ছোটগল্প- বিশ্বাস

আসিফ আফনান পিয়াল

“আব্বা মোগো গরু কেনবা না এবার?”
ছেলে রাকিবের প্রশ্নে নিরব তরিকুল! কেননা এই প্রশ্নের উত্তর যে জানা নেই কেয়ারটেকার তরিকুলের। কিনবেই বা কি করে, একেই কেয়ারটেকারের চাকরিতে কতই বা আর বেতন, তার উপর এই মহামারীতে ছুটা কাজও বন্ধ!
এমন সময় তরিকুলের মোবাইলে কল আসে তার মালিক ইমনের। অল্প বয়সেই শিল্পপতি হিসেবে দারুন নাম করেছেন ইমন সাহেব। ইমন সাহেব তরিকুলকে কল করে গরুর হাটে আসতে বললেন।
তরিকুল বের হতে যাবে এমন সময় রাকিবের ডাক, “আব্বা কই যাও?”
“মালিকে ফোন দেছে, হাটে যাওন লাগব!”
“আব্বা মুইও যামু!”
“নারে বাপ, তোর যাইয়া কাম নাই!”
“না আব্বা মুই যামুই!”
অবশেষে তরিকুল তার ছয় বছর বয়সী ছেলে রাকিবের পীড়াপীড়িতে রাজি হলো তাকে হাটে নিতে।

এবার হাটের সবচেয়ে বড় গরুটা কিনছে ইমন সাহেব। হাট থেকে বের হওয়ার পথে একটা ছাগল দেখে চোখ আটকে যায় রাকিবের। অসম্ভব সুন্দর লাগে ওর ছাগলটিকে! বাবাকে বলে, ” ছাগলডা কি সুন্দার আব্বা, এইডা কিইন্যা দেও!”
তরিকুল ব্যাপারিকে ছাগলের দাম জিজ্ঞেস করে, দাম শুনে আশাহত হয়! পরে রাকিবকে বলে,” এডা ভাল না বাপজান! পরেরবার আমরা ভালো এট্টা ছাগল কিনমু!”
এমন সময় ইমন সাহেবের ডাক, “তরিকুল তুই বাসায় নিয়া যা গরু, আমি একটু পর আসতেছি!”
তরিকুল মাথা নেড়ে জবাব দেয়।

ছেলেকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে মালিকের বাড়িতে গরু নিয়ে যায় তরিকুল! গরু ভালোমত বেঁধে বাড়িতে ফেরার পথে তরিকুলের মনে ভাবনার উদয় হয়, সে কি মালিককে বলবে ছাগলের কথা? মালিক কি তাকে টাকা দিবে?
এমন ভাবতে ভাবতেই ইমন সাহেবের গাড়ি এসে পৌঁছিল।
ইমন সাহেব গাড়ি থেকে নেমে তরিকুলকে জিজ্ঞেস করলেন,” কি রে এখনো বাড়িতে গেলি না?”
তরিকুল বলে, “স্যার! আমারে হাজার দশেক টাকা দেবেন? এট্যা ছাগল কিনতাম, পোলাডার এট্টা ছাগল খুব পছন্দ হইছে!”
” নাহ! টাকা নাই! তুই বাড়িতে যা, কালকে সকাল সকালেই চলে আসবি!”
তরিকুল চলে আসে, তার চোখের কোণে অজান্তেই জল জমে উঠে! বাড়ির সামনে আসতেই ছাগলের ‘ভ্যা ভ্যা’ ডাক শুনতে পায় তরিকুল! ভিতরে ঢুকতেই তার চক্ষু ছানাভরা! দৌড়ে এসে রাকিব জড়িয়ে ধরে বলে, ” আব্বা তুমি ছাগলডা কিইন্যা আনছ? আব্বা তুমি অনেক ভালো আব্বা! মোগোও কোরবানি হবে!”
তরিকুল জানেনা ছাগল কোথা থেকে আসল, জানতেও চায় না সে! কারন তার দৃঢ় বিশ্বাস এটা তার মালিকেরই কাজ! এমন সময় ইমন সাহেবের ফোন, ” তরিকুল, কালকে কোরবানি দিয়ে মাংস নিয়ে আমার বাসায় আসিস! একসঙ্গে দুপুরে খাবো!” বলেই ফোন কেটে দেয় ইমন! কলিজাটা ভিজে উঠে তরিকুলের, এমনও মানুষ হয়?
-হয় তো!

 

পিরোজপুর, বরিশাল, বাংলাদেশ ।

এই লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *