গাছবাড়ি | হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

গাছবাড়ি | হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

|হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

নিজেকে একটু ছড়িয়ে নিয়ে থাকবে বলে বিনয় মোড় থেকে বেশ খানিকটা হেঁটে গিয়ে একটা জায়গা বেছেছিল। চারপাশ বেশ চুপচাপ। একসঙ্গে দু’বিঘে কিনেছিল বলে দামেও একটু কম হয়েছিল। পরমার সঙ্গে কথাই হয়েছিল বিনয়ের বাড়ি করার জন্যে সে পাবে মাত্র দু’কাটা। আসলে বিনয়ের লক্ষ্য গাছ আর পরমার বাড়ি।

পরমা যখন বাড়ির ভিত দেখতো, সেইসময় বিনয় দুটো গাছের মধ্যে কতখানি ফাঁক থাকবে সেই নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। এইভাবেই কয়েক বছরের মধ্যে গাছের মিছিলে এসে দাঁড়িয়েছিল নিঃসন্তান পরমা আর বিনয়।

আজ মহালয়ার ভোরে গাছবাড়ি-র বাগানে বসে দুজনে চেনা সুর আর কথায় গুনগুন করছিল। বাবার কথা মনে পড়ল বিনয়ের। রেডিও ছিল না। চাদরটা মাথায় ঢাকা দিয়ে গলায় বেঁধে দিতো বাবা। তারপর মাটির দুয়ারে এসে বসতো বাবা মায়ের সঙ্গে।

দিগন্ত থেকে চোখ সরিয়ে বিনয় বাড়িটার দিকে তাকাল। অসংখ্য গাছের মাঝখানে দু’কামরার ছোট্ট একটা বাড়ি। চারপাশের গাছগুলো যেন চারদিক থেকে বাড়িটাকে আগলে রেখেছে। বিনয় সেদিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “দ্যাখো পরমা, গাছগুলো যেন সরে গিয়ে আমাদের একটু জায়গা করে দিয়েছে। আমরা ওদের আশ্রিত।”

—– “তুমি যাই বলো এতো জঙ্গল আমার ভালো লাগে না। বাইরে থেকে বাড়িটা দেখাই যায় না !”

—– “আমি তো এটাই চেয়েছিলাম পরমা। তুমি যাকে জঙ্গল বলছ, ওরাই তো আমাদের পিতা। তুমি যতদিন এটা রক্ত দিয়ে বিশ্বাস করবে ততদিন তোমার অহংকারের মাথা কোনোদিন সোজা হয়ে দাঁড়াবে না। আসলে কি জানো পরমা, কোনো কোনো জায়গায় মাথা নিচু করলে মাথা ভালো থাকে।”

পরমার মনে পড়ল, তারা দুই ভাই বোন তখন কলেজে পড়ে। সেইসময় বাবা দাদুর কাছে গেলে বাবাকে মনে হতো স্কুল পড়ুয়া। গলার স্বরও কেমন বদলে যেত। গাছবাড়িতে বসে পরমার মনে হলো, তার মানুষটাও অনেকখানি বদলে গেছে।

 

 

  হুগলী ,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ ।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
সুখ ও অসুখ

সুখ ও অসুখ

বিরহের কবিতা – মিলন চক্রবর্ত্তী   যে কালের গতিতে তুমি ছিলে ধাবমান স্পিড ব্রেকারটাকে নিজে থেকেই বাদ দিয়েছিলে। আজকে হোঁচট খেয়েছো, সংক্রমিত করেছো তোমার চেতনাকে। ...
কবিতা : ধুয়ে গেছে জ্যৈষ্ঠের ক্ষত

কবিতা : ধুয়ে গেছে জ্যৈষ্ঠের ক্ষত

অনঞ্জন কী যে নিকষা কী নিকষ!শ্রাবণের কেন এত রূপ?মধ্যরাত্রিতে বর্ষার রূপমত্ত ঝংকারে দেখ-দস্যুর মতো বেপরোয়া দুর্দান্ত নারীরখোলা ওই রূপের বৈভব,উৎসব যেন, করে অসহায়।তারপর-ঘোর বৃষ্টিপাতে ধুয়ে ...
প্রেমান্ধপাখি

প্রেমান্ধপাখি

সবুজ আহমেদ  ফেরারি পাখি ব্যথায় ভুলে গেছে ফেরার পথ- আলো প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্রে নেমেছে ঘোর অমানিশা সুযোগে বয়ে যাওয়া নদীতে শিকারি মেরেছে শলা মনের মগডালে বসে ...
আড়ালে

আড়ালে

জোবায়ের রাজু কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমরা সালাউদ্দিনকে যেমন ‘ছালু’ নামে ডাকি, তেমনি কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমাদের সংসারে ছালু কেমন জানি অবহেলার পাত্র হয়ে ...
হাত

হাত

সুজিত রেজ   এই হাত নীরার মুখ ছুঁতে পারে না এই হাত শুধু পীড়া দেয় পীড়া— অনন্ত যন্ত্রণা  এই হাত অন্ধকার লুফে নেয় আরও গভীর ...
 চোখে নামে বৃষ্টি 

 চোখে নামে বৃষ্টি 

জোবায়ের রাজু  পার্কের সবুজ ঘাসের গালিচায় দেড় ঘন্টা ধরে লিমার অপেক্ষায় বসে আছে নোমান। এই দেড় ঘন্টায় ফোনে বেশ ক’বার ওদের কথাও হয়েছে। অপেক্ষায় অস্থির ...