এবার মরু [পর্ব-০৩]

গৌতম সরকার

আমরা ক্রমশ পশ্চিমের দিকে চলেছি, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে সূর্যোদয়ের সময়ও পিছিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। কাল রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ায় মোবাইলে অ্যালার্ম দিইনি, ভেবেছিলাম অনেক আগেই ঘুম ভেঙে যাবে। ঘুম ভাঙল সাড়ে ছটায়, তড়িঘড়ি উঠে জানলা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখি তখনও রাস্তাঘাট শুনশান এবং ঘোর অন্ধকারময়। তৈরি হয়ে বেরোতে বেরোতে সাতটা দশ হয়ে গেল। কাল আসার সময় একটা জায়গা থেকে উঁচুতে সোনার কেল্লার অসাধারণ সিল্যুয়েট দেখেছি, আজ ইচ্ছে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে পৌঁছে ছবিটা ক্যামেরাবন্দি করা। কিন্তু জায়গাটায় পৌঁছব কি করে সেটাই প্রশ্ন! আগে দোকানে এককাপ ধোঁয়া ওঠা চা খেয়ে নিলাম, তারপর লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতে করতে পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত জায়গায়। একটা ছোট পার্কের ভিতরে ঢুকে মনের সুখে ছবি তুললাম। আজ প্রভাতিক ভ্ৰমন সংক্ষিপ্ত ছিল, কারণ ছিল দুটো। এক, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা আর দুই, আজ সিটির সবকিছু দেখে চলে যাবো বিয়াল্লিশ কিলোমিটার দূরের স্যান্ডডিউনস-এ সেখানে আজ আর কাল আমাদের বুকিং আছে আরটিডিসি-র হোটেল ‘সাম ধনি’। আমরা থাকবো টেন্টে। 

[পাটওয়া কি হাভেলি জয়সলমের]

জয়সলমের হোটেল থেকে চেকআউট করতে পৌনে দশটা হয়ে গেল। এখান থেকে বেশ কয়েক লিটার জল তুলে নিলাম। জানিনা বালিয়াড়িতে জল পাবো কিনা, পাবো হয়ত কিন্তু সেই প্রান্তিক অঞ্চলে দাম নিশ্চয়ই অনেক বেশি হবে। তারপর পৌঁছলাম সোনার কেল্লায়। সকালে যে পর্যন্ত গিয়েছিলাম, তারপর কয়েকটা বাঁক পেরোলেই কেল্লার নিচে পৌঁছনো যায়। পার্কিংয়ে গাড়ি ছেড়ে বেশ কিছুটা পথ হেঁটে দূর্গের প্রবেশ দরজা। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কেল্লা। আসলে গোটা কেল্লাটাই একটা শহর। দোকান, বাজার, হোটেল, হাভেলি মিলিয়ে একটা জমজমাট জমায়েত, ফোর্টের অন্দরমহল সবসময় যেন ফুটছে, এত প্রাণবন্ত জনমহল আমি খুব কম দেখেছি। ফোর্টের মধ্যে দ্রষ্টব্য রাজা, রানী আর রাজপুত্রের মহল। উল্টোদিকে লক্ষী নারায়ণ মন্দির আর জৈন মন্দির। লক্ষী নারায়ণ মন্দিরের গলিতেই মুকুল সেই ময়ূরের পিছনে দৌড়েছিল, আর গলি পেরিয়ে এক তস্য গলিতে মুকুলের ভগ্নপ্রাপ্ত বাড়ি আমাদের কাছে একটা ঐতিহাসিক নিদর্শন মনে হল। জয়সলমের-এ তিনটি বিখ্যাত হাভেলি আছে- পাটওয়া কি হাভেলি, নাথমলজী কি হাভেলি, আর সালিম সিং কি হাভেলি। সব কটা হাভেলিই ফোর্টের বাইরে। কথিত আছে, সালিম সিং হাভেলির উচ্চতা রাজপ্রাসাদের সমান হয়ে যাওয়াতে রাজাদেশে ওপরের দুটি তলা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে এখন এই হাভেলির ভগ্নদশার কারণে পর্যটকের সমাগম হয় না বললেই চলে, সোনার কেল্লা দেখে সমস্ত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ‘পাটওয়া কি হাভেলি’, এই হাভেলিটিই এখনও ঝাঁ চকচকে অবস্থায় আছে। এই হাভেলিতে আরও অনেক কিছুর সাথে কাঁচের উপর আঁকা চিত্রকলা চোখ টানবে। পাটওয়া-র পরই পর্যটকরা ভিড় জমায় ‘নাথমলজী কি হাভেলি’, দুই স্থপতি ভাই দুদিক থেকে আলাদাভাবে তৈরি করতে করতে এক অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্য সৃষ্টি করেছেন। তবে এখন এই হাভেলির একতলায় একটি সুভেনির শপ ছাড়া আর কোথাও পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই। নাথমলজী কি হাভেলির ঠিক পাশের গলিতে আছে তাজিয়া টাওয়ার। এইসব কিছু দেখে গুগলবাবাজীকে স্মরণ করে যখন অমর সাগর লেকে পৌঁছলাম, তখন দেখলাম বিশাল এক চত্বর জুড়ে লেকের পরিধি, তাতে এক ফোঁটাও জল নেই। দেড়টা বেজে গেছে, ঠিক হল এবার বালিয়াড়ির দিকেই যাওয়া যাক। শুধু যাওয়ার পথে কুলধারা দেখে যেতে হবে। কুলধারার সাথে ইতিহাস জড়িয়ে আছে। লোককথা অনুসারে এটি পালিবাল ব্রাহ্মণদের একটি পুরোনো গ্রাম। এই পালি থেকে আসা মানুষেরা কুলধারার আশেপাশে ৮৪টি গ্রাম নির্মাণ করেছিল। তারপর জয়সলমেরের এক দুর্বৃত্ত মন্ত্রী সালিম সিংয়ের অত্যাচারে তারা এক রাতের মধ্যে এই সমস্ত গ্রাম ছেড়ে পালায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই গ্রাম বিজনই রয়ে গেছে। কুলধারা ঘুরে হোটেলে ঢুকলাম সওয়া তিনটে নাগাদ। ঘরে লাগেজ ঢুকিয়েই লাঞ্চ করে নিলাম, এখানেও লাঞ্চ, ডিনার, ব্রেকফাস্ট কমপ্লিমেন্টারি। শুধু খাওয়া নয়, এখানে রুম রেন্টের সঙ্গে ক্যামেল রাইডও কমপ্লিমেন্টারি। ক্যামেল রেডিই ছিল, খেয়েদেয়ে চড়ে বসলাম উটের পিঠে। হোটেল থেকে রাস্তা পেরিয়ে স্যান্ড ডিউনস-এ পড়লাম। তারপর যা হয়, কমপ্লিমেন্টারির বেড়া ডিঙিয়ে কিছু টাকা খসিয়ে আরও দেড় কিলোমিটার উজিয়ে সানসেট পয়েন্ট, শুটিং পয়েন্ট ঘুরে এলাম। আজ আকাশ অসহযোগিতা করায় সূর্যাস্ত সেভাবে হলনা।

