গৌতম সরকারথ্রিলার সংকলনপ্রথম পাতাসর্বশেষ

রহস্যঘেরা শিমুলতলা পর্ব: ০৪

গৌতম সরকার

রাত্রে অথর্ব স্বপ্ন দেখল। সে একটা গুহার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ঢোকার পরপরই কে যেন পিছন থেকে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। এখন সামনে এগোনো ছাড়া কোনো পথ নেই। অন্ধকার গুহা, উঁচু-নিচু পাথরে ঠোক্কর খেতে খেতে অথর্ব এগিয়ে চলল। মাথা নিচু করে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হচ্ছে, কারণ সোজা হয়ে দাঁড়ালে গুহার ছাদে মাথা ঠুকে যাচ্ছে। ভিতরে একটা দমবন্ধ করা গরম, একফোঁটা হাওয়া নেই। কিছুটা চলার পর অথর্বর নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হল। সে হাঁচরপাঁচর করতে করতে এগিয়ে চলল। একটু আলো, একটু বাতাস খুব দরকার! খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু সে চলা থামালো না। এ পথের শেষ কোথায়! তাহলে কি এই অন্ধকার গুহার মধ্যেই তাকে মরে পড়ে থাকতে হবে! ভীষণ ভয় লাগতে লাগল। চলার গতি বাড়িয়ে দিল, হাত-পায়ের চামড়া পাথরের ঘষাতে ছিঁড়ে যেতে লাগল, দুয়েকবার পাথরে ঠোক্কর খেয়ে মাথাও আঘাত পেয়ে ফুলে গেছে। শারীরিক কষ্ট ভুলে পাগলের মত এগোতে লাগল, এপথের শেষে তাকে পৌঁছতেই হবে। কিছু সময় পর সারা গুহা কাঁপিয়ে কেউ একজন অট্টহাসি হেঁসে উঠল, সেই ভয়ংকর হাঁসির আওয়াজ অপরিসর গুহার দেওয়াল থেকে দেওয়ালে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। একটা বাঁক ঘুরে অথর্ব দেখল, গুহা শেষ। আর শেষপ্রান্তে লাল কাপড়ে শরীর ঢেকে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে এক ভয়ংকর দর্শন সাধু। আর সাধুবাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন একজন যার মুখ অথর্ব দেখতে পাচ্ছেনা। অথর্ব চলা থামিয়ে দিল। ভয়ে সে নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিতে ভুলে গেছে। এমন সময় সাধু জলদগম্ভীর স্বরে আওয়াজ তুললেন, “তু ফির আ গ্যয়ে! তেরি ইতনি মজল?” অথর্বর গলাটা চেনা চেনা লাগল। এবার অন্যজনও অথর্বর দিকে ফিরে দাঁড়ালেন। বড় বড় চোখে অথর্বর দিকে তাকিয়ে রইল। চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে, তবে আলোর বিপরীতে থাকায় মুখটা পরিষ্কার করে দেখা যাচ্ছেনা। আধো অন্ধকারে মনে হল, একেও যেন কোথায় দেখেছে। দুজনের ভয়ংকর দৃষ্টির সামনে অথর্ব কুঁকড়ে গেল। পিছনের রাস্তা বন্ধ, সামনে দুজন তার পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে। তাছাড়া সামনে এগোনোর কোনো পথ আছে কিনা তাই বোঝা যাচ্ছেনা। সাধুবাবা ধুপ-ধুনো জ্বালিয়ে অন্ধকার জায়গাটিকে আপাত অন্ধকার করে তুলেছে। সাধুবাবা হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। তারপর ভয়ংকর লাল চোখ নিয়ে দুহাত বাড়িয়ে অথর্বের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার সাথে দ্বিতীয় লোকটাও পা টিপে টিপে এগোতে লাগল। অথর্ব খুব ভয় পেয়ে গেল, পিছনের গুহা মুখ বন্ধ সে এখন কি করবে! প্রচন্ড জোরে ‘দিদি’, ‘দিদি’ বলে চিৎকার করে উঠতেই ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘুম ভেঙে কিছুক্ষণ সময় লাগল স্বাভাবিক হতে। ঘামে গায়ের জামা এতটাই ভিজে গেছে যে নিংড়ালে জল ঝরবে। সে উঠে বসল। স্বপ্নটা দেখে মাথাটা গুলিয়ে গেছে। বাথরুমে গিয়ে মুখে চোখে জল দিয়ে একটু ভালো লাগল। বোতল থেকে অনেকটা জল খেয়ে বিছানায় এসে বসল। কিছুক্ষণ পর আবার শুয়ে পড়ল। ঘুমও আসছে, কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে টের পেল দুর্বোধ্য সমীকরণটা আস্তে আস্তে মিলতে শুরু করেছে।

