ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর [পর্ব-০৫]

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর [পর্ব-০৫]

পার্থ সারথি

স্লিপটা পাঠিয়ে সৈকত ওয়েটিং রুমে বসে আছে। পাশে আরও কয়েকজন বসে আছেন। এক ভদ্রলোক বসে আছেন। আরেক ভদ্রলোক স্ত্রী এবং বাচ্চাসহ অপেক্ষায় আছেন। প্রথম ভদ্রলোকটি সৈকতকে বারবার আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে। সৈকত বেশ বিব্রতবোধ করছে। একবার ভাবল উঠে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করবে। কিন্তু সৈকতের উঠা একদম ভালো লাগে না। কেমন অবলা অবলা মনে হয় নিজেকে। সৈকত চুপচাপ বসে আছে। কারও দিকে তাকেচ্ছে না। গন্তব্যহীন দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে শুধু। গন্তব্যহীন দৃষ্টিতে এদিক- ওদিক তাকাচ্ছে অথবা তাকিয়ে আছে একদিকে আর মনটা পড়ে আছে অন্য কোথাও।

হঠাৎ বাইরে তাকাতেই রুচিরাকে দেখতে পেল। রুচিরা গেস্ট রুমের দিকেই এগিয়ে আসছে। সৈকত উঠে রুমের বাইরে চলে আসে। তারপর ওরা হল গেটের বাইরে বেরিয়ে আসে।

রুচিরা হালকা সাজগোজ করে এসেছে। সৈকত তাকিয়ে দেখছে রুচিরাকে আর মিটিমিটি হাসছে।

রুচিরা জিজ্ঞেস না করে পারল না- কী ব্যাপার! অমনভাবে তাকিয়ে দেখছটা কী?

আপনাকে।

আমাকে ওভাবে দেখার কী আছে?

দেখছি আপনি ইদানীং কিছুটা সাজগোজ করেন।

করতে হয়, তাই।

করতে হয় মানে!

অফিসের হালকা অর্ডার।

সাজলে আপনাকে বেশ লাগে। কথাটা বলে সৈকত অন্যদিকে তাকায়। রুচিরা কোন কথা বলে না। মুচকি মুচকি হাসে।

সৈকত প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলে আপনার কাছে এসেছি একটা বিশেষ কাজে। আপনার কি বিশেষ কোন কাজ আছে এখন।

আপাতত নেই। তাছাড়া আমি অফিসে যাওয়ার প্রস্ততি নিয়েই বেরিয়েছি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রুচিরা আবার বলে এখন মাত্র এগারোটা বাজে। হাতে অনেক সময়। অবশ্য তোমার কাজটা শেষে লাইব্রেরিতে ঢুকব। লাইব্রেরি থেকে অফিসে যাব।

রুচিরাকে নিয়ে সৈকত পাবলিক লাইব্রেরিতে এল। তারপর সৈকত বলল রুচিদি, পারমিতার ওখানে ফোন করতে হবে।

অবাক হয়ে রুচিরা বলে এর জন্যই কি আমাকে এনেছ?

গতকাল জরুরি তলবে পারমিতা বাসায় গিয়েছে। আমাকে নিষেধ করে গেছে যেনো ফোন  না করি।

কেন, কী ব্যাপার? হঠাৎ জরুরী তলব?

কিছুই জানতে পারলাম না। তাই গতরাতটা খুবই উৎকণ্ঠায় কেটেছে।

কয়েন ঢুকিয়ে রুচিরা নম্বর ঘুরায়। পরপর ৫ বার রিং হবার পর মহিলা কণ্ঠ- হ্যালো, আপনি কে বলছেন?

আমি রুচিরা বলছি।

রুচিরা? আপনি কাকে চাচ্ছেন?

রুচিরা প্রথমে খেয়াল বুঝতে পারে নি যে কণ্ঠস্বরটা দিদির নয়। তারপর বলে আমি পারমিতার বান্ধবী। প্লিজ পারমিতাকে একটু দিবেন?

আমি পারমিতার মা।

নমস্কার মাসিমা। আপনি কোন দিন এসেছেন?

গতকালই এলাম। তোর বান্ধবী রুচিরা । শেষ কথাটা উচ্চারণ শেষে বলল নাও তোমার বান্ধবীর সাথে কথা বল।

ওপার থেকে পারমিতা বলে- হ্যালো।

কী ব্যাপার বাসায় হঠাৎ জরুরী তলব হলো যে?

