তিনটি কবিতা

তিনটি কবিতা

দুর্বোধ্য শিলালিপি
একদিন তোমাকে সুখপাঠ্য মনে হয়েছিল আমার
মনে হয়েছিল তুমি খুবই সহজবোধ্য আনন্দপাঠ,
তোমার চোখমুখ ঠোঁট দেখে মনে হয়েছিল তুমি বাল্যশিক্ষা
আদর্শলিপির অ আ ক খ এর মত প্রাথমিক প্রাথমিক ব্যাপার!
একদিন তোমাকে সরল বাক্যের মত সহজ ও সাবলীল মনে হয়েছিল
অথচ তোমাকে পড়তে গিয়ে আমার মনে হলো তুমি যৌগিক বাক্য
ইদানিং বোধগম্যতার স্তরে তোমাকে মনে হয়- তুমি জটিল বাক্য!

তাই তোমাকে আমার পড়া হয়ে উঠেই না
তোমাকে আর আত্মস্থ করা হয়ে উঠে না আমার
আমার কাছে কখনো কখনো তোমাকে মনে হয়
তুমি কোনো প্রাচীন সভ্যতার অমূল্য নিদর্শন- দুর্বোধ্য এক শিলালিপি!

.

.

.

.

.
খোকা, তুই এখনো ছোট-ই রয়ে গেলি
গঙ্গার প্রবাহমান ঘোলাজলের সাথে আমি বড় হতে থাকি
আমি বড় হতে থাকি শীত আর বসন্তের বাড়াবাড়িতে
আমি বড় হতে হতে একদিন নিজেকে পাহাড় মনে করি
তারপর একদিন বাইরে কালোমেঘের লম্ফঝম্প দেখে
মেঘে মেঘে বিজলি দেখে যখন আমি আঁতকে উঠি
তখন মা আমাকে সযতনে বুকে টেনে নেন
আঁচল দিয়ে আমার চোখমুখ ঢেকে দিয়ে বলেন,
‘খোকা, তুই এখনো ছোট-ই রয়ে গেলি!’

তারপর মেঘ কেটে গেলে ঝলমলে রোদ উঠে আকাশে
গঙ্গার ঘোলাজল বয়ে যায় সূর্য়ের উদয়-অস্ত গুনে গুনে
আমিও ক্রমশঃ আবার বড় হতে থাকি
আমি বড় হতে থাকি প্রিয় মানুষের কাছে; পৃথিবীর কাছে।
আবার কঙ্কাল ডালে নতুন নতুন পাতা গজায়- ফুল ফুটে,
চক্রাকারে ঋতু হেঁটে যায় আরেক ঋতুর কাছে
আমিও চাঁদের সাথে জোয়ার-ভাটা খেলে বড় হতে থাকি
অথচ মা আমাকে কোলে তুলে চুমু খেয়ে বলেন,
‘খোকা, তুই এখনো ছোট-ই রয়ে গেলি!’
.

.

.

.

মা-বাবা চলে গেলে

মা চলে গেলে ঘরের চৌকাঠ কাঁদে
বেঘোরে কাঁদে শোবার ঘর এলোমেলো বিছানাপত্র
রান্নাঘরের চেলাকাঠ হাঁড়িপাতিল থালাবাটি,
মা চলে গেলে ঘরময় হেঁটে বেড়ায় প্রগাঢ় এক শূন্যতা।

অথচ বাবা চলে গেলে অরণ্য উজাড় হয়ে যায়
খরতাপে পুড়ে পুড়ে ধূসর হয়ে যায় সবুজ ঘাস
পিচ্ছিল হয়ে যায় চেনাজানা পথঘাট
বাবা চলে গেলে ঘরের চৌকাঠ থেকে তাবৎ পৃথিবী কাঁদে।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
গরিব চাষি

গরিব চাষি

সেকেন্দার আলি সেখ   আগুন জ্বলে ক্ষেত খামারে গরিব চাষির বুকে পায়ে ফেলে মাথার ঘাম নেইকো কৃষক সুখে আগুন জ্বলে গ্রাম ছাড়িয়ে রুক্ষ মাঠের শেষে ...
বন-পলাশের পদাবলি

বন-পলাশের পদাবলি

 ।মহীতোষ গায়েন ফুলমতী কন‍্যা জল আনতে যায় যাওয়ার সময় সে ইতিউতি চায়, বৃষ্টিচ্ছায় জল থইথই পদ্মদিঘির ঘাট যায় পেরিয়ে কন‍্যা উজ্জয়িনীর মাঠ। চরাচরে বৃষ্টি নামে ফুলের ...
আজও তুমি চেয়ে আছ

আজও তুমি চেয়ে আছ

নিশিকান্ত রায় স্কুল ছেড়ে পথ গেছে আঁকাবাঁকা হয়ে কয়েকটা বাড়ির পরেই নদী ওপারে ঘন সবুজের ক্ষেত তার উপর দিয়ে চোখে চোখে দিগন্তের নীল। মাখামাখি রোদ্দুরে ...
আশা ভালোবাসা

আশা ভালোবাসা

জোবায়ের রাজু এরা বেশ পয়সাওয়ালা, বলতেই হবে। দামী সোফা, আলো ঝলমলে ঝাড়বাতি, মেঝেতে চোখ ধাঁধাঁনো কার্পেট, দেয়াল জুড়ে দামী দামী তৈল চিত্রÑসব মিলিয়ে ঘরটাকে আলিশান ...
গল্প - সব ঠক

গল্প – সব ঠক

উম্মেসা খাতুন ঘাটের উপর পরিতোষের মিষ্টির দোকান। জয় মা তারা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার।পরিতোষ এখন দোকানে নেই।তার বাবা আশুতোষ রয়েছে। দোকানের চেয়ারে বসে কবেকার পুরনো চশমাটা চোখে ...
মা হওয়ার সাধ

মা হওয়ার সাধ

সবুজ আহমেদ    অপ্রত্যাশিত ভাবেই ডুবে গেল অনন্ত আলোর গহীন নবকুমার পারেনি দিতে বহু আকাঙ্খার প্রত্যাশিত রাত তাহলে কেন এত অপেক্ষা-প্রতীক্ষার ই- বা কি প্রয়োজন ...