

আমি থাকলে সমস্যা কি ? আমি কি তোমাদের ভাগের নাস্তা খেতে চাচ্ছি নাকি ?

 

নাস্তা খেলে খা নইলে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে থাক ৷

 

এখন আর ঘুম ধরবে না ৷ 

একটু বসে থাকি না ৷

 

মা অামাকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দিলো ৷ 

মায়ের কান্ড দেখে আমি অবাক হলাম এবং নাদিয়া  বললো , অান্টি রনি ভাইয়া থাকুক না কিছুক্ষন  ৷

 

ওমা নাদিয়া কথাও বলতে পারে ৷ একটা মেয়ে সবদিক থেকে এতো পারফেক্ট হয় কিভাবে ? নাদিয়া দেখতে যেমন সুন্দরী তেমনি ওর কন্ঠস্বরও মিষ্টি ৷ 

 

আমার আর থাকা হলো না ৷ আমি রুমে চলে গেলাম ৷ রুমের দরজা বন্ধ করে বালিশ দিয়ে মুখ ঢেকে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম ৷ খুব সকালে ঘুম ভাঙ্গলে পরে অার ঘুম অাসে না ৷ আমারও চোখে ঘুম না এসে অন্যকিছু এলো ৷ আমি সেই অন্যকিছুর মাঝে হারিয়ে গেলাম ৷

 

অাজকাল মায়ের মুখে নাদিয়ার নাম শুনতে শুনতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার যোগাড় হলো ৷ সব কিছুতেই মা নাদিয়ার উদাহরণ দিতো ৷ নাদিয়া এটা পারে ,ওটা পারে ৷ নাদিয়ার টাকায় সংসার চলে ৷ নাদিয়া ওর মাকে শাড়ি কিনে দেয় , এটা কিনে দেয় , ওটা কিনে দেয় , ঘোড়ার ডিমও কিনে দেয় ৷

 

মায়ের কথা শুনে মাঝে মাঝে মনে হয় মা অামাকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছে ৷ আর নাদিয়াকে পেটে ধরেছিল ৷

 

অামার মাথায় কিছুতেই ঢুকতেছিল না ৷ নাদিয়া কোনো চাকুরী না করেই কিভাবে সংসার চালায় ? নাদিয়ার সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে ৷ আমি নাদিয়ার সম্পর্কে জানার জন্য গোপনে গোয়েন্দাগিরি শুরু করলাম ৷

 

দীর্ঘ তিনমাস গোয়েন্দাগিরি করার পর আমি জানতে পারলাম নাদিয়া কল গার্ল ৷ দিনরাত ছেলেদের সাথে ফোনে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে এবং টাকা নেয় ৷ আর সেই টাকাতে ওদের সংসার চলে ৷ 

এই বিষয়টি জানার পর অামার মাথা ঘুরতেছিল ৷ নাদিয়ার মতো একটা সুন্দরী মেয়ে এমন কাজ করতে পারে ? অার কেনই বা এমন কাজ করে ? চাইলেই তো ভালো একটা জব করতে পারে ৷ নাদিয়া তাহলে জব না করে কল গার্ল হলো কেন ? 

 

ভাবলাম নাদিয়ার বাসায় বসে থেকে ইনকামের কথাটি মাকে বলে দিবো ৷ 

পরে ভাবলাম মা তো নাদিয়া সুন্দর মুখটা দেখে এতো প্রশংসা করেছে কিন্তু নাদিয়ার ভিতরের মনটা দেখেনি ৷ মা যদি নাদিয়া গোপন তথ্য জানতে পারে তাহলে মায়ের মন খারাপ হবে ৷ সেদিনের মতো কাঁন্না করবে ৷ তারচেয়ে বরং না বলাই ভালো ৷

 

এখন আমাকে জানতে হবে কেন নাদিয়া এই কল গার্ল হওয়ার পথ বেঁচে নিলো ?

 

মা তোর বোনের মেয়ে নাদিয়া কেমন অাছে ?

 

আমার বোনের মেয়ে মানে ?

 

হুম তোমার বোনেরই তো মেয়ে তাই না ?

 

তোকে কে বলেছে নাদিয়া অামার বোনের মেয়ে ?

 

মা সব কথা কি বলতে হয় নাকি ? কিছু কথা বুঝে নিতে হয় ৷

 

দেখ ফাজলামি করবি না ৷ মেয়েটা দেখতে শুনতে ভালো বলেই আমাদের বাসায় অাসে ৷ ও অাসে বলেই আমার অবসর সময়টা ভালো কাটে ৷ 

 

সেজন্যই তো বলছি নাদিয়ার মাকে তোমার বোন বানিয়ে নাও ৷ 

 

নিবো তো ৷ তাতে তোর কি ?