রাজস্থান গভর্নমেন্ট এখানে সন্ধ্যে থেকে ডিনার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট সার্ভিস আউটসোর্স করেছে এক প্রাইভেট হোটেল রোজানিকে। সেখানে সন্ধ্যেবেলা পর্যটকদের স্বাগত চা আর নাস্তার ব্যবস্থা, তারপর কালচারাল অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু আর ডিনারে খতম। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে খানদানি বসার ব্যবস্থা, তাকিয়া, সোফা, খাট-খাটিয়া দিয়ে গোলাকার অডিটোরিয়াম। সামনে মঞ্চ, তবে সবকিছুই খোলা আকাশের নিচে। সন্ধ্যে থেকেই হিম পড়তে শুরু করেছে, তাই বাধ্য হয়ে কিছুক্ষণ থেকে নিজেদের হোটেলে ফিরে এলাম। সওয়া নটা নাগাদ বেরিয়ে যখন রাতের খাবারের জন্য আবার পৌঁছলাম তখন সেখানে ডিজে চালিয়ে চলছে ট্যুরিস্টদের উদ্দাম নাচ, কয়েকজন ফোক আর্টিস্টও তাতে সামিল হয়েছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় রাত দশটা নাগাদ ফিরে সোজা বিছানায়। 

[সাম ধনি, সরকারি টুরিস্ট লজ]

আজও পথে বেরোনোর মত আলো পেতে পেতে সকাল ৭টা বেজে গেল। সাতটা পনের নাগাদ হোটেল ছেড়ে বেরোলাম। আমাদের হোটেলটা মূল বালিয়াড়ির ঠিক উল্টো দিকে একটা ছোট বালির পাহাড়ের ওপরে। একটু ঘুরে নেমে এলে সামনে বিশাল চত্বর, সেটা পেরিয়ে কালো পিচের রাস্তা সর্পিল গতিতে হলুদ বালি চিরে বেরিয়ে গেছে। রাস্তায় উঠে কিছুটা এগোতেই তিনজন স্থানীয় মানুষ, উটওয়ালাই হবে, আমাকে জিজ্ঞাসা করল, “বাবুসাব, সানসেট দেখনে কে লিয়ে যাওগি?” আমি বললাম, “সানসেট, আভি!” তখন আরেকজন বলল, “হাঁ, আজ বহোত বড়িয়া সানসেট হোগি, আ যাইয়ে!” আমি বলি, ‘সানরাইজ বোলিয়ে।” তখন তিনজন ঘাড় নেড়ে বলে , “হাঁ হাঁ সানরাইজ”। ওদের এই নির্মল সারল্য খুব ভালো লাগলো। কি অক্লেশে এরা সানরাইজকে সানসেটের সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। কি জটিলতাহীন এদের জীবন, এরকম জীবনের সন্ধানেই তো কত মানুষ মুক্তপুরুষ হতে মুক্তকচ্ছ হয়ে সংসার নামক জীর্ণবস্ত্র পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহন করেছেন। অগত্যা ওদের পিছনে দৌড়োই। কিছুটা যাওয়ার পর পিছিয়ে পড়ি, বালিতে দুফুট করে পা দেবে যাচ্ছে, ওদের গতির সাথে তাল মেলাতে পারছিনা। বেশ অনেকটা যাবার পর দেখি তিনজন তিনদিকে চলে গেল, তখন নাগরিক মনে সন্দেহ শুরু হল, কোথায় কি সূর্যোদয়! তাহলে কি ওরা আমার সাথে মজা করলো! আবার মনে হল, ওদের কোনো বদ মতলব নেইতো! সঙ্গে মোবাইল আছে, পার্স আছে, এই সকালে আশেপাশে কোনও ট্যুরিস্টও নেই, অনেকটা দূরে উটের পিঠে দুজন সওয়ারী ছাড়া কাউকে দেখতে পাচ্ছি না, ঠিক করলাম আর ওদের পিছু পিছু আর যাবোনা। একটা বালিয়াড়ির চূড়া পর্যন্ত এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। তাছাড়া বেদম হয়েও পড়েছি। বালির বুকে এতটা হাঁটা সমতলের চেয়ে দশগুণ বেশি কষ্টকর। স্বাভাবিক শ্বাসে ফিরে এসে আবার আস্তে আস্তে বালিয়াড়ি থেকে নেমে এলাম। একটা দোকানে বসে এককাপ চা খেয়ে কিছুটা থিতু হলাম। চা খেয়ে হাঁটা শুরু করার মিনিট পাঁচেক পর দেখি পূব আকাশ রাঙা করে সূর্যদেব জ্বাজ্বল্যমান হয়েছেন। খুব আফসোস হল সরল-সাধাসিধে মানুষগুলোকে অবিশ্বাস করার জন্য। বিশ্বাস করে বালিয়াড়ির ভিতরে থাকলে আজকের সূর্যোদয় দেখে সত্যি মন ভরে যেত। আর কি করা! অনেকটা পথ এগিয়ে গেলাম। হোটেলে যখন ফিরলাম তখন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে আটটা ছাড়িয়ে গেছে। 

[সাম বালিয়াড়ি জয়সলমের]

আজ আমাদের প্রোগ্রাম এখান থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে তানোট মাতা মন্দির, আর সেখান থেকে আরও ৩০-৩৫ দূরে লাঙ্গেওয়ালা, পাকিস্তান বর্ডারের একদম কাছে। তানোট মাতাকে হিংলাজ দেবীর এক স্বরূপ বলে মানা হয়। প্রবাদ আছে, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান এই অঞ্চলে প্রচুর বোম্বিং করেছিল, কিন্তু আশ্চর্য্যজনক ভাবে এই মন্দিরের আশেপাশে পড়া কোনও বোমা ফটেনি। জীর্ণপ্রাপ্ত এই মন্দির যুদ্ধজয়ের পর বিএসএফ-এর তরফে পুনর্নির্মাণ করা হয়। মাতার সারা অঙ্গে হিরের সম্ভার দেখার মত। তানোট মাতা মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বিএসএফ। এখান থেকেই ২০ কিলোমিটার দূরের ইন্দো-পাক বর্ডারে যাওয়ার পারমিশন মেলে, তবে তার জন্য আই কার্ডের হার্ড কপি লাগবে। আমাদের সঙ্গে সফ্ট কপি থাকলেও হার্ড কপি ছিলনা, অগত্যা বর্ডার দেখার বাসনা জলাঞ্জলি দিয়ে এগিয়ে গেলাম আরেক ঐতিহাসিক স্পট ‘লাঙ্গেওয়ালা’-র দিকে। ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধে ‘ব্যাটল অব লাঙ্গেওয়ালা’ সেখানকার সৈনিকদের শক্তি, সাহস, বীরত্ব, এবং আত্মবলিদানের অখন্ড দলিল হয়ে আছে। চতুর্দিকে ছড়িয়ে আছে যুদ্ধের স্মৃতিসম্ভার। এখানে সৈন্যচালিত একটি ক্যান্টিন আছে। চা-কফি থেকে শুরু করে টুকটাক নাস্তাও মিলবে। 

[সাম বালিয়াড়িতে সূর্যদয়]

সবকিছু দেখে হোটেলে ফিরে খেয়ে নিলাম। আমাদের সঙ্গে আরেকটি বাঙালি পরিবারের অন্তরঙ্গতা হয়েছে। ওনারাও স্বামী-স্ত্রী দুজনে এসেছেন, চাকরি সূত্রে ফরিদাবাদে থাকেন। ভদ্রলোক নিজেই গাড়ি চালিয়ে এসেছেন, খাওয়ার পর পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বিশ্রাম নিয়ে ওনাদের সাথে বেরোলাম জিপ সাফারিতে। ড্রাইভারের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, এই সাফারিতে পৌনে এক ঘন্টায় তিনটে মরুভূমি ঘুরিয়ে আনবে, থর, মুঘল আর রয়্যাল। ভূগোল বইয়ে অনেক খুঁজেও শেষ দুটো মরুর সন্ধান পাইনি, আর ওদের জিজ্ঞাসা করায় ওরা ওদের বিশ্বাসের কথা আওড়ে যায় প্রমাণের ধার ধারেনা। তবে এসব ইতিহাস-ভুগোল, দলিল-দস্তাবেজ ছেড়ে দিলে সাফারিটা খুব থ্রিলিং। বালির পাহাড়ে ওঠা-নামা, ওপর থেকে সওয়ারি সমেত নিচে লাফিয়ে পড়া সব নিয়ে আপনার অবস্থা ক্রমাগত ঝাঁকিয়ে চলা মুড়ির টিনের ভেতরে থাকা মুড়ির মত হবে।

[সাম বালিয়াড়িতে সূর্যাস্ত]

তবে এরকম একটা-দুটো রাইড করতে পারলে শরীরের বাত-ব্যাধি, গা-ব্যাথা, মাথাব্যথার মত রোগগুলোর তুরন্ত নিরাময় হয়ে যাবে নিশ্চিত। জিপ তার মতো তিনটে ডেজার্ট, বজরঙ্গি ভাইজান ফিল্মের শুটিং স্পট দেখিয়ে আবার সাম বালিয়াড়িতে ফিরিয়ে দিল। এখানে আমাদের আজই শেষ দিন, তাই আরেকবার বালিয়াড়িতে নেমে থরের বালির সাথে খুনসুটি করতে মন চাইল। আমার তো আরেকবার উটের পিঠে চড়ারও ইচ্ছে আছে। কিন্তু চারজনে মিলে একটা ক্যামেল কার্টে চড়ে বসলাম। সেই গাড়ি আমাদের সানসেট পয়েন্ট পার হয়ে ন্যাশনাল রিজার্ভ ফরেস্টে নিয়ে গেল। এখানে গতকাল আমরা উঠের পিঠে চেপে এসেছিলাম। যদিও মরুর ফরেস্ট বলতে ছোট ছোট কাঁটাঝোপ ছাড়া বড় কোনও গাছ নেই। কিন্তু এখানে বেশ কিছু বুনো জন্তু দেখতে পাওয়া যায়। ওখান থেকে ফেরার পথে মাঝ বালিয়াড়িতে নেমে গেলাম। বেশ কিছুটা সময় গল্প করে ছবি তুলে, সূর্যাস্ত দেখে বালির বন্ধন টুটে শেষবারের মত উঠে এলাম। পথ পাশে একটা দোকানে লঙ্কার বড়ার সাথে কফির স্বাদ নিতে নিতে সাতটা বেজে গেল। 

[জিপ সাফারির পথে]

আজ হোটেলে প্রচুর বাঙালি তাই সবাইয়ের অনুরোধে রাতে ডিনারের ব্যবস্থা এই হোটেলেই হয়েছে। আটটা দশে একটা ফোন পেলাম, ডাইনিং থেকে কল করে রাতের খাবারের জন্য ডাকছে। যাচ্চলে! এখন কিভাবে রাতের খাবার খাবো? খিদের খ-ও নেই, আর যদি খাইও মাঝরাতে আবার খিদে পেয়ে যাবে। অনেক করে বুঝিয়ে রাত সাড়ে নটায় যাবো বললাম, কিন্তু নটা নাগাদ ওই বাঙালি মহিলা ফোন করে ডাইনিংয়ে ডাকলেন। পৌঁছে দেখি খুব চেঁচামেচি হচ্ছে, তর্কাতর্কির চক্রজালের মধ্যে বহু কষ্টে বুঝতে পারলাম, আমাদের জন্য তৈরি করা খাবার অন্য ট্যুরিস্ট এসে খেয়ে গেছে, তাতেই সমস্যা। তারপর কি হল! উঁহু …একদিনে এতকিছু নয়…বাকিটা অন্য কোনও দিনে।

                                                              (ক্রমশ…….)

এই লেখাটি শেয়ার করুন