শিমুলতলায় সপ্তাহে পরপর দুদিন হাট বসে, বৃহস্পতি আর শুক্রবার। দূর থেকে যেসব ব্যাপারীরা আসে তারা বৃহস্পতিবার রাতটা স্টেশন চত্বরেই কাটিয়ে শুক্রবার বিক্রিবাটা করে বাড়ি ফেরে। আজ শুক্রবার। আজ অথর্বর ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মর্নিং ওয়াকটা বাদ পড়ে গেল। তাতে অবশ্য অথর্ব কিছু মনে করলো না। তার আজকে অন্য প্ল্যান। কালকের স্বপ্নটা তার চোখ খুলে দিয়েছে। স্বপ্নের কথা দিদিকে বললে হেঁসে উড়িয়ে দেবে। আর সঞ্জু-সবিতা শুনলে ভাববে, কলকাতার বড় স্কুলে পড়া ছেলেরাও কত বোকা হয়। ও মনে মনে ঠিক করল, আজকের অভিযানটা ওকে একাই করতে হবে, আর এই অভিযানে যদি সফল হয় তখন সবাইকে বলবে৷ এখন সমস্যা হচ্ছে, কিভাবে একা কয়েক ঘন্টার জন্য বেরোনো যাবে তার প্ল্যান করা। অযাচিতভাবেই সুযোগটা হাতে এসে গেল। সঞ্জু আর সবিতাকে আজ কোনো একটা দরকারে স্কুল যেতে হবে। তাহলে অথর্ব একা একা কি করবে! দিদি তো একটা মোটা গল্পের বই নিয়ে ছাদের আড্ডাঘরে চলে গেল। অথর্ব অনুদিদাকে ‘একটু ঘুরে আসছি, দিদা’ বলে বেরিয়ে পড়ল। পিছন থেকে দিদার গলা ভেসে এল, “বেশি দূর যাসনা দাদা”, অথর্ব তখন রাস্তায়।

     স্টেশনের কাছে এসে পকেট থেকে সানগ্লাসটা বের করে চোখে দিল। আজ মাথায় একটা বেসবল ক্যাপ চড়িয়েছে আর কানে হেডফোনের স্পিকার। অর্থাৎ মুখটাকে যতটা সম্ভব ঢেকে রাখা যায়। এখন প্রায় দশটা বাজে, হাটে লোকে লোকারণ্য। দূর থেকে দেখল, সাধুবাবা ইতিমধ্যে জমিয়ে বসেছে, তাকে ঘিরে একইরকম ভিড়। আজ অথর্বর প্ল্যান, সাধুবাবার কাছাকাছি গিয়ে একটু কান পাতা। মহিলাদের সঙ্গে কি কথা হচ্ছে সেটা জানা খুব জরুরি। তবে একই সঙ্গে কালকের সেই ভদ্রলোককেও খুঁজতে হবে। অথর্বর দৃঢ় বিশ্বাস সাধুবাবার সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের একটা যোগাযোগ আছে। সে একটু এদিক ওদিক ঘুরে সাধুবাবার কাছে এল। মহিলারা এমনভাবে সাধুবাবাকে ঘিরে রেখেছে যে দূর থেকে ওখানে কি হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। অথর্ব এদিকওদিক তাকিয়ে আরেকটু কাছে এগিয়ে যায়। হালকা করে উঁকি মেরে দেখল সাধুবাবা একটা অল্পবয়সী মেয়ের হাত দেখছে। অথর্ব কান খাড়া করল। সাধুবাবার গলা শুনতে পেল,

“হম! ইস লেড়কি কি ভাগ্যরেখা বারে হি খারাব মালুম পড়তি হ্যায়৷ ইসকি শাদি করানে মে আপকো বড়ি সমস্যা হোগি৷”

অথর্ব মুখ দেখতে না পেলেও একজন মহিলার গলা শুনতে পেল,

“বাবা, আপ কোঈ উপায় বোল দিজিয়ে। লেড়কি কি উমর তেরা হো গ্যয়ি, আভি আগর সাদি না করাই তো কব করাউঙ্গি”। 

“ইসকো মাতাজি কে পাস লে জানা পড়েগা। মাতাজি ইসকে লিয়ে যজ্ঞ করেঙ্গি”৷

“মুঝে মাতাজী কাঁহা মিলেঙ্গি?” মহিলার গলা। তার উত্তরে সাধুজি কি বলল শুনতে পেলনা অথর্ব। উত্তেজনায় আরেকটু এগোতে গিয়ে এক মহিলার গায়ে গিয়ে পড়ছিল। জোর সামলে নিয়েছে। থতমত খেয়ে একটু সামলে উঠতেই ভয়ানক চমক, সামনে দাঁড়িয়ে কালকের জিলিপির দোকানের সেই ভদ্রলোক। তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। গভীর চোখের দৃষ্টিতে কিছু মেপে নিতে চাইছে। অথর্ব প্রাথমিক ভাবে একটু ভড়কে গেলেও ওর বিশ্বাস হল, ভদ্রলোক ওকে চিনতে পারেনি। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি এসে গেল, পকেট থেকে মোবাইল বের করে মিথ্যে কয়েকটা নম্বর টিপে কানে লাগিয়ে বলে উঠল, “হাঁ পাপা, আপ কাঁহা হো! কব সে আপকি লিয়ে ইন্তেজার কর রাহি হুঁ৷ আধে ঘন্টে সে ইস পেড় কে নিচে সাধুজিকি আখড়ে কি পাস খাড়ি হুঁ”৷

কিছুক্ষণ ওপ্রান্তের কথা শুনছে এমন ভান করে বলে ওঠে, 

“ঠিক হ্যায়, সমঝ গ্যয়ে, রমেশচাচা কি দোকান কি পাস হো আপ! রুকিয়ে, ম্যায় আ রাহা হুঁ”। এই বলে অতি ব্যস্ততা দেখিয়ে ওই জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। বেশ কিছুটা আসার পর ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আড়াল করে পিছনে তাকিয়ে দেখে, সাধুবাবা আছে কিন্তু ভদ্রলোক ভ্যানিশ। অথর্ব মনে মনে খুশি, যে দুজনের সন্ধানে এসেছে দুজনেরই দর্শন পেয়ে গেছে, এখন এদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সাধুবাবাকে নিয়ে সমস্যা নেই, ও তো একজায়গাতেই বসে আছে, ওই বয়স্ক ভদ্রলোককে আবার খুঁজতে হবে এবং যথেষ্ট সাবধানে, যাতে উনি বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করেন। একবার বেঁচে গেছে, তাই বলে বারবার তো সম্ভব নয়। অথর্ব ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে কালকের সেই জিলিপির দোকানে গেল, উঁকিঝুঁকি মেরেও ভদ্রলোককে দেখতে পেলনা। এবার ও উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাটের মাঝে ঘুরে বেড়াতে লাগল। একবার মাছের বাজার, আর যেখানে গরু মোষ বিক্রি হচ্ছে সেখানেও ঘুরে এল। ভদ্রলোক কোথাও নেই, যেন কর্পূরের মত স্রেফ উবে গেছেন। রোদ বাড়ছে, ঘাম হচ্ছে। বেরোবার সময় গায়ে সোয়েটার ছিল, এখন সেটাও অসহ্য মনে হচ্ছে। অথর্ব সোয়েটার খুলে একটা বেঞ্চে বসল, এরপর কি করবে ভাবতে লাগল। সেভাবে দেখতে গেলে আজকের অভিযানে ও একপাও এগোতে পারেনি। মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, এরপর কি করণীয় বুঝে উঠতে পারছেনা। দিদি থাকলে মাথা খাটিয়ে একটা অল্টারনেটিভ প্ল্যান বের করত। এখন একটাই উপায় সাধুবাবার জন্য বসে থাকা এবং দেখা মেলা থেকে বের হয়ে কোথায় যায়! কিন্তু সে তো বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। অতক্ষন এখানে থাকলে অথর্বকে খুঁজতেই থানা-পুলিশ করতে হবে। মোবাইলে সময় দেখল, একঘন্টার বেশি সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। বসে থেকে জনস্রোতের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একটা ঘোর এসে গিয়েছিল। ওই ঘোরের মধ্যেই হঠাৎ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে সজাগ করে তুলল। একটা চেনা রং যেন চোখের সামনে দিয়ে ভেসে গেল। চোখটা একটু হালকা রগড়ে নিয়ে তাকাতেই দেখতে পেল নীল ট্রাউজার্স আর অফ হোয়াইট শার্ট পরে সেই ভদ্রলোক হেঁটে টিকিট কাউন্টারের দিকে চলেছেন। দ্রুত চলছেন, গতি দেখে বোঝা যাচ্ছে হাট ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় অথর্ব উঠে দাঁড়ায়, ভদ্রলোকের পিছু নিতে শুরু করে। ভদ্রলোক খুব নিশ্চিত মনেই হেঁটে চলেছেন, স্টেশনের ভিতরে না ঢুকে ডানদিকে ঘুরে উনি মূলরাস্তা ধরলেন। রাস্তায় উঠে উল্টোদিকের রাস্তা ধরে হনহন করে হাঁটতে লাগলেন। এখানে রাস্তাটা রেললাইনের সমান্তরালে সোজা হয়ে অনেকটা গেছে। অথর্ব আড়াল থেকে চট করে বেরোতে পারলোনা। পিছন ফিরলেই ওকে দেখে ফেলার সম্ভাবনা আছে। কিছুটা অপেক্ষা করার পর ভদ্রলোক যখন অনেকটা এগিয়ে গেছেন তখন সে রাস্তায় নামল। ভদ্রলোকের সাথে আন্দাজ আড়াইশো মিটার দূরত্ব রেখে হাঁটতে লাগল, যদিও সে জানেনা কোথায় যাচ্ছে। দিদিকে একটা মেসেজ পাঠাতে হবে, কত দেরি হবে কে জানে! বাড়িতে চিন্তা করবে। হাঁটতে হাঁটতে মেসেজ করে দিল। “চিন্তা করিসনা। আমার ফিরতে একটু দেরি হবে। ফিরে সব জানাবো।’ মেসেজ পাঠিয়ে মোবাইল সাইলেন্ট মোডে রেখে দিল। কখন কোন অবস্থায় বেজে উঠে সব ভণ্ডুল করে দেবে, সেটা অথর্ব একেবারেই চায়না। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে পড়ে পিছন দিকে তাকাল, অথর্ব চট করে বসে পড়ে জুতোর লেশ বাঁধতে শুরু করে দিল। ভদ্রলোক মনে হল খেয়াল করলেননা, এদিক ওদিক তাকিয়ে সুট করে রাস্তার পাশে জঙ্গলে ঢুকে গেলেন। অথর্ব প্রমাদ গণল। 

 জঙ্গলের মধ্যে একজন মানুষকে অনুসরণ করা খুব শক্ত। প্রথমত, হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা, আর দ্বিতীয়ত, যতই সাবধানতা নিক না কেন, শুকনো ডাল, পাতা ইত্যাদিতে আওয়াজ হবেই, ফলে যাকে অনুসরণ করা হচ্ছে সেই মানুষটা সতর্ক হয়ে পড়বে। অথর্ব প্রাণপণে দৌড় মারল, ভদ্রলোক যেখান থেকে জঙ্গলে ঢুকেছেন তার কুড়িমিটার আগে জঙ্গলে ঢুকে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ভদ্রলোক কোন পথ ধরে যাচ্ছে সেটা বুঝতে হবে, একটা ক্ষীণ আওয়াজ পাচ্ছে শুকনো পাতা মাড়ানোর। সেই আওয়াজ লক্ষ্য করে অথর্ব এগোলো। ওর একটা সুবিধা ও রাবার সোলের জুতো পরে এসেছে, তাই শুকনো পাতা মাড়ানোর আওয়াজ খুব বেশি হবেনা। তবে গাছপালা সরিয়ে পথ করে যেতে কিছু আওয়াজ হবেই। তবুও যতটা পারা যায় সাবধানে আওয়াজ লক্ষ্য করে কোনাকুনি এগিয়ে চলল। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর দূরে গাছপালার মধ্যে একটা চেহারার আদল দেখতে পেল। অথর্ব গতি আরও কমিয়ে দিল, কারণ ভদ্রলোক ধীরে ধীরে হাঁটছেন। জঙ্গল ক্রমশ ঘন হয়ে উঠছে, গাছপালা বাঁচিয়ে চলতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। সাবধানতা সত্বেও একটা কাটা গাছের গুঁড়িতে হোঁচট খেল, একটু আওয়াজ হতেই ভদ্রলোক চকিতে ঘুরে দাঁড়ালেন। সময়মতো একটা মোটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল অথর্ব। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে কোনো বুনো পাখি বা শেয়াল ভেবে ভদ্রলোক আবার এগোতে লাগলেন। গাছের আড়াল থেকে সন্তর্পণে বেরিয়ে অথর্ব আবার পিছু নিল। আরও দশমিনিট জঙ্গল পথ পেরিয়ে একটা পরিষ্কার জায়গায় পৌঁছলেন ভদ্রলোক। বেশ কিছুটা অংশ গোল করে গাছপালা কেটে জায়গাটা পরিষ্কার করা হয়েছে। আর সেখানে একটা পুরোনো দোতলা বাড়ি। পুরোনো হলেও একদম ধসে পড়ার অবস্থা নয়। আরেকটু কাছে এগিয়ে বাড়িটায় কিছু সংস্কারের চিহ্নও চোখে পড়ল। তার মানে বাড়িতে মানুষ থাকে। ভদ্রলোক এসে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। অথর্ব আড়াল থেকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে বাড়িটার দিকে চোখ রাখল।

 যেকোনো অভিযানের প্রাথমিক শর্ত হল চোখ-কান খোলা রাখা আর চোখের সামনে যা ঘটছে সেটা দেখে চটজলদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। দ্বিতীয় কাজটা দিদি খুব ভালো করে। কিন্তু দিদি এখন নেই, অথর্ব ভেবে নিল তাকেই সবটা ঠিকঠাক করতে হবে। আগে বোঝা দরকার বাড়িতে আর কে কে আছে। তবে এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবেনা, যেকোনো সময় কারোর চোখে পড়ে যেতে পারে। আশপাশ ভালোভাবে দেখে একটা গাছ ঠিক করে চড়ে বসল অথর্ব। অনেকটা ওপরে উঠে গাছপালার আড়ালে এমনভাবে লুকিয়ে রাখল যাতে নিচ থেকে বা বাড়ির ভেতরে থেকে তাকে কেউ দেখতে না পায়। কিন্তু সে বাড়ির বাইরে ভিতরে স্পষ্টভাবে নজর রাখতে পারছে।

(ক্রমশঃ………)

এই লেখাটি শেয়ার করুন
ছাইলিপির ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ছাইলিপির কথা

লেখালিখি ও সৃজনশীল সাহিত্য রচনার চেষ্টা খুবই সহজাত এবং আবেগের দুর্নিবার আকর্ষণ নিজের গভীরে কাজ করে। পাশাপাশি সম্পাদনা ও প্রকাশনার জন্য বিশেষ তাগিদে অনুভব করি। সেই প্রেরণায় ছাইলিপির সম্পাদনার কাজে মনোনিবেশ এবং ছাইলিপির পথচলা। ছাইলিপিতে লিখেছেন, লিখছেন অনেকেই। তাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। এই ওয়েবসাইটের প্রতিটি লেখা মূল্যবান। সেই মূল্যবান লেখাকে সংরক্ষণ করতে লেখকদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। কোন লেখার মধ্যে বানান বিভ্রাট থাকলে সেটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ছাইলিপি সম্পর্কিত যে কোন ধরনের মতামত, সমালোচনা জানাতে পারেন আমাদেরকে । ছাইলিপির সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ছাইলিপির নতুন সংযোজন ছাইলিপির ইউটিউব চ্যানেল Chailipi Magazine। সাবস্ক্রাইব করার আহ্বান।

error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন ! বিশেষ প্রয়োজনে ইমেইল করুন [email protected]