 

আমার কিচ্ছু না ৷ এখন কথা হলো তোমার বোনের মেয়ে কালকে আমাদের বাসায় অাসতে বলবে ৷ 

 

কেন ? 

 

তুমি না বলো নাদিয়া বাসায় থেকে টাকা ইনকাম করে ৷ ভাবছি এখন থেকে আমিও বাসা থেকে টাকা ইনকাম করবো ৷

 

হুম করবি , তো নাদিয়ার কি দরকার ? 

 

নাদিয়ার কাছে পরামর্শ নিবো এবং ওর পা ধোয়া পানি খাবো ৷

 

পা ধোয়া পানি খাবো শুনে মা খুব খুশি হয়েছে ৷ মনে হচ্ছে আজকে ঈদের দিন ৷

 

অাচ্ছা আগামীকাল আসতে বলবো ৷ 

 

নাদিয়া এবার তোমার সুন্দরী মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ডাইনীর রুপটা বের করে মাকে দেখাবো ৷

আর তুমি এতোটা সুন্দরী হওয়ার পরও কেন এমন কাজ করো ?

 

দেয়াল ঘড়িতে দশটা বেজে অাট মিনিট ৷ অামি আর মা ডাইনিং রুমে বসে নাদিয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছি ৷

 

মা তুমি নাদিয়াকে অাসতে বলোনি ?

 

হুম বলেছি তো ৷

 

তাহলে এখনো অাসতেছে না কেন ?

 

সময় হলেই অাসবে ৷ তুই এতো অধৈর্য হচ্ছিস কেন ?

 

অামি অার কথা বাড়ালাম না ৷ ঠিক দশটা বেজে পনেরো মিনিটে নাদিয়া এসে হাজির হলো ৷

 

স্যরি অান্টি একটু লেট হয়ে গেল ৷

 

মা মুচকি হেসে বললো অাচ্ছা ঠিক অাছে ৷ 

 

নাস্তা খেতে খেতে মা বললো , নাদিয়া তুমি বলেছিলে না মোবাইলে কাজ করে তুমি অনেক টাকা পাও ৷ তো রনিও ঐ রকম মোবাইলে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে চাচ্ছে ৷ তুমি যদি রনিকে একটু শিখিয়ে দিতে ৷

 

মায়ের কথা শুনে নাদিয়ার নাস্তা খাওয়া বন্ধ হলো ৷ ফর্সা মুখটাতে কালো মেঘের আগমন ঘটলো ৷ 

 

আমার বুঝতে বাকী রইলো না ৷ নাদিয়ার ভিতরে কি ঝড় শুরু হয়েছে ৷ কারণ মানুষ খাবার মুখে দিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারে না ৷ নাদিয়া ও মিথ্যা কথা বলতে পারেনি ৷ শুধু বললো , আচ্ছা অান্টি আমি রনি ভাইয়াকে শিখিয়ে দিবো ৷

 

নাদিয়ার কথা শুনে অামি একটু মুচকি হাসি দিলাম ৷ 

 

কি রে হাসছিস কেন ?

 

এমনি ৷ 

 

নাস্তা খাওয়া শেষ করে মা নাদিয়াকে বললো , এবার বলো নাদিয়া মোবাইলে কি কাজ করে টাকা ইনকাম করো ?

 

নাদিয়া ফর্সা মুখটাতে অন্ধকার নেমে এসেছে ৷ নাদিয়া কি বলবে হয়তো ভেবে পাচ্ছে না ৷ নাদিয়া নিজেকে সামলে নিয়ে বললো , অান্টি আমি যদি শুধু  রনি ভাইয়াকে মোবাইলের  জবটা সম্পর্কে বলি তাহলে সমস্যা হবে ?

 

না সমস্যা নেই ৷ যেহুত কাজটা রনি করবে তাই রনিকে বলো ৷

 

রনি ভাইয়া চলুন ছাদে গিয়ে গল্প করি এবং আমার জব সম্পর্কে অালাপ করি ৷

 

দুজনে ছাদে গেলাম ৷ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অাছি ৷ নাদিয়া চুপ করে অাছে ৷ আমিও চুপ করে অাছি ৷ 

 

অামার মনে হচ্ছে নাদিয়া সত্যিটা লুকিয়ে মিথ্যা কাহিনী বানাচ্ছে ৷ তাই চুপ করে আছে ৷ মিথ্যা কাহিনী বানানো হলে অামাকে বলবে ৷

 

কি হলো চুপ করে আছো যে তোমার মোবাইলের জব সম্পর্কে বলো ৷

 

ভাইয়া সত্যিটা বলবো নাকি মিথ্যাটা ?