দিদির বাচ্চা হয়েছে।

রুচিরা খুশি হয়ে বলে- তাই নাকি? দিদি ভালো আছেন তো? নরম্যাল না কি সিজারিয়ান।

সিজারিয়ান। দিদি এখনও হাসপাতালে আছে। সম্ভবত কয়েকদিন থাকতে হবে।- পারমিতা বলে।

আজ দিদিকে দেখতে যেতে পারছি না। আগামীকাল অবশ্যই আসব।

আরও কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলে তারপর শেষে বলল সৈকতের সাথে কথা বল। টেলিফোনটা করা হচ্ছে কয়েন বক্স থেকে। পাশে একটা লোক শুরু থেকেই টেলিফোনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সৈকত আবার কয়েন ঢুকাল। লোকটা বুঝতে পারল যে একটু দেরি হবে। লোকটা আড়চোখে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে চলে গলে। রিসিভার নিয়ে সৈকত প্রথমে কথা বলে – হ্যালো।

হ্যাঁ বলছি। পারমিতার কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন একটু খ্যাশখেশে শোনায়।

সৈকত জিজ্ঞেস করে কী ব্যাপার তোমার কণ্ঠস্বর টা এমন শোনাচ্ছে কেন?

গত রাত ফ্রিজের জল একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। তাই একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লেগে আছে।

ভাগনী হলো না কি ভাগনে?- সৈকত জানতে চায়।

ভাগনী হয়েছে। খুশি হওনি?

অবশ্যই। খুশি হব না মানে! দিদি এখন কেমন আছেন?

ভালো। তবে দিদির ওপর খুব ধকল গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিজারই করতে হলো। দিদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোন কাজ করতে দিও না। দিদিকে বিশ্রামে রেখো।

পারমিতা শুধু বলে- হু।

অবশ্যই একদিন আমি বঞ্চিত হবো।

কী রকম?

এই ধর, তোমাকে কাছে পেলে আমার মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে। আর যদি অল্পক্ষণের জন্য কাছে না পাই তবে মনে হয় যুগ যুগ ধরে দেখা নেই। তোমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে মনটা চঞ্চলা হরিণীর মত ছটফট করে।

ওপার থেকে পারমিতা কোন কথা বলছে না। কারণ মা কাছাকাছিই বসে আছেন। পারমিতা শুধু শুনে যাচ্ছে, আর হু, হ্যাঁ করছে।

সৈকত বুঝতে পেরেছে এই ফাঁকে একটু দুষ্টুমি করা যাবে। পারমিতা কিছুই বলতে পারবে না। রুচিরা সৈকতের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।

তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে পারমিতা?

কী করে বুঝলে?

নিশ্চয়ই এলোমেলো চুলে আছো? ঠোঁটে লিপস্টিক রঙ নেই? এভাবে তোমাকে কোনদিন দেখিনি।

কোনটাই ঠিক হয়নি। আমি একটু পরই হাসপাতালে যাব।

আমিও আসছি। হাসপাতালের নামটা বল।

সরি হাসপাতাল নয় ক্লিনিকে। এই বলে পারমিতা ক্লিনিকের নাম টা বলে দেয়।

একা আসছো কি? তাহলে আমি জিগাতলার মোড়ে অপেক্ষা করি?

কণ্ঠস্বরটা একটু নামিয়ে পারমিতা বলল আমার মা।

ওই একই আমারও। তোমার হলে, আমার হতে আপত্তি কি? শাশুড়ি মানেই মা।

পারমিতা শব্দহীন হাসি হেসে বলে বেশ কথা বলতে শিখে গেছ।

ওই লোকটা ফোন বক্সের দিকেই আবার এগিয়ে আসছে। সৈকতই প্রথম দেখতে পেল। সৈকত ভাবল লাইনে আর বেশিক্ষণ থাকা উচিত হবে না। শত হলেও পাবলিক বিষয়। ওই লোকটা এসে পৌঁছায় আগ মূহূর্ত পর্যন্ত সৈকত শুধু উচ্চারণ করলে ‘আই লাভ ইউ, পারমিতা। আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ।

পারমিতা শুধু চুপচাপ শুনেই গেল। আর ভেতরে ভেতরে হাসির দমকা হাওয়া ; সুযোগটা পেয়ে সৈকত বেশ করল।

লোকটা কাছকাছি আসতেই সৈকত বলে ‘তাহলে ক্লিনিকেই আসছি। রাখি!- এই বলে হালকা একটা চুমো বসায় রিসিভারে। রিসিভার রেখে পারমিতা একা একা হাসে।

*

সপ্তাহ শেষে ক্লিনিক থেকে দিদি ফিরে আসে। মা এবং সন্তান দু‘জনই বেশ সুস্থ। ওরা আসার পর থেকেই বাসায় আনন্দের বন্যা বইরে চলছে। মা প্রভাময়ী দেবী সবসময় মেয়ে ও নাতনীর কাছে বসে থাকেন। পারমিতা এবার একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিন্তু অভীক মজুমদারের বিষন্ন প্রহর কাটে। কেউ তা খেয়াল না করলেও পারমিতা ঠিকই খেয়াল করেছে। আবার পরক্ষণই ভেবেছে, হয়তো ধকলটা শরীরে একটু বেশিই গিয়েছে তাই এমন দেখাচ্ছে। তবুও মনের ভেতরে কিছু অনির্দিষ্ট প্রশ্ন আনাগোনা করে। কারণ স্ত্রী এবং সন্তান দু‘জনই সুস্থ আছে, দাদাবাবুর মনটাতো প্রফুল্ল থাকার কথা। নাকি মেয়ে হয়েছে বলে সন্তষ্ট নন। পারমিতা প্রশ্নটা আর মনের ভেতর লুকিয়ে রাখতে পারেনি। দাদাবাবুকে জিজ্ঞেস করায় উনি বলেন  ‘কি যে বল-না তুমি, সন্তান সন্তানই। তা ছেলে হোক আর মেয়েই হোক। আমি খুশি, খুবই খুশিই।

পারমিতা আবার প্রশ্ন রাখে তবে দাদাবাবু আপনাকে আমি খুব একটা খুশি হতে দেখি নি ?

এমনি , মনটা ভালো যাচ্ছে না।- অভীক মজুমদার একটু এড়িয়ে যাবার চেষ্টা  করছেন ।

পারমিতা এ ব্যাপার নিয়ে আর কখনও ভাবেনি। নিজস্ব ভুবনে ডুবে গেল। ঝড়ের গতিতে দশ বারোটা দিন কেটে গেল।কিন্তু  অভীক মজুমদারের কাছে একটি দিন যেন একটি মিনিট মনে হচ্ছে।  একটি দিনেই শেষে আরেকটি দিনের আগমন বার্তায় বুকের ভেতর কষ্টগুলো হু, হু করে বেড়ে চলে। এই কষ্ট ভীষণ কষ্ট। সুদেষ্ণার আয়ু আর বড় জোর পনের থেকে বিশ দিন। এ’কথাটা অভীক মজুমদারের বুকে বিষ কাঁটা হয়ে ফুটে। অসহ্য যন্ত্রণায় অভীক মজুমদারের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে। ভেতরে ভেতরে তিনি পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছেন। অথচ মুখে কোনদিন এই কষ্টের আঙিনায় কাউকে টেনে আনেন নি। প্রতি রাতে শব্দহীন কান্নায় বুক ভাসান। এই যে পাশে বাচ্চাকে কোলের কাছে রেখে শুয়ে আছেন সে কিছুদিন পর আর থাকবে না। কোন দৈহিক চিহৃ এই পৃথিবীর বুক বিচরণ করবে না। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে অভীক মজুমদারের কণ্ঠ কষ্টে রোধ হয়ে যায়।

খুব কাছাকাছি হয়ে শুয়ে আছেন অভীক মজুমদার। কিছুক্ষণ পরপর স্ত্রীর ঘাড়ে মুখ গুজে দিচ্ছেন। স্ত্রী সুদেষ্ণা সজাগ। ভাবছেন আদরে-সোহাগে স্বামীটি হয়ত এমন করছেন। সুদেষ্ণা চুপচাপ শুয়ে আছেন। এক ফোটা অশ্রু সুদেষ্ণার ঘাড়ে গড়িয়ে পড়ে। পতিত অশ্রুর খবর অভীক মজুমদার জানে না। সুদেষ্ণার হাত পৌঁছে যায় অশ্রু ফোটায়। অবাক হয়ে ফিরে তাকান সুদেষ্ণা। স্বল্প আলোয় কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সুদেষ্ণা জিজ্ঞেস করেন অভীক, তুমি এখনও ঘুমাও নি?

কথা বলার খুব ইচ্ছে হচ্ছে অভীক মজুমদারের। কিন্তু কণ্ঠটা খুলতেই পারছেন না। কেমন যেন অসম্ভব রকম ভারী লাগছে। তাই চুপচাপ শুয়ে আছেন। আর সুদেষ্ণাকে আরও জড়িয়ে ধরেন। এক সময় নিজেকে আর সামলাতে পারেন না অভীক মজুমদার। ডুকরে কেঁদে ওঠেন। সুদেষ্ণা হতবাক হয়ে যান। পরম আদরে অভীক মজুমদারকে বুকের মধ্যে টেনে নেন। তারপর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সুদেষ্ণা জিজ্ঞেস করে – তোমার কী হয়েছে অভীক?

অভীক মজুমদার কান্না থামাতে পারছেন না। বাঁধ-ভাঙা স্রোতের মতো কান্নার ঢেউ বেরিয়ে আসছে।

অভীক, অভীক শান্ত হও। তোমার কী হয়েছে আমাকে বল। এত কষ্ট তুমি বুকের মধ্যে নিয়ে বেড়াচ্ছ অথচ আমাকে কিছুই জানাও নি।

অভীক মজুমদার কথা বলতে পারছেন না। পাশের রুমে পারমিতা একা শুয়েছে। লেখাপড়া করে কিছুক্ষণ আগেই মাত্র শুয়েছে। তন্দ্রাভাব এসে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কান্নার শব্দ কানে পৌঁছতেই উঠে বসল। কান দুটো সর্তক করে বিছানায় বসে রইল। এবার স্পষ্টই শুনতে পেল, দাদাবাবু ডুকরে ডুকরে বাচ্চাদরে মত কাঁদছেন। পারমিতার তো হতবিহ্বল অবস্থা। এগিয়ে যেতে পারছে না বলে পারমিতার আরও কষ্ট হচ্ছে। হাঁটুতে মাথা গুজেঁ চুপচাপ বসে রইল। কিছুক্ষণ পরই কান্না থেমে গেল।

x

খুব কষ্ট করে অভীক মজুমদার নিজেকে সামলালেন। অবশ্য ভেতর জগতটা বিরানভূমি; ভীষণ রকম হাহাকার ওলটপালট করে দিচ্ছে। সুদেষ্ণাকে জড়িয়ে থেকে অনকক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকেন। তারপর কষ্টের নিঃসীম সীমানা পেরিয়ে উচ্চারণ করেন সুদেষ্ণা! আমি কি তোমাকে কোনরকম কষ্ট দিয়েছি?

সুদেষ্ণা বেশ কিছুটা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। তারপর বলেন এতরাতে হঠাৎ এরকম প্রশ্ন করছ? আমি তোমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেছি কি?

না।

তাহলে?

আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে।

তুমি শুধু শুধু আমাকে দুঃখ দিতে যাবে কেন?

আমার মত সুখী মেয়ে কয়টা আছে? মেঘাচ্ছন্ন আকাশের এক চিলতে রোদের মত উজ্জল আভা জড়িয়ে যায় অভীক মজুমদারে মুখমন্ডলে। অবশ্য সুদেষ্ণা তা বুঝতে পারেনি। অভীক মজুমদার ভালোলাগাটুকু শুধু অনুভব করলেন। তারপর বলেন- তুমি সত্যি বলছ তো?

তোমার সাথে আমি কখনও মিথ্যা বলেছি? প্রসঙ্গে পাল্টে অভীক মজুমদার বলেন- এই ক’টা দিন তোমার শরীরে ওপর ঝড় বয়ে গেল। সত্যি খুব কষ্ট হয়, তোমরা মেয়েরা খুব কষ্ট সহ্য করতে পার।

তোমার ভালোবাসার কাছে এসব তুচ্ছ।- সুদেষ্ণা স্বামীর বুকে সোহাগ ঢেলে বললেন।

তুমি এত ভালো কেন সুদেষ্ণা? কণ্ঠস্বরটা আবার অসম্ভব রকম কেঁপে ওঠে। অভীক মজুমদার কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন আই লাভ ইউ, সুদেষ্ণা, আই লাভ ইউ ! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।

কেন, আমি কি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি নাকি? এসব কি বলছো?- সুদেষ্ণা খুবই অবাক হয়।

অভীক মজুমদার চুপচাপ । সুদেষ্ণা শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছেন; অভীক এ’রকম আচরণ করছে কেন? আর অভীক মজুমদার ভাবছেন কয়েকদিনের মধ্যে সুদেষ্ণা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর কোনোদিনই সুদেষ্ণার ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যাবে না। নবাগত শিশুটি হবে মাতৃহারা। মায়ের ভালোবাসাহীন জগতে বেড়ে ওঠবে। ধরে রাখতে পারেনি অভীক মজুমদার নিজেকে।  অবোধ শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠলেন আবার।

পারমিতা এবার চমকে ওঠল। দিদি আবার অসুস্থ হয়ে গেল না কি? অসুস্থ হলে তো দাদাবাবু এসে ডাকতেন। না , অন্য কোন প্রবলেম হবে হয়তো । ঘরের ভেতরই পায়চারি করতে লাগল।

সুদেষ্ণাকে জড়িয়ে থেকে কাঁদতে লাগল- সুদেষ্ণা, আমি তোমাকে যেতে দেব না, আমি তোমাকে যেতে দেব না !

সুদেষ্ণার মনে এবার সন্দেহ জাগে। চুপচাপ চিন্তা করতে থাকেন- আগে অবশ্য মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিত। কিছুক্ষণ থেকে আবার ঠিক হয়ে যেত। কিছদিন যাবৎ মাথাটা কেমন ঝিম ধরে থাকে। আর চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে। সর্বক্ষণ সারাটা শরীর কেমন যেন আলগা আলগা মনে হয়। পুরো শরীরটাই একটা অতিরিক্ত বোঝার মত লাগে। তাহলে কি কোন কঠিন অসুখ বাঁধিয়েছি? আমি তার বিন্দু বিসর্গও জানি না! তাহলে কি আমি ! সুদেষ্ণা আর ভাবতে চায় না। বাচ্চাটাকে কাছে টেনে নিয়ে চুপচাপ থাকে।

গোপনে গোপনে দাদাবাবুকে লক্ষ্য রাখছে পারমিতা । যেন দাদাবাবু বুঝতে না পারে। দেখতে দেখতে অভীক মজুমদার কেমন শুকিয়ে গেছেন এই ক’দিনে। চোখের কোণে জমেছে কালির ছোপ। চোখ দুটো কোটরাগত, চুলে যত্নএ হাত পড়ে না। মোটকথা উদভ্রান্তের মত চলাফেরা করছেন। অথচ বাইরে তা প্রকাশ করছেন না। অফিস ঠিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন। অভীক মজুমদার বোধহয় টের পেয়ে গেছেন যে পারমিতা উনাকে সব সময় লক্ষ্য করছে। তাই পারতঃপক্ষে পারমিতার মুখোমুখি হয় না। দেখতে দেখতে একটা সপ্তাহ চলে গেল। অভীক মজুমদার নিজেকে সামলাতে পারছেন না। কেমন ফুরুৎ ফুরুৎ করে দিনগুলো চলে যাচ্ছে। আর মাত্র ক’টা দিন হাতে। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিয়েছেন। এই ক’টা দিন সুদেষ্ণার সান্নিধ্যে একটু দরকার থাকা খুবই দরকার।

আজ রোববার। অথচ দাদাবাবু অফিসে যাননি। পারমিতা এগিয়ে আসে দাদাবাবুর কাছে। প্রথমে দাদাবাবুই জিজ্ঞেস করে লেখাপড়া কেমন চলছে?

পারমিতা জবাবে বলে মোটামুটি চলছে এই বলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পারমিতা আবার বলে আজ অফিসে গেলেন না?

ছুটি নিয়ে নিয়েছি।

দিদি ক্লিনিক থেকে চলে এল অথচ এখন ছুটি নিচ্ছেন ব্যাপারটা কী?

শরীরটা তেমন ভালো যাচ্ছে না।- কিছু একটা লুকোবার প্রচেষ্টা অভীক মজুমদারের কণ্ঠে।

পারমিতার দৃষ্টিকে এড়াতে পারেন নি। পারমিতা জানতে চায় দাদাবাবু আমার মনে হচ্ছে আপনি আমার কাছে কিছু একটা লুকোবার চেষ্টা করছেন।

অভীক মজুমদারের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরক্ষণইে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন না, না তোমার কাছে কী লুকাব?

দেখুন আমাকে এড়াবার চেষ্টা করবেন না। আপনি একটা কিছু লুকাবার চেষ্টা অবশ্যই করছেন।

বিশ্বাস কর, আমি তোমার কাছে কিছুই লুকাচ্ছি না।

দাদাবাবু আমি ওই রাতে সজাগ ছিলাম। আপনার কান্নাটা আমার কাছে অন্যরকম মনে হয়েছে।

অভীক মজুমদার ভীষণ রকম একটা ধাক্কা খেলেন যেন। তারপর নির্জীব হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। পারমিতা তুমি তোমার রুমে গিয়ে বসো। আমি একটু পরে আসছি। তোমাকে সব খুলে বলবো।- এই বলে  অভীক মজুমদার উঠে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালেন।

পারমিতার নিজের রুমে চলে আসে। অস্থিরভাবে পায়চারী করতে লাগল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই অভীক মজুমদার চলে এলেন। পারমিতা পায়চারি থামিয়ে চেয়ার এগিয়ে দেয় অভীক মজুমদারকে। অভীক মজুমদার চেয়ারটা টেনে বসেন। পারমিতা কাছাকাছি হয়ে খাটের এক কোণে বসে।

আমি ক’দিন ধরেই ভাবছি তোমাকে সব খুলে বলব। কিন্ত বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। কথা বলেন অভীক মজুমদার, কিন্ত দৃষ্টি অন্যদিকে। পারমিতা দাদাবাবুর দিকে তাকায়। কোন কথা বলে না।

সব তোমাকে খুলে বলব। কিন্ত কাউকে বলো না।- অভীক মজুমদার অনুরোধ করেন।

বলার না হলে অবশ্যই গোপন রাখব।- জবাবে পারমিতা বলে।

পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করেন অভীক মজুমদার। একটা সিগারেট মুখে গুজে দিয়ে তাতে আগুন ধরান। লম্বা একখানা টান দিয়ে তারপর ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলেন-  সিজার করানোর পরদিন থেকেই কিন্তু তোমার দিদির অবস্থা ক্রমশ খারাপে দিকে। সব রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষাই ডাক্তারের পরামর্শে করোনা হল। সবকিছুই ঠিক আছে। কিন্তু শেষে ব্লাডে ধরা পড়ে। কিছুক্ষণ থেমে থেমে আবার বলেন ব্লাড টেস্টে দেখা গেল তোমার দিদির ব্লাড ক্যান্সার। আমি উদভ্রান্তের মতো একের পর এক ডাক্তারের কাছে যাই এবং আরও কয়েকবার ব্লাড টেস্ট করাই। সব সময় একই রেজাল্ট আসে।

কথাগুলো শোনার পর পারমিতার সারা শরীর যেন অবশ হয়ে আসে। কথা বলার এতটুকু শক্তি শরীরে নেই। নির্বাক হয়ে বসে আছে। সারা শরীরে অসম্ভব রকমের মৃদু কম্পন শুরু হয়ে গেল। গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কোলের উপর ।

অভীক মজুমদার বলে চলেন এই অসুখের শুরু আরও অনেক আগে থেকেই । তোমার দিদি গোপন করে রেখে গেছে অথবা পাত্তা দেয় নি। এমন সময় রোগটা ধরা পড়ল যখন আর কোন কিছুই করার নেই। তবুও আমার পীড়াপীড়িতে ডাক্তার শেষ পর্যন্ত বলল চেষ্টা করলে বড়জোড় মাস দুয়েক আয়ু বাড়তে পারে কিন্তু  কষ্টের মাত্রাটা এতই হবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না । এবং নিয়ে যেতে হবে বিদেশে । এছাড়া কোনরকম সম্ভবনা নেই। অনর্থক দৌড়াদৌড়ি না করে যতদিন বাঁচবে ততদিন উনাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখুন।শেষ  দিনগুলো উনাকে শান্তিতে থাকতে দিন।তোমার দিদির প্রতি আমার ভালোবাসাটুকুই সম্বল। ভালো চিকিৎসা করিয়ে তোমার দিদিকে যে আরও কিছুদিন আগলে রাখব সে সুযোগটুকু আমার নেই। অভীক মজুমদারের কথায় অপরাবোধ ফুটে ওঠল।

পারমিতা এবার নিজেকে একটু সামলে নেয়ার চেষ্টা করল। তারপর সান্ত্বনা দেবার ভঙ্গীতে পারমিতা বলে যা হওয়ার তা তো হবেই। প্রকৃতির ওপর আমাদের হাত নেই। আপনি একথা আর কাউকে বলবেন না। তাহলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যাবে। শেষ সময়টা দিদির অস্থিরতায় কাটবে তাহলে। তা হতে না দেয়াই ভালো। এ সময়টুকু আপনি দিদির কাছাকাছি থাকবেন সর্বক্ষন। আচ্ছা দাদাবাবু, দিদির ব্লাডটা আবার টেস্ট করালে কেমন হয়?

আমিও ভাবছি আরেকবার টেস্টটা করাই। তোমার দিদিকে আর বেশিদিন রাখতে পারব না। বড়জোড় সপ্তাহখানেক। তোমার দিদিকে একটু সময় দিও। জীবনের শেষ মুহুর্তে যেন পূর্ণতায় ভরপুর থাকে।- এই বলে অভীক মজুমদার পারমিতার দিকে তাকায়।

পারমিতা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অভীক মজুমদার পারমিতার মাথায় হাত রেখে বলেন- এভাবে ভেঙ্গে পড়লে তো চলবে না। এখন আমাদের শক্ত হতে হবে। মাকে কিন্ত বলো না।

আর কোন কথা বলতে পারেন নি অভীক মজুমদার। দুঃখ-ভরা বুকে রুমের বাইরে বেরিয়ে আসেন। পারমিতা পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দাদাবাবুর চলে যাওয়ার পথে। আবার রক্ত পরীক্ষা করনো হল। এবার দেখানো হল দেশের সেরা ডাক্তরদের আরেকজনকে। একই বক্তব্য, রোগী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।

এই কথায় জীবনাচলের চঞ্চলতা থমকে আছে। পারমিতা কতক্ষণ পরপর দিদির সান্নিধ্যে যায়। বাচ্চাকে বুকে ধরে কষ্টের নিঃশ্বাসে কিছুক্ষণ সুখ নিতে ব্যর্থ চেষ্টা করে। বরং বাচ্ছাটিকে কোলে নিলে দুঃখ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর বাকিটা সময় রুমের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে। অভীক মজুমদার রুমে চুপচাপ বসে থাকেন আর একটার পর একটা সিগারেট টানেন। সিগারেটের ধোঁয়ার কুগুলী তো নয় যেন দুঃখের কুগুলী ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বময়।

রুচিরা এবং সৈকত এখন প্রায় প্রতিদিনই বাসায় আসে। ওরাও দিদির খরবটা জানে। এসেই দিদির কাছে বসে কিছুক্ষণ। তারপর পারমিতাকে কিছুক্ষণ সান্তনা দেয়া ছাড়া আর কোন কিছুই করার থাকে না। যেদিন ওরা আসতে পারে না সেদিন ফোন করে খোঁজখবর নেয়।

*

পড়ন্ত বিকেল। দিদি বাচ্চাকে কোলে টেনে ঘুমিয়ে আছেন। দাদাবাবু রুমে নেই, অন্য কোন রুমে গেছেন। পারমিতা নিঃশ্বব্দে ঢুকে। দিদির কাছাকাছি এসে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই দিদি বলেন পারমিতা বস, তোর সাথে কিছু কথা আছে। কথাগুলো বলতে দিদির খুবই কষ্ট হয়। দিদির শিয়রের কাছে পারমিতা বসে। দিদির মাথায় হাত রাখে। দিদি চোখ মেলে তাকায় । তারপর একটা হাত বাড়িয়ে দেয় পারমিতার কোলের উপর। পারমিতা দু’হাত চেপে ধরে ব্যাকুল-চিত্তে দিদির দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষে খুব কষ্ট করে উচ্চারণ করে দিদি!

দিদির দু’চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু ফোটা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। চোখ দুটো কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ঠোঁট জোড়া অসম্ভব রকমের শুকনো । জিহব্বা দিয়ে বারবার চেটে ভেজানোর চেষ্টা করছেন। কষ্টের নদী পেরিয়ে দিদির কণ্ঠে বেজে ওঠে পারমিতা, আমার সময় মনে হয় শেষ হয়ে এসেছে।

পারমিতা ভেতর জগৎ কেঁপে ওঠে। কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করেনি। শুধু দিদির হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে থাকে।

শুকনো জিহব্বা শুকনো ঠোঁটে ঘষে দিদি আবার বলে আমার সময় খুবই কম। আমার সন্তান তোর কাছে রেখে যাচ্ছি। নিজের মত করে মানুষ করিস। মায়ের আদরের শূন্যতা যেন না বুঝে। আর তোর দাদাবাবুকে একটু দেখে রাখিস। খুুব ভালো মানুষরে। জীবনে কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না। অথৈ কষ্টে ফেলে স্বার্থপরের মত চলে যাচ্ছি। তোকে আমি অন্যায় আবদারে বেঁধে যেতে চাই না। যতটুকু পারিস তোর দাদাবাবুর জন্যে করিস। কোন রকম ভুল বলে থাকলে আমার ওপর রাগ করিস না।

পারমিতা নিজেকে আর সামলাতে পারে না। দিদির বুকে মাথা গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ে। দিদি তুই অমন কথা বলছিস কেন? তুই ভালো হয়ে ওঠবি। তুই ভালো হয়ে ও… ঠ… বি…।- বলতে বলে পারমিতা ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।

ঘরের ভেতর পা রেখেই কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে অভীক মজুমদার তাকায়। পারমিতা দিদিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। পিছিয়ে নিঃশব্দে চলে এলেন।

মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। অভীক মজুমদার একটার পর একটা সিগারেট টেনেই যাচ্ছেন। আর সুদেষ্ণাহীন দিনগুলোর কথা ভাবছেন। বুকের ভেতর শুধু কষ্ট। চোখ বন্ধ করে চুপচাপ সিগারেট টেনে যাচ্ছেন। হঠাৎ সুদেষ্ণার ক্ষীণ কণ্ঠ কানে এল। অভীক মজুমদারের কাছে কণ্ঠটা অপরিচিতি মনে হল। বুকটা কেঁপে ওঠে অজানা আশঙ্কায়। সিগারেটটা এস্ট্রেতে গুজে সুদেষ্ণার কাছে এগিয়ে যায়। হাতটা নেড়ে সুদেষ্ণা স্বামীকে কাছে ডাকে। অভীক মজুমদার স্ত্রী সুদেষ্ণার পাশে শোয়। সুদেষ্ণা খুব কষ্টে নিজেকে টেনে এনে স্বামীর বুকে মাথাটা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। দু’জনার মাঝে নিঃসীম নীরবতা। ভোর রাতে হঠাৎ করে অভীক মজুমদারের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে দৃষ্টি চলে যায়। আকাশ কিছুটা র্ফসা হয়ে এসেছে। মাঝে মধ্যে দু’একটা কাক কা-কা ডেকে ডেকে নতুন সকালের জানান দিচ্ছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঘরের ভেতর নিয়ে আসেন। হঠাৎ খেয়াল হয় সুদেষ্ণার নিঃশ্বাস কোনরকম স্পর্শ করছে না। পাথর খণ্ডরে মত ঠান্ডা হয়ে বুকের উপর পড়ে আছে। মাথাটা সরাতে গিয়েই টের পেলেন সুদেষ্ণা চলে গেছে দূর, বহুদূর! অভীব মজুমদার মাতৃহীন কন্যার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকান। বুকের ভেতরে এক সমুদ্র গর্জন। কিন্তু কাঁদতে ভুলে গেছেন। সময় যেন থমকে গেছে।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
নিখোঁজ

নিখোঁজ

আশকীন দু বছর সাত মাসের শিশুটি, একমনে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এটা ওটা সরিয়ে কিছু একটা খোঁজাখুঁজি করছে, জিজ্ঞেস করতেই বলে তার প্রিয় খেলনাটা নিখোঁজ। সারা বস্তি ...
ছোটগল্প -  ত্রিকালের চাকা

ছোটগল্প – ত্রিকালের চাকা

পার্থসারথি স্যার, আসসালামু আলাইকুম। কন্ঠটা বেশ পরিচিত মনে হলো। পেছন ফিরে তাকাতেই রিক্সাওয়ালা রফিক মিষ্টি হেসে জিজ্ঞ্যেস করলো- কেমন আছেন স্যার?- মুখে মাস্ক পরে থাকায় ...
প্ল্যানেট নাইন

প্ল্যানেট নাইন

তোফাজ্জল হুসাইন   তোমার প্রেমে পড়ার পর আর কোন কিছুই আগের মত নেই আমার   যখনই তোমাকে দেখি, আমার ভেতর হাইড্রোজেন জ্বলতে থাকে, উৎপন্ন হয় ...
সত্যজিৎ রায় এবং শিল্প জগতে তাঁর নিরন্তর অবদান

সত্যজিৎ রায় এবং শিল্প জগতে তাঁর নিরন্তর অবদান

শিবাশিস মুখোপাধ্যায় সত্যজিৎ রায় এবং শিল্প জগতে তাঁর নিরন্তর অবদান শিবাশিস মুখোপাধ্যায় আজ সর্বকালের অন্যতম কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের 101 তম জন্মবার্ষিকী। শিল্পকলা ও ...
জয়ন্ত মল্লিক এর দুটি কবিতা

জয়ন্ত মল্লিক এর দুটি কবিতা

জয়ন্ত মল্লিক   ১. অপরাজিতা নিষিদ্ধতার উল্লাসে মেতে নিষিক্তের অভিলাষে– নিষ্পাপ ধরিত্রীকে কলঙ্কিত করে; তার উর্বরা গর্ভে রোপিলি  তোর অনুর্বরা বীজ- এক অব্যক্ত চাপা যন্ত্রনা ...
হেমন্তের মায়া

হেমন্তের মায়া

নিশিকান্ত রায় শিশিরের ফুলে কান্নার শব্দ লেগে থাকে রাতের পোশাকেও আলোর সেলাই বিশাল বাজারে কেউ নেই ঘুরেফিরে কায়ায় মোড়ানো এক অনন্তের মায়া। ঝানু সূর্যটাকে ব্যাগ ...