পূর্ণবিন্দু

পূর্ণবিন্দু

আশিক মাহমুদ রিয়াদ

শীতের সকাল; দুই বন্ধু কলেজে যাবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। উদ্দেশ্য রুপা আসবে, তারপরে তারা রূপার পিছনে পিছনে যাবে। আবির রসুকে বলছে, “কিরে রূপা কই? আসতেছে না কেন?”

রসু: আরে চাতক পাখি, তুমি এত যদি করো ডাকাডাকি, বসিয়া করো সবুর, কারণ সবুরে ফলে মেওয়া। মিউ মিউ!।

আবির: ফাইজলামি শুরু করতাসোস? প্রেমে পড়লাম আমি, কবি হইলি তুই। এডা কেমন কথা?

রসু; একটা যাদু দেখবি? (আবিরের মেজাজ বিরক্ত। সে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে রূপার জন্য কিন্তু রূপা আসছে না। তাই সে কিছুটা বিরক্ত হয়ে রসুর ওপরে চরাও হতে যাবে ঠিক এমন সময় রসু বললো, এইই রূপা আসতেছে (গলায় স্বর নিচু করে।)। আবির কলার শার্ট পরিপাটি করে, চুল গুলো ঠেলে রূপার জন্য দাঁড়ায়।

পিছনে রসুর ফিসফিস, এই যে দ্যাখো ম্যাজিক বন্ধু।

আবির রূপাকে বিমোহিত হয়ে দেখতে দেখতে কিছুটা নেতিয়ে পড়তে যাবে এমন সময় রসু ধরে ফেলে। এক ঢোক গিলে আবির বলে; ও কি মানুষ রে দোস্ত? নাকি বেহেশতের হুর? ওরে দেখলেই আমার অন্তর ঠান্ডা হইয়া যায় রে।

[আবিরের চেয়ে রূপা তিন ক্লাসের বড়। আবির সবে মাত্র এসএসসি পরিক্ষা দিতে গেলেও রূপা এখন পড়ে কলেজে।]

আবিরের মা আবিরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলছে, “সারাদিন তো লেখাপড়ার নাম নেই। খালি ঘুরাঘুর, বলি পরিক্ষা যে আর এক মাস পড় সেই খবর মাথায় আছে?” আমির মায়ের দিকে ফিরেই বলে, ‘মা একটা প্রবাদ আছে জানো তো, যার বিয়া তার খোঁজ নাই, পাড়াপড়শির খবর নাই’ আবিরের মা আবিরের কান টেনে বলে, “এই বয়সে বিয়ার প্রবাদ আমার শুনোন লাগতো না, পড়ায় মন বসা। সারাদিন শুধু ফড়িঙ্গের মতো ঘুরাঘুরি’

আবিরের মা তার রুম থেকে চলে গেলেও আবির কিন্তু পড়ে না, কল্পনায় ভাবে রূপার কথা।

[আবিরের হাতে একটি গোলাপ ফুল। গোলাপ ফুলটি সে রূপাদের বাগান থেকে এনেছে দুপুরে। কারণ এই গোলাপের ঘ্রাণ নিয়েছিলো রূপা। ব্যাকগ্রাউন্ডে রূপার জন্য তার মনের কথা।]

-“আচ্ছা রুপা। তুমি এত সুন্দর হলে কিভাবে?”
– বা’রে সুন্দর হয়ে বুঝি দোষ করেছি?
– হ্যাঁ! অবশ্যই দোষ করেছো। আমার মন কেড়ে নিয়েছো। হৃদয়ের গহীনে অপার্থিব এক অনুভূতির সৃষ্টি করেছো।

-‘উহ!’ আদিখ্যেতা!

(এসব কথোপকথন হয় কল্পনায়)।

একটি পুরনো দেয়াল। সেই দেয়ালের সাথে গা ঘেসে আছে রূপা। আবির রূপার দিকে এক পা দু’পা করে এগিয়ে যায়। রূপা দৌড় দেয় (স্লো মোশনে) রূপার খোপা নেঁচে ওঠে। রূপার পড়নে লাল শাড়ী। চুলে রজনীগন্ধা ফুল নেচে উঠে খোপা। একটি দরজা পেড়িয়ে এমন এক জায়গায় আসে, আবির শুনতে পায় পিছন থেকে তার বাবা ডাকছে গম্ভীর গলায়, আবির, আবির। এই আবিইইর!
কল্পনা করতে করতে কখন যে টেবিলে বইয়ের ওপর মাথা দিয়ে খানিক ঘুমিয়ে পড়েছিলো টের পায়।

-পড়া রেখে তুমি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলে নাকি? পরিক্ষার আর কতদিন দেরী? (গম্ভীর গলায় বলে আবিরের বাবা)

– না……মানে…..আম….

(আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে যাবে আবির। অমনি তার বাবা কর্কশ গলায় ধমক দেয়।)

-তোমার পড়ালেখার পিছনে আমার ব্যয় কত তুমি জানো? তাও তুমি পড়ালেখা না করে সারাদিন টৈ টৈ করে ঘুরবে। আর সন্ধ্যা হলে বই খুলে তারওপর মাথা রেখে উপর নাক ডেকে ঘুম। পেয়েছো টা কি তুমি? তার চেয়ে বলো তোমাকে এখনই একটা রিক্সা কিনে দেই। তাতে আমারও কিছুটা উপকার হলো। (বলে আবিরের বাবা)

ঘরে আবিরের মায়ের পদার্পণ। তিনিও ছেলেকে কিছুটা ধমক দিতে যাবে, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তা আর দেন না। তিনি আবিরের বাবার কাছে বলেন, ও গো বলি কি শোন। ওকে দোতালার আনিস সাহেবের মেয়ের কাছে পড়তে পাঠাই। মেয়েটা খুব ভালো। ব্রিলিয়ান্ট! এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিলো।

(এ কথা শুনে আবিরের চোখে মুখে আবারও প্রানচঞ্চলতা ফিরে আসে। সে এক প্রকার মহাখুশী।)

*

পরের দিন আবির আবারও রূপার পিছু নিয়েছে। রূপকে দেখতে দেখতে আবির একটি ল্যাম্পোস্টের সাথে বাড়ি খেয়ে আবারও চিৎপটাং। আবারও রূপা আসে, এ ছাড়াও রূপা বাড়ির ব্যালকনিতে কাপড় শোকা দিতে আসে+, আবির তা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে। (রূপার কিছু মিষ্টি এক্সপ্রেশন)

আবির পড়ছে রূপার কাছে। রূপা তার পড়ায় মনোযোগী। এদিকে আবির পড়ছে না, সে তাকিয়ে আছে রূপার দিকে। রূপার পড়ার মনযোগ সরিয়ে সে চোখ ফেলে আবিরের দিকে। আবিরের হৃদয়ে অদ্ভুত এক অনুভূতির সঞ্চার হয়। যার জন্য আবির মোটেও প্রস্তুত ছিল না।

রূপা কঠিন গলায় বললো, “পড়ছো না কেন? আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে পাশ করবে কিভাবে?” আর এই পিচ্চি ছেলে? “এতটুকু হয়েও রাস্তায় আমাকে ফলো করো কেন?” তুমি আমার কাছে পড়তে আসছো নাকি আব্বা আম্মা পাঠাইসে?

আবির কাচুমাচু খেয়ে বলে, “আব্বা আম্মা পাঠাইসে”

-তো পাঠাইসে যখন তখন পড় না কেন? তারপর যখন ফেল করবে তখন আবার তোমার বাবা*মা বলবে ছেলেকে শখ করে রূপার কাছে পড়তে দিয়েছি। তারপরেও ছেলে কেন ফেল করলো? (রূপা কঠিন কঠিন কথা বলে। যার জন্য আবিরের কিছুটা হলেও মন খারাপ হয়ে যায়।)

দেখি, খাতা দাও।

রূপা আবিরকে পড়া বুঝিয়ে দেয়। পড়া বুঝতে বুঝতে সে তাকিয়ে থাকে রূপার দিকে। এভাবেই চলে কয়েকদিন। [ ধীরে ধীরে রুপার কাছে পড়া বুঝতে থাকে আবির। মাঝেমধ্যে আবিরকে কয়েকটি কানমলাও দেয় রূপা। রূপা কিছুক্ষণ হাসে, আবির মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে।]

 

এভাবেই কেটে যায় ভালো অনুভূতির দৃশ্যপট।

সবাই ফোনে কি যেন দেখছে। আবিরের দিকে তাকাচ্ছে। ফিসফিস করে বলছে, ‘হ’ হ এই মেয়ে তো ওদের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দেখ দেখ, কেমন করে! উফফফ! আবির তাদের কাছে এগিয়ে যায়। ‘কৌতুহুলী দৃষ্টিতে ওদের বলে, কি দেখছিস? সে ফোনটা থাবা মেরে নিয়ে যা দেখে তাতে অবাক হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ফোণটা ধরে মাটিতে আছাড় মারে। কে করছে এই কাজ? সবাই হাসে!

আবিরের হাতে স্ট্যাম্প। সে উদ্ভ্রান্ত হয়ে মাড়তে যাচ্ছে কাউকে। কলেজের করিডোর পেরিয়ে একটি রুমের ভেতরে ঢুকলো। সেখানে কয়েকজন ছেলে আড্ডা দিচ্ছিলো। সেখান থেকে একটি ছেলের কলার ধরে মাটিতে আছাড়ে ফেলে তারপর স্ট্যাম্প দিয়ে সপাটে বাড়ি। ছেলেটির সাথে থাকা বন্ধুরাও আবিরকে মারতে উঠলে। আবিরের বন্ধুরাও ক্লাসের ভেতরে ঢুকে।

(আবির ছেলেটিকে মারার কারণ, ছেলেটি বেশ কয়েকদিন রূপাকে উত্ত্যাক্ত করতো। রাস্তাঘাটে বাইক নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে রুপাকে আজেবাজে কথা বলতো। রূপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। কিন্তু রুপা তা অগ্রাহ্য করলে রুপার ছবি দিয়ে ডিপফেইক প্রযুক্তির সাহায্যে রূপার স্ক্যান্ডাল বানায়। যা মুহুর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পরে নেট দুনিয়ায়।)

রূপা কাঁদছে জানলার পাশে বসে। তার চুল উড়ছে সুক্ষ বাতাসে।

শালিসি বসেছে।

-‘উনার মাইয়ায় যদি নিজের শইল্যের ভিডিও জুয়ান জুয়ান পোলাগো কাছে পাডায়। তাইলে তা ছড়াইবো না? আমার পোলার উপরে বিশ্বাস আছে। সে একটা ভালো ফ্যামিলির পোলা হইয়া এমন আকাম কখনোই করতে পারে না, বলে নোমানের বাবা।

(রূপার বাবা খুবই নরম স্বভাবের মানুষ। সে মেয়ের নামে এমন অশ্লীল ও বানোয়াট কথা শুনে হতভম্বের মতো বসে থাকে।

অপরদিকে উত্তেজিত হয়ে ওঠে আবিরের বাবা। ‘মুখ সামলাইয়া কথা বলেন ইদ্রিস মিয়া। আপনে আর আপনার কু’জাত পোলা যে কত ভালো তা এই গেরামের মানুষ ভালো কইরাই জানে।

এই নিয়ে কথাকাটাকাটির পরে একসময় শালিসদার বলে,

– ইদ্রিস মিয়ার ছেলে যে এই কাজ করেছে তার কী প্রমাণ আছে?

আবিরের বাবার উদ্দ্যেশ্যে শালিসদার বলে, “আজাদ সাহেব আপনার ছেলে কেন ইদ্রিস মিয়ার পোলারে পিটাইলো?

নোমানের বাবা ইদ্রিস মিয়া লাফ দিয়ে উঠে বলে, ‘হ হ! উনার মতো উনার পোলাও কুজাত। নেশা কইরা ব্যাড়ায়, আমার পোলাডারে মাইরা আধমরা বানাইয়া দিসে। সেই চিকিৎসার খরচ ভালোয় ভালোয় উনি দিয়া দিক। নাইলে আমি উনার নামে মান হানির মামলা করুম।

এরপর ঝামেলা যখন চরমে। ঠিক তখনই পুলিশ আসে। পুলিশ হাতকড়া দিয়ে নোমানকে ধরে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শালিসদার বলেন, ‘কি খবর ওসি সাহেব? ওসি বলেন, এই ছেলের নামে থানায় অভি্যোগ আছে। সাথে প্রমাণও আছে। একজন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তার নাম আমরা প্রকাশ করছি না। তবে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।

 

২.

বাড়ির গেইট দিয়ে ঢোকার সময় আবিরের বাবা রূপার বাবাকে বলছে,

-মিয়া ভাই এত নরম মানুষ হইলে হয় না। আপনার কথা বলার দরকার ছিলো। আপনি কি ভয় পাইতে ছিলেন? আপনে থাকেন আমার বাড়িতে, স্থানীয় নয় তো কি হইসে?

– আসলে ভাই। রূপা আমার মেয়ে নয়। রূপার বাবা ও মা দু’জনই একটি এক্সিডেন্টে মারা যান। সেই ৪ বছর বয়স থেকে রুপা আমার কাছে। আমাদের সন্তানের আগেও রুপা আমাদের কাছে। আমরা ওকে নিজের মেয়ের মতোই মানুষ করেছি। কোথাও কোন কমতি রাখিনি।

রূপার মা দৌড়ে আসে, পিছনে আবিরের মা। ওগো, রুপাকে সকাল থেকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চললো। এখনো মেয়েটা এলো না। কোথায় গেলো? আমার খুব চিন্তা লাগছে।

-রূপার বাবা হতভম্ব হয়ে পড়ে। কি বলো কোথায় গেলো মেয়েটা?

আবিরের বাবা বলেন, আছে হয়তো কোন বান্ধবীর বাড়িতে। চলে আসবে টেনশন নিয়েন না ভাবি। ভাই চলেন আমরা একটু খোঁজ করি।

হঠাৎ করেই উধাও রুপা। তাকে আর পাওয়া যায় না। সে কোথায় গেলো কেউ জানে না। এভাবে দিন কেটে যায়, সপ্তাহ কেটে যায়। আবিরের মন বিষন্য হয়ে পড়ে। থানা পুলিশ করে সবজায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না রূপাকে।

এক তরুণ গার্লস গ্রুপের ছবি তুলছে। সে নায়কের মতো অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বাইক থেকে নেমে। তারপর বলে, ‘আপু আপনারা কত জন আছেন?’ মেয়েটি বলে, আমরা চারজন ভাইয়া।

‘ও মাই গড’ বলেই একটি মেয়ের হাস্যজ্বল কিছু ছবি তোলে আবির। মেয়েটির চেহারায় বুদ হয়ে যায় ফটোগ্রাফার। সেই মেয়েটির হাস্যজ্বল থেকে কঠিন মুখও ধরাপড়ে ক্যামেরায়।

ও শিট এই যে, আপনি আমার অনুমতি না নিয়ে আমার ছবি তুললেন কেন?

(পাশে দাঁড়ানো মেয়েটি ফিসফিস করে বলে, প্রীতি তুই কি ভুলে গিয়েছিস? উনি আমাদের ফটোগ্রাফার।)

প্রীতি তার ভুল বুঝতে পেরে বলে, “ওহ! এক্সট্রিমলি সরি ভাইয়া।

এরপর ছবিতোলা শুরু হয়। ছবির মাজখানে কিছু পথ শিশু এসে আবিরকে বলে, ‘ভাইয়া আমরার তিন বন্ধু। আমাদের একটা ছবি তুলে দেন না?’

আবির ক্যামেরার লেন্স থেকে চোখ সরিয়ে তাদের দিকে তাকায়। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। এরপর বলে, ‘তোদের ভালো ছবি তোলার আগে। তোদের ভালো জামাকাপড় তো দরকার। এরপর আবির মেয়েদের ডেকে বলে, আসলে আমি আজকে আপনাদের ফটোগ্রাফটা শেষ করতে পারছি না। এক্সট্রিমলি সরি। ওরা আসলে আমার কাছে আবদার করেছে।

(একটি মেয়ে কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময়ে প্রীতি তাদের খোঁচা দিয়ে বলে,

– আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে আজকে সারাদিন আমরা আপনার সাথে ঘুরবো। একটু কোমল গলায় কানের পাশ থেকে চুল সরিয়ে প্রীতি বলে, আসলে আজকে আমার জন্মদিন। আমিও ওদের জন্য কিছু কন্ট্রিবিউশান করতে চাই। আপনি না হয় অন্য কোনদিন আমাদের ছবি তুলে দিয়েন।) [প্রীতির ডায়লগ]

এরপর মেয়েটির সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে আবিরের।

লেকের পাড়ের দৃশ্যঃ (কিছুদিন পরের ঘটনা।)

প্রীতি ক্রাশ খেয়ছে আবিরের ওপর সেদিন থেকেই। সে আমতা আমতা করে আবিরকে পটিয়ে নিতে চায়। তবে আবিরকে সে এক্ষুণি বলতে চায় না সে আবিরকে পছন্দ করে।

প্রীতি বলে, ‘আচ্ছা আপনি যে আমার সাথে ঘুরছেন। এতে আপনার গার্লফ্রেন্ড রাগ করবে না?”

আবির অদ্ভুত দৃষ্টিতে প্রীতির দিকে তাকিয়ে, তারপর গুণে গুনে দুই পা সামনে আগায়।

প্রীতি বলে, ‘আরে আরে আরে আপনি সামনে গেলেন যে?’

আবির বলে, এই যে তুমি বললে তোমার সাথে হাটলে আমার গার্লফ্রেন্ড রাগ করবে।

প্রীতি দু’ পিছন থেকে সামনে এসে বলে। করলেও তো করতে পারে।

আবির ফিসফিস করে বলে, ‘গার্লফ্রেন্ডের খবর নাই! এই মেয়ে আসছে গার্লফ্রেন্ডের খবর নিয়ে।

প্রীতি বলে, ‘কিছু বললেন?”

আবির- না মানে, গার্লফ্রেন্ড থাকলে তো রাগ করবে?

প্রীতি- মানে আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই? তার মানে সিঙ্গেল?

আবির- নাহ নেই! সিঙ্গেল

প্রীতি হ্যান্ড শেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় আবিরের দিকে। ‘আমিও সিঙ্গেল’

আবির ভাব নিয়ে বলে- আপনিও সিঙ্গেল তাতে আমার কি?

প্রীতি বলে, নামে মানে আপনিও বললেন না যে সিঙ্গেল। আমিও তাই। তাই আরকি হ্যান্ডশেক করলাম।

আবির হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রীতিও হ্যান্ড শেক করে।

(এরপর রোমান্টিক একটি গান) অন্য আরেকদিনের ঘটনা। আবির প্রীতির ছবি তুলে দিচ্ছে। কিন্তু প্রীতির সেদিকে খেয়াল নেই। প্রীতি অন্যমনস্ক।

আবির একপ্রকার রাগী হয়ে শীতল গলায় প্রীতির কাছে এসে বলে, প্রীতি কি হয়েছে আপনার? মন খারাপ? বয়ফ্রেন্ড বকা দিয়েছে?

প্রীতি কিছু বলে না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
তাহলে মন খারাপই যখন। তখন ছবিই কেন তুলতে এলেন? চলেন আইসক্রিম খাওয়া যাক।
প্রীতি বলে, “আসলে আমি তোমাকে সেদিনই চিনতে পেরেছিলাম। কিন্তু কোথাও একটা সন্দেহ ছিলো। আমি রুপা আপুকে ছবি পাঠালাম। সে জানালো। এই আবির আর ওয়াপদা কলোনির আবিরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যে আবির রূপা আপুকে ভীষণ পছন্দ করতো”
আবির বলে, “রূপা কোথায়? ও কেমন আছে?”
-ভালো
-“আসলে রূপা আপুকে কিছুদিন পরেই পাওয়া যায় দাদুবাড়িতে। আমার বাবা খুব নরম মনের মানুষ। সে আর ঝামেলা চায় না দেখে ওখান থেকে বদলি হয়ে চলে আসে”

রূপা আপুর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সে কানাডাতে আছে।

(প্রীতিকে দেখানোর জন্য সেই পুরনো দৃশ্যে ফিরে যেতে হবে। যেখানে প্রীতি ছোট, আবিরের পাশাপাশি টেবিলে পড়ছে।রূপা পড়াচ্ছে।)

প্রীতি এই ঘটনা বলার পরে কেমন একটা মুষড়ে যায়।

তারা একটি লেক/নদীর পাড়ে যায়। আবির হাসিমুখে বলে, আসলে ছোটবেলা রূপাকে ভীষণ পছন্দ করতাম। সেদিন থেকে মনের ভেতরে একটা বাজে অবস্থা চলছিলো। ভাবতাম আমার জন্যেই এমনটা হয়েছে। আমি যদি পাগলামি করে নোমানকে না মারতাম তাহলে হয়ত….(প্রীতি আবিরকে থামিয়ে বলে। তুমি ঠিক কাজটিই করেছিলে। রূপা আপু তোমাকে ভালোবাসতো ঠিকই কিন্তু ছোট ভাই হিসেবে। তবে তুমি যে তাকে পছন্দ করতে সেটি সেও জানতো। ) আবির কিছু না বলেই দাঁড়িয়ে থাকে।

-প্রীতি বলে, তুমি কি এখনো রূপা আপুকে ভালোবাসো?