 

যা সত্যি সেটাই বলবে ৷ আমার মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা কথা শোনা কোনোটাই ভালো লাগে না ৷ অতএব তুমি সত্যিটাই বলবে ৷ 

 

এবার নাদিয়া মুখ খুললো ৷ শুরু থেকে শেষ অব্দি সব ঘটনা হরহর করে বলে দিলো ৷ 

 অাসলে নাদিয়ার কল গার্ল হওয়ার পেছনের গল্পটি অজানাই থাক ৷ নাদিয়া শখ করে কল গার্ল হয়নি ৷ কল গার্ল হওয়ার কারণ হলো নাদিয়ার মুখোশধারী প্রেমিক রোহান ৷ 

ভালোবাসার নাম করে নাদিয়ার সবটুকু কেড়ে নিয়েছে ৷ ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে হরণ করেছে ফুলের মধু ৷ 

সবকিছু শেষ হওয়ার পর নাদিয়া শথপ করে ভালোবাসার ছলনা করে যে পুরুষ তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে সেও পুরুষের সাথে ভালোবাসার অভিনয় করে সবকিছু কেড়ে নিবে ৷  অামি আগে সাদা গোলাপ ছিলাম ৷ কিন্তু এখন কালো গোলাপ হয়ে গেছি ৷ আমি  মিষ্টি কথার যাদুতে মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলি ৷ কালো গোলাপ কখনো মানুষের মনে পবিত্র ভালোবাসার জন্ম দিতে পারেনা ৷ ঠিক আমিও পারিনা ৷ 

 

অামি নাদিয়ার কাছে জানতে চাই তুমি চাইলে ভালো জব করতে পারো ৷ করো না কেন ?

 

নাদিয়া বলে , একটি ভালো কোম্পানীতে জব নিয়েছিলাম ৷ কিন্তু সেখানেও বেশি দিন টিকতে পারিনি ৷ সেখানেই আমার সাথে ©©©  আমি নাদিয়ার মুখে হাত দেই ৷ আমি বুঝে নেই নাদিয়ার সাথে কি হয়েছে ৷ 

 

চাইলে তুমি বিয়ে করে নিজের জীবনটাকে সাজাতে পারো ৷

 

স্বামীকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছু নেই ৷ তাই বিয়ে করিনি ৷ আর বিয়ে করলে আমার বৃদ্ধ মা এবং ভাইদের কে দেখবে ৷ 

আমি চাইনা আমার মতো অপবিত্র মানুষের জীবনে ভালো কেউ আসুক ৷ 

আমি বাকী জীবনটা এভাবেই কাটাতে চাই ৷ এবং ঐ সব মুখোশধারী মানুষ গুলোকে লুটে খেতে চাই ৷ 

 

আমি কি বলে নাদিয়াকে সান্তনা দিবো আমার জানা নেই ৷ আমিও তো পুরুষ আমার মতো পুরুষই তো নাদিয়ার জীবনটাকে নরক বানিয়েছে ৷ নাদিয়া তো ইচ্ছা করে এই পাপের পথে আসেনি ৷ 

নাদিয়ার মায়াবী মুখটা দেখে খুব মায়া হচ্ছিল ৷ আবার খুব কষ্ট হচ্ছিলো ওর পুরোনো ইতিহাস শুনে ৷

 

আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল নাদিয়াকে বলে ফেলি , তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে ? 

 

কিন্ত আমার মনটা না বলে উঠলো ৷ কারণ নাদিয়ার চোখে পুরুষ মানেই মুখোশের আড়ালে হায়েনা ৷ নাদিয়া জেনে গেছে পুরুষ মানুষের অন্তরে পশুর বসবাস ৷ 

 

অান্টিকে এসব কথা বলবেন না প্লিজ ৷ অান্টি জানলে হয়তো মন খারাপ করবে ৷ অামাকে যতোটা ভালোবাসতো ঠিক ততোটাই ঘৃণা করবে ৷

ভাবছি আগামী মাসে এই বাসা ছেড়ে দিবো ৷ চলে যাবো দুরে কোথাও ৷ ভালো থাকবেন ভাইয়া ৷

 

আমি নাদিয়াকে কিচ্ছু বললাম না ৷ শুধু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝাতে চাইলাম ৷ নাদিয়া অামার পাশ দিয়ে চলে গেল ৷

 

আকাশটা এতো কালো কেন ? সাদা মেঘ গুলো কি তাহলে অপবিত্র প্রেমের স্পর্শে কালো হয়েছে ? নাকি পাপের খেলায় মেতেছিল ৷ 

এই শহরে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা বড়ই কঠিন ৷ সেটা নাদিয়া অামাকে শিক্ষা দিয়ে গেল ৷ 

আমি মানুষ হতে চাই মানুষ ৷

 

  

এই লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *