শাটিকাপ ওয়েবসিরিজ রিভিউ

ওয়েবসিরিজ- শাটিকাপ
স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম – চরকি
পর্ব- আট
পরিচালক – তাওকীর ইসলাম ,
পর্বের ব্যাপ্তি – ২৫-২৮ মিনিট

তুই শুধু ‘শাটিকাপ’ মাইরে থাক, বাকিটা আমি দেখতিছি।

শাটিকাপ দেখে মাথা ব্লাঙ্ক হয়ে যাওয়ার কথা না। তাও হচ্ছে, এত দুর্দান্ত একটি কাজ নিয়ে না লিখলে বোধয় আজ রাতে ঘুমাতে পারবো না। এই ওয়েবসিরিজ দেখে শাটিকাপ মেরে থাকার কোন মানেই হয় না।সম্প্রতি ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে এম ভিন্ন ঘরনার আঞ্চলিক ভাষার ওয়েবসিরিজ – শাটিকাপ। রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষায় এই ‘শাটিকাপ’ শব্দের অর্থ ঘাপটি মেরে বসে থাকা। রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকার কিশোর গ্যাঙের উৎপাত, মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের গল্পে আট পর্বের ওয়েবসিরিজ । রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত এই ওয়েবসিরিজের প্রতি আগ্রহ ছিলো শুরু থেকেই। শাটিকাপ যেন এ বছরের শুরুতে দারুণ কিছুর আভাস দিলো। প্রমত্তা পদ্মা নদীর পাড়ের রাজশাহী এই ওয়েবসিরিজের গল্পের প্রাণ হয়েছে নিঃসন্দেহে। রাজশাহীর অলিগলি, বেড়িবাঁধ, চর, গুড়িপাড়া সবকিছুই এখন মাথায় ভাসছে। সেই সাথে এই ওয়েবসিরিজের হাড়কিটকটে থ্রিলার নান্দনিকভাবে ফুঁটে উঠেছে প্রতিটি দৃশ্যপটে। ‘শাটিকাপ’ অর্থ ঘাপটি মেরে থাকা। এই ঘাপটি মেরে থাকার ব্যাপারটাকে স্ক্রিণে দুর্দান্তভাবে উপস্থাপন করেছেন পরিচালক তাওকীর ইসলাম । কাহিনী আর চিত্রনাট্যে পরিচালকের সাথে যুক্ত ছিলেন মাসুদ ও আহসাবুল ইয়ামিন । ওয়েবসিরিজটি প্রযেজোনা করেছে – চরকি ।

এই গল্প একেবারে নতুন। নতুনত্বেই তো গল্পের সৌন্দর্য। সীমান্তবর্তী এলাকার মাদকদ্রব্য সিন্ডেকেট, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ছুটে পালানোর গল্পে এই ওয়েবসিরিজ এগিয়েছে তরতর করে।ওয়েবসিরিজের প্রত্যেকটি দৃশ্যপটে যে ব্যপারটি উপলব্ধি হয়েছে সেটি নিঃসন্দেহে একজন দর্শকের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যথেষ্ট। ওয়েবসিরিজের গল্পের সাথে দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি যেন ওয়েবসিরিজকে পূর্ণতা দিয়েছে যথেষ্টভাবে।

বলতেই পারেন, অভিনয় কোথায় গেলো? অভিনয়ের প্রসঙ্গে আসি। ওয়েবসিরিজে অভিনয় করা অভিনয়শিল্পীরা অধিকাংশই নবীন এবং রাজশাহীর ছেলেপেলে। রাজশাহীর ছেলেপেলারা নিঃসন্দেহ গোটা বাংলাদেশের কাছে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো। “শাটিকাপ মাইরে খেলা দেখাইয়া দিলো।” ওয়েবসিরিজে অভিনয় করা সবার অভিনয়ের মধ্যে খুত খুঁজতে যাওয়া আতেল আপাতত আমি নই। তবে অপেক্ষাকৃতভাবে পুলিশের চরিত্রগুলো আরেকটু মসৃণ হতে পারতো। কিছু কিছু যায়গায় সত্যিই মনে হচ্ছিলো যেনে ইন্ডিয়ান সাউথের কোন থ্রিলিং মুভি দেখছি। দুটি ভাগে মোট ৬২ দিন ধরে শুটিং করা হয়েছে এই ওয়েবসিরিজটি ।



পরিচালকের নির্মাণ মুন্সিয়ানা তো বটেই সেই সাথে পারফেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ইউনিক বিজিএম, সেই সাথে ভয়েস এডপশনের ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফারের দক্ষতার সাথে চমৎকার কালারগ্রেডিং ফাটায়া দিছে বলতে হবে। ওয়েবসিরিজের দুইটা সাউন্ড ট্রাক ওয়েবসিরিজের একশনকে বেশ চাঙ্গা করেছে বলা যায়। ওয়েবসিরিজের এন্ডিং পর্যন্ত না দেখলে আসলেই বোঝা যাবে না ‘শাটিকাপ’ কি দুর্দান্ত ব্যাপার। পরিচালকের মুন্সিয়ানার সাথে অভিনয় শিল্পিদের পরিশ্রম দক্ষতা নিঃসন্দেহে শাটিকাপকে দারুণ ভাবে স্ক্রিণে ফুটিয়ে তুলছে বলতেই হয়। দেশের ওটিটি প্লাটফর্মে এরকম ইউনিক কাজ খুবই কম হয়। তবে সময় বদলে যাচ্ছে, তরুণরা বার্তা দিচ্ছে আগামীর দিনগুলোকেই। শাটিকাপ টিমের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানাতেই হয়। শাটিকাপ তিনটি সিজনে শেষ করা হবে বলে জানা গেছে । তবে প্রথম সিজনটি নিঃসন্দেহে সাড়া ফেলতে যাচ্ছে সিনেমাপ্রেমী মানুষদের কাছে ।

শাটিকাপ আপনার মাস্ট ওয়াচ তালিকায় রাখতে পারেন। এরকম দেশীয় কন্টেন্ট মিস করাটা একদমই উচিত হবে না। দর্শকরা চরকির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ ডাউনলোড করে দেখতে পারবেন ।

 

লেখা – আশিক মাহমুদ রিয়াদ

এই লেখাটি শেয়ার করুন