নিবেদিতা

নিবেদিতা

আশিক মাহমুদ রিয়াদ

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়! উত্তপ্ত আবহাওয়ার শেষে বিকেল বেলা বৃষ্টির পূর্বাভাস। আজ ঝড় উঠতে পারে। জানলা থেকে ভেজা বাতাসের গন্ধ এসে নাকে লাগছে৷ শীতল বাতাস! আহ প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কাজ ফেলে কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসে থাকে অমল। বসে থাকতে থাকতে কখন চোখ লেগে যায় বুঝতেই পারে না সে। অমলের ঘুম জড়ানো চোখ খুলে যায় দরজা খোলার ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে৷ ভীষণ ঘুম পেয়েছিলো। শরীর থেকে আলস্য দূর করতে আড়মোড়া ভেঙে আবার চোখ দুটো ল্যাপটপের স্ক্রিণে রাখে। আকাশে গুরুম গুরুম শব্দ হচ্ছে৷ বৃষ্টি নামবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। শেষ বিকেল, মেঘ জড়ো আকাশে ক্লান্ত বিকেলে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছে৷ অফিসের কাজ আজকের মতো শেষ বাইরে বের হবে কি না ভাবলো কিছুক্ষণ। হাতে কোন কাজ নেই, অফিসে বসে অনার্থক হাই তোলা কোন কাজের কাজ হবে না বলে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে সে।আকাশে গুরুম গুরুম শব্দের মধ্যে বৃষ্টি পড়ছে গুড়ি গুড়ি।




অফিস থেকে বেরিয়ে বাঁধলো সেই বিপত্তি। মেসে ফেরার পথে বাঁধসাজলো বৃষ্টি। অমল আশ্রয় নিলো একটি চায়ের দোকানের দিকে৷ হাইওয়ে থেকে গাড়ি চলে যাচ্ছে সাই করতে করতে। অমল ভিজে গেছে একটু আধটু। এইসময় এক কাপ চা খেয়ে নেয়া উত্তম কাজ। ঠান্ডা লেগেছে তার, হাঁচিও দিচ্ছে একটু আধটু। চায়ের কাপে অনর্থক কল্পনায় ডুব দেয় অমল। আজ রাতটা বেশ উপভোগ্য হতে যাচ্ছে বিবাহীত যুবক – যুবতীর জন্য। অমলের বয়স হয়েছে। যৌবনের উত্তপ্ত উত্তেজনায় মনের রঙ ছড়ানো কল্পনায় কখন যে চা শেষ হয়ে গেলো বুঝতেই পারলো না। বৃষ্টি থামলো ক্ষানিকবাদে, রাস্তার পাশে হলদে পাতা ঝড়ে আছে। অমলের পাশ থেকে সাঁই সাঁই করে বেড়িয়ে যাচ্ছে গাড়ি।

২.
ফুটপাত ধরে হাটতে হাটতে কল্পনায় ডুবে যায় অমল। আজকাল কলেজ জীবনের স্মৃতিগুলো বেশ নাড়া দিচ্ছে৷ মানুষ সবসময় না সবসময় একটি কল্পনায় ভাসতে ভালোবাসে৷ সব মানুষের খবর অমল রাখে না, তবে অমল ভাবতে ভালোবাসে৷ তবে আজকাল আর ভাবনার অবকাশ নেই। অফিসে চাপ যাচ্ছে, সামনে একটা বিগ প্রজেক্টে কন্ট্রিবিউটের অফার এসেছে গতকাল। প্রজেক্টের খুটিনাটি জেনে নিজেকে প্রজেক্টের জন্য রেডি করছে অমল। এতে যদি তার কিছু প্রমশন হয় টয়, তাতে মন্দ নয়।



রাস্তার বেশ খানিকটা দাঁড়িয়ে থাকার পর বাসের দেখা পাওয়া গেলো একটা। প্রতিদিন অফিস করে এ পথ দিয়েই ফেরে। অফিসের আশেপাশে বাসা না পাওয়া অফিস থেকে বেশ খানিকটা দূরেই থাকতে হয় অমলকে। তাই তো বটতলা থেকে নীরেন বাজার পর্যন্ত বাসেই যাওয়া-আসা করতে হয় তার। বাস ফাঁকাই আছে, মানুষজন দৌড়ে বাসে উঠছে৷ গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বাসে উঠতে উঠতে হঠাৎ থমকে গেলো অমল। একজন তরুণী ছুঁটতে ছুঁটতে আসছে বাসের দিকে। স্ট্রিট লাইটের হলদে আলোতে তার মুখ চিনতে পারে অমল। খানিকটা থমকে যায়, যাওয়ারই কথা। তরুণী বাসে উঠতে দেয় অমল, পরে নিজে ওঠে। তরুণী তখন বাসের সিটে বসে শাড়ি দিয়ে নিজের চুল মোছার চেষ্টা করছে। ড্রাইভার সিটের মাথার উপরে রাখা ব্যাক মিরর থেকে মেয়েটির দিকে আরেকবার তাকায় অমল। “নিবেদিতা না? হ্যাঁ নিবেদিতাই তো” মিররের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে অমল। বেশক্ষাণিক দেখার পরে বুঝতে পারে, পেছনের সিটে বসে থাকা তরুণী আর কেউ নয়, নিবেদিতাই। মনের অজান্তেই ভাবতে থাকে অমল, কল্পনায় ডুব দেয় ক্ষানিকের জন্য৷ ‘নিবেদিতা ‘ বদলে গেছে অনেক মেয়েটা৷ আগের থেকে একটু মোটা হয়েছে। ফর্সাও হয়েছে বেশক্ষাণিকটা। এখনকার সময়ের স্টাইলিশ ফ্রেমের চশমা তার চোখে। বৃষ্টি ভেজে শরীরে যেন অন্যরকম লাগছে নিবেদিতাকে। বেশক্ষানিক ভাবার পরে নিজেকে সামাল দেয় অমল, কিসব আবোলতাবোল ভাবছে অমল। বুকে অজানা কোন টান অনুভব করছে৷ বুকের মধ্যে যেন অনেক দিনের পূরণো আগ্নেয়গিরি টা আবার ঝঙ্কার দিয়ে অগ্নুৎপাত হয়েছে। উত্তপ্ত লাভা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেহে। অমলের ভাবনায় টান পড়ে, বাস ব্রেক করে হঠাৎ করে। হেল্পার হাঁক দিয়ে বলে, “সোনাতলা আসি পড়িছে, কেউ আছে নাহি নামিবার ?”পেছনের সিটে থাকা মেয়েটা হাত নেড়ে সায় জানায়, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ। আমি নামবো। ‘ অনেকদিন পড়ে নিবেদিতার এমন মিষ্টি গলা শুনলো অমল। অজানা অদ্ভুত মোহ তাকে আরেকবার ছুঁয়ে গেলো। হেল্পারকে ভাড়া বুঝিয়ে দিয়ে নেমে পড়লো মেয়েটি। অমলের ঔৎসুক চোখ দুটি খুঁজতে লাগলো নিবেদিতাকে। অমল আবারও ডুব দিলো পুরনো সেই সব দিনের কল্পনায়। সোনাতলার পরের স্টেশনেই তার নেমে যাওয়ার কথা। আপাতত সে কথা মাথায় নেই অমলের।



৩.
রাতে মেসের নিয়মিত খাবার খেয়ে সিগারেট ধরিয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে বসে অমল। বেশ কয়েকদিন বাদে পুরনো স্মৃতিগুলো আজকে তাকে ঘিরে ধরেছে শক্ত করে। বৈশাখী ঝড়ের মতো উল্টেপাল্টে যাচ্ছে সব। সিগারেটা লম্বা একটি টান মারে অমল। নিবেদিতা কি তাকে চিনতে পেরেছে?

সারারাত বিছানায় গড়াগড়ি করেও ঘুম এলো না অমলের। সারারাত কেটেছে পুরণো স্মৃতি হাতরে হাতরে। “নিবেদিতা তো তার কেউ নয়, তাহলে সে কেন এত নিবেদিতার কথা ভাবছে?” শেষ রাতের সিগারেটের ধোঁয়ায় একটি সিদ্ধান্তে এলো অমল। আজ রাতের পর থেকে এসব অনর্থক চিন্তা ভাবনা / রঙিন ধূসর কল্পনাকে বাদ দিতে হবে। অমলের এই ব্যপারটা নিয়ে কেন যেন ভাবতে ভালো লাগছে না। তবে স্বভাবদোষে মানুষের যা ভালো লাগে না, কিন্তু অবচেতন মনের ধোকার বেড়াজালে সেই অপ্রিয় জিনিসকেই প্রিয় বানিয়ে ফেলে। অমল আবারও ডুব দেয় দগ্ধ ধূসর কল্পনায়৷

গভীররাতে যখন এক পশলা ঘুমানোর জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছে তখন যেন উত্তপ্ত মরুর বুকে নিবেদিতাকে নিয়ে ভাবা সেই অতীত অলীক কল্পনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অমলের শরীর জুড়ে, বিক্ষিপ্ত সে সব ছেলেমানুষে ভাবনা। শখ করে কত কিছুই ভেবেছিলো, দু’জনে বাঁধবে ঘর সেই ঘর জুড়ে সারাদিন তাদের কত খুনসুটি। ঘুমানোর সময় নিজের মাথাটা উঠিয়ে দেবে নিবেদিতার বুকে, সে সব কি আর নতুন ভাবনা? সেই ভাবনাটাকেই জাবড় কাটলো বেশ কিছুক্ষণ বাদে!



নিবেদিতার গাল থেকে গলা, ঠোটের স্পর্শে নিবেদিতাকে পাগল করে ফেলেছে, এ যেন সেই পুরনো নিবেদিতা নয়, বরং সেদিন বাসে দেখা নিবেদিতা। এ ক’বছরের মধ্যে তার বুকের সাইজ বেড়েছে, কোমড়ের খাজের দেউরিতে ঢেউ পড়ে নিতম্ব হয়েছে আরও বিধস্ত। অমল সেখানে চষে বেড়াচ্ছে বুনো শুয়োরের মতো, নিবেদিতার শরীর থেকে অদ্ভুত গন্ধের সমীরণে বুঁদ হয়ে আছে। চুম্বনের তমাল যুদ্ধে নিবেদিতার সারা শরীর যেন নেশাতুর হয়ে উড়ছে। কিছুক্ষণ বাঁদেই অমল যেই নিবেদিতার বুকের ব্লাউজ খুলে চুম্বন করতে যাবে তখনই কামুকতার কড়াল গ্রাসে তার ঘুম ভেঙে যায়, ঘুম থেকে উঠে দেখে ততক্ষণে সকাল সাতটা বেজে পয়তাল্লিশ, দু পায়ের ফাঁকে অপ্রত্যাশিত জলাঞ্জলি হয়েছে। অবিবাহীত পুরুষের এই এক অদ্ভুত সমীকরণ।




কলেজ জীবনের কথা, সেদিন বসন্তের দিন। ক্যাম্পাসজুড়ে ফুলের ছড়াছড়ি। লাল-নীল প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিচরণ৷ দক্ষিণ দিকের গানের মঞ্চ থেকে ভেসে আসছে, ‘ফুলে ফুলে ঢোলে ঢোলে’ ওপাশটায় ফুল বিক্রির ধুম লেগেছে৷ আজ কলেজে বাসন্তী উৎসব৷ উঠতী বয়সী তরুণ-তরুণীদের প্রেমে পড়ার দিন৷ গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি নিয়ে মাঠের মধ্যে বসে বাদাম খুঁটছিলো অমল। সাথে তার কিছু বন্ধু। সবাই সবাইকে নিয়ে ঠাট্টা করছে, করারও কথা। প্রেমহীন বেকার মানুষদের আর খেয়ে দেয়ে কি কাজ? সবাই বলাবলি করলেও অমল মাথা নিচু করে। “আজ তো দেখি মাঠজুড়ে কপোত-কপোতিদের হাট বসেছে রে।”, কেউ একজন বলে ওঠে৷ সবাই হাসে, হাসির শব্দে অমলও হাসে। এত মানুষের ভিড়ে হঠাৎ অমক থমকে যায়, গুন গুনিয়ে কি একটা গান গাইছিলো সে এতক্ষণ। মঞ্চ থেকে সেই গান ভেসে আসছে, সেই গানের সাথেই গান গাইছিলো এতক্ষণ।অমল উঠে দাঁড়ায়। হন হন করে হাটা দেয় মঞ্চের দিকে। বন্ধুরা সব পিছু নেয় তার। মঞ্চের কাছাকাছি এলে প্রথমবার বোধয় তার বুকে নতুন অনুভূতির সঞ্চার হয়। এমন অনুভূতির আবেশ এর আগে সে কখনো পায়নি। গান শেষে উপস্থাপক যখন বলে, ” এতক্ষণ গান গাইছিলো আমাদের কলেজের এইচ.এস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নিবেদিতা” অমল কি যেন ভাবনার ভীড়ে নামটা শুনতে পায়না ঠিক। বন্ধুদের কানে চুপি চুপি বলে, ” কি নাম বললো রে?’ সেদিনই প্রথম জানতে পারে, “নি বে দি তা ”




৪.
একটা রোববার মানে আসলেই শান্তির দিন৷ এই শান্তির দিনেও অশান্তিতে ভুগছে অমল। বাইরে থেকে কিছুক্ষণ হাওয়া খেয়ে সন্ধ্যেবেলায় মশার ভ্যাণ ভ্যাণ আওয়াজে ফোনে কি একটা স্ক্রল করছে৷ ফেসবুকে ‘নিবেদিতা চট্টোপাধ্যায়’ নামে সার্চ করে কাউকে পাওয়া গেলো না৷ মনের অশান্তি আর অসুখ উত্তেজনা কি এক কারণে বাড়ছে৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা সিদ্ধান্ত আসতে পেরেছিলো অমল, বাসে যাকে দেখেছে সে আসলে, ‘নিবেদিতা নয়’ সে ভুল দেখেছে৷ আর ভুল ব্যাপার নিয়ে এত মাথা না ঘামালেও হয়।




সে সপ্তাহের বুধবার। আজ আকাশ ফকফকে। সারাদিন বেশ ভালো গরম গিয়েছে, সন্ধায় হালকা ঠান্ডা বাতাস যেন জুড়িয়ে দিচ্ছিলো প্রাণ৷ আজও বাস ধরে ঘরে ফেরার তাড়া। বাসস্ট্যান্ডের দিকে পা বাড়াতেই কেমন যেন একটা লাগছিলো আজ। অবচেতন মনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন, আজ যদি আবার দেখা হয়ে যায় নিবেদিতার সাথে? ধুর এসব কিছু হবে না। অমলের মনে চলে দোলাচলের প্রশ্নত্তর খেলা। সন্ধ্যে আলোতে গাছের পাতা নাড়ানো বাতাস এসে ছুঁয়ে যায় অমলের চুল। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছুক্ষণ। দুটো চোখ খুঁজছে যেনো কাকে। নি বে দি তা কে? নিজের প্রশ্নে নিজেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় অমল।

সেদিন অমলের উথাল পাথাল আবেগের পঞ্চরঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যায় নিবেদিতার সাথে৷ এবার শুধু দেখা নয়, চোখে চোখ পড়েছে নিবেদিতার৷ অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে ফেলে অমল। ‘নিবেদিতা কি তাকে চিনতে পেরে গেলো?’ ফেরার পথটা কি একটা ভেবেই কাটিয়ে দেয়। বাস থেকে নামার পরে সিগারেট ধরালে, প্রশ্নের ঝাঁক ঘিরে ধরে অমলকে।

৫.
সেদিন বসন্তের দিনের পরে নিবেদিতাকে ভীষণ রকমের ভালোবেসে ফেলে অমল। অমলের কাছে মনে হয়, কাউকে ভালোবাসার কোন মানে লাগে না৷ ভালোবাসা নামের এই অপার সমুদ্রে নিজেকে খুঁজে নেয় কল্পনার সব অপার্থিব রঙিন ডিঙায়। অমল ভালোবাসে নিবেদিতাকে, আকাশ – বাতাস কলেজ ক্যাম্পাস জানে সে কথা৷ শুধু এখানে একটা বিষ্ময়চিহ্ন একে দিয়েছে অমল। নিবেদিতা জানবে না কখনোই। প্রেমের পথে হাটতে গেলে তোমাকে পাগল হতে হবে, কোথায় যেন শুনেছে এ কথা। অমল প্রেমিক হয়েছে, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবারে নিবেদিতাকে নিয়ম করে চিরকুট দেওয়া। তাতে লেখা থাকে অমলের সৃষ্টি করা লাইন যাকে বলে প্রেমিকের প্রেমরস।

এরকম কতশত অভ্যাস হয়। না ঘুমানোর অভ্যাস, ফোণের স্ক্রিণে ছবি দেখার অভ্যাস। কল্পনায় ভাসার অভ্যাস, নির্ঘুমরাত পাড়ি দেওয়ার অভ্যাস৷

এই অভ্যাস একদিন ভেঙে যায় অবিশ্বাসের কালছোবলে। এই শহর, রাস্তাঘাট কেউ না জানলেও অমল জানে। অমল নিবেদিতাকে অবিশ্বাস করে। শুধু তাই নয়, অমল নিবেদিতাকে ভালোবাসে না। বন্ধ হয়ে যায় খাওয়া দাওয়া, ভীষণ রাগ হয় নিবেদিতার ওপর। কিভাবে পারলো ও? কিভাবে?
অমল তো নিবেদিতাকে ভালোবাসে না.. তাহলে?
যেখানে ভালোবাসা নেই? সেখানে বিশ্বাস কিসের?
ঐ যে একটা কথা… প্রেমের রাস্তায় হাঁটতে হলে তোমায় পাগল হতে হয়।




এক সন্ধায় অমল জানতে পারে নিবেদিতার সাথে অন্য কারো প্রেম আছে৷ তবে এতদিন বন্ধুরা তাকে যে তথ্য দিয়েছিলো সেটি ভুল? শালা বন্ধুরাও ভীষণ স্বার্থপর। অবশ্য বন্ধুর সহযোগিতায় সে চুপি চুপি দেখে ফেলে নিবেদিতার সাথে তার প্রেমিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেদিনই অমলের মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো ভীষণ। এরপর সব শেষ হয়ে যায় না, অমল নিবেদিতাকে সেই চিরকুট দেওয়া অব্যাহত রাখে৷ তবে এখন লিখে পাঠায় বিভৎস সব কথা।

৬. দিন ঘনায় অমল জানতে পারে সত্যি ঘটনা, কলেজের একটি ছেলে বাথরুমে নিবেদিতার স্পর্শকাতার ভিডিও করে। সেই ভিডিও ভাইরাল করার
ভয় দেখিয়ে নিবেদিতার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছিলো। নিবেদিতাও মুখ বুজে সহ্য করে গেছে এই বিভীষিকাময়ী অভিশাপ।

এদিকে নিবেদিতার ভীষণ রাগ হচ্ছিলো। তাকে এই বাজে চিরকুট কে দিচ্ছে? সে জানতে পারলে তার ছাল ছিড়ে নেবে। ঠিক সেদিনই অমল নিবেদিতার কাছে আত্মসমার্পন করে। কলেজ শেষে নিবেদিতাকে রাস্তায় আটকে দাঁড়ায়। মাথা নিচু করে একটি চিরকুট হাতে ধড়িয়ে দেয়। নিবেদিতা কৌতুহলী চোখে চিরকুটটি হাতে নিয়ে চোখ বুলায়। তাতে লেখা, ‘ ক্ষমা করে দিও আমায় এই বেলায়, আমি বদ্ধউন্মাদ হয়েছি এই নিকৃষ্ট প্রেমখেলায়’




এরপর নিস্তব্ধতা বয়ে যায়। নিবেদিতা ঠাস করে চড় বসায় অমলের গালে। কলেজের সবাই তাকিয়ে থাকে অমলের দিকে। নিবেদিতা হাটতে হাটতে চলে যায়। অমলের গাল বেয়ে চোখের জল নামে। সেদিন ছিল মঙ্গলবার।

গভীর রাতে কল্পনায় ডুব শেষে সম্বিত হয় অমল। ঘুমিয়ে পড়ে, সকালে উঠে নিয়ম করে অফিসে রওনা হয় সেদিন। অফিসের যাওয়ার পথে অবশ্য নিবেদিতার সাথে কখনো অমলের দেখা হয় না৷ আজ মঙ্গলবার। আকাশে মেঘ জমেছে আজও। বৃষ্টি নেমেছে সন্ধাবেলায়। অমল বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে। বাসস্ট্যান্ড ফাকা। বাসও আসছে না। নিবেদিতা বসে আছে যাত্রীছাউনির ভিতরে। অমল বাইরে দাঁড়িয়ে ভিজে যাচ্ছে। অমলের মনের গহীনে কালবোশেখের ঝড় শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে গা কাপুনি দিয়ে উঠছে। অমলের চোখ বেয়ে অদ্ভুত কারনে কান্নার জল পড়ছে, সেই জল ভিজে যাচ্ছে বৃষ্টিতে। আজ ভীষণ ইচ্ছে করছে অমল নিবেদিতাকে গিয়ে বলুক, ‘নিবেদিতা তুমি কি এখনও আমায় অপছন্দ করো?’

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
আহমেদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী

আহমেদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী

“যে শহরে বোবার মত ঝুলছে নীরবতা বুকের নদীর ঢেউে জাগে মাছের মত কথা কারা যেন সামনে দাড়ায় সোহাগ ভুলায় তারা ছায়ার মত চমকে মিলায় ছায়ার ...
স্নোপিয়ারসার: ক্লাইমেট বিপর্যস্ত পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বযুদ্ধ, শ্রেণীবৈষম্য

স্নোপিয়ারসার: ক্লাইমেট বিপর্যস্ত পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বযুদ্ধ, শ্রেণীবৈষম্য

খান আলাউদ্দিন পৃথিবীর সময় ও স্থানের ফেব্রিকে, জীবাশ্মে চোখ রাখলে আমরা আবিষ্কার করতে পারি এর ঝঞ্ঝাময় অতীত, গ্রহ, গ্রহাণু ও ধূমকেতুর সাথে এর সংঘর্ষ, টেকটোনিক ...
বৃষ্টি সিম্ফনি

বৃষ্টি সিম্ফনি

আশিক মাহমুদ রিয়াদ মুষলধারে বৃষ্টি নামল। ঝমঝম শব্দ করে বৃষ্টি পড়ছে৷ বৃষ্টি বেগ যেন বাড়ছেই। কখনো দমে যায় আবার কখনো নামে আকাশ ভেঙে৷সাথে পাগল করা ...
কক্সবাজার নিউজঃ বাবার বিরুদ্ধে লড়বেন এই যুবক | কি তার পরিচয়?

কক্সবাজার নিউজঃ বাবার বিরুদ্ধে লড়বেন এই যুবক | কি তার পরিচয়?

এবার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ার কথা জানালেন এক ব্যক্তি। সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কক্সবাজারে আলোচিত সাংসদ বদির বিরুদ্ধে লড়বেন তার ...
এখন আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না

এখন আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না

জোবায়ের মিলন এখন আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না মেজর সিনহার ঘটনায় চাঁদ অার সূর্য বাতিল করলো কফির অাড্ডা বন্যায় অাগত জলে শিশুরা ভাসাল নৌকা কিছু ...
লুঙ্গি পড়েছেন বিয়ার গ্রিলস? কি বলছেন বাঙালি নেটিজেনরা?

লুঙ্গি পড়েছেন বিয়ার গ্রিলস? কি বলছেন বাঙালি নেটিজেনরা?

ছাইলিপি.কম ডেস্ক / ২৮.০৮.২০২২ উপমহাদেশের সবথেকে স্বাচ্ছন্দের পোশাক লুঙ্গি। বাংলাদেশের কচি-কাচা থেকে শুরু করে বয়জেষ্ঠ মানুষ লুঙ্গি পড়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এর সূচনা হয়েছে ...