আবির থতমত খায়, না মানে আম……প্রীতি অভিমানের সুরে বলে, তুমি হয়তো এখনো তাকে ভালোবাসতে পারো যেদিন তুমি নোমানকে মারলে সেদিনের পর থেকে আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু সেদিন বাচ্চাদের জন্য তোমার মধ্যে যে উদারতা আমি দেখেছি। তাতে আমি তোমাকে নতুন করে আরও ভালোবেসে ফেলেছি।

আবির কিছু বলে না। এক হাত গুজিয়ে মাথায় আরেক হাত নিজের কপালে দেয়। সোজা রাস্তায় হাঁটতে থাকে। প্রীতি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুদূর হেটে যাওয়ার পরে আবির পিছনের দিকে তাকিয়ে ডেকে বলে, এই পিচ্চি মেয়ে? “ভালো যখন বেসেই ফেলেছো তখন ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? এসো (হাত দিয়ে ইশারায় ডাকে)। প্রীতি দৌড়ে গিয়ে আবিরের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে।

সমাপ্ত….

 

প্রিয় পাঠক, এটি মূলত এই লেখকের লেখা একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট। যেটিকে গল্পে রূপান্তর করা হয়েছে।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
শেষ চিঠি | আরিফুর রহমান রাজু   

শেষ চিঠি | আরিফুর রহমান রাজু   

|আরিফুর রহমান রাজু       জানাটা কি খুব দরকার? তবেই ভালো আছি। শেষ বেলায় মায়া বাড়িয়ে আরও সুখ অনুভব করছো কি? তবে বাড়াও। ঠিক কতটুকু ...
ভালোবাসার গল্প - মেঘছন্দ

ভালোবাসার গল্প – মেঘছন্দ

আশিক মাহমুদ রিয়াদ   মাথার মধ্যে একধরনের ভোঁতা যন্ত্রণা। জুন মাসের ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি-বাদলের দেখা নেই এমন একটা অবস্থা। অসহ্য গরমের মধ্যে  সিগারেট ধরতে ইচ্ছে করছে। ...
কলম-কথা -মহীতোষ গায়েন

কলম-কথা -মহীতোষ গায়েন

 মহীতোষ গায়েন   যেদিন থেকে কলম ধরেছি,বলিনি হাজার কষ্ট দু:খগুলো চাপা পড়েছিলো কালি হয়েছিল নষ্ট, বুঝিনি সেদিন,বুঝিনি মানুষ কেন অবিরত কাঁদে; কেন অসহায় দীনদরিদ্র পড়ে ...
বন্ধু

বন্ধু

জান্নাতুল ফেরদৌসবন্ধুত্ব আকাশে ডানা মেলে নির্ভাবনায় উড়ে বেড়ানোর মতো। বন্ধুত্ব বেশামাল হয়ে লেপ্টে থাকার মতো। বন্ধুত্ব আসলে বেহিসেবী হয়ে শত কাজের ভীড়েও আগলে রাখার মতো। বন্ধুত্বের অনুভূতি গুলো ...
নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রায়শ্চিত্ত কবিতা আবৃত্তি

নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রায়শ্চিত্ত কবিতা আবৃত্তি

তাসলিমা নাসরিন আমি যদি চতুর সুদর্শনা তুমি দাদা আস্ত একটা চাঁদ । চুরি করে দেখলে আকাশ—দেখি জোছনায় হৃদয় কেমন নাচে । তুমি যদি আস্ত একটা ...
শরৎ এলো

শরৎ এলো

ফেরদৌসী খানম রীনা শরৎ এলো প্রকৃতির মাঝে যেন রানীর বেশে, স্নিগ্ধ আবেশ ছড়ালো সোনার বাংলাদেশে। ভোর বেলা শিশির কণার মুক্ত ঝড়ানো হাসি, কি যে অপরূপ ...