রক্তরস [দ্বিতীয় পর্ব]

রক্তরস [দ্বিতীয় পর্ব]

আশিক মাহমুদ রিয়াদ

*

রক্তরস [দ্বিতীয় পর্ব]

‘সারারাইত’ ফস্টিনষ্টি কইরা আইসা আবার বউয়ের কাছে শুইতে আপনার লজ্জা করে না?
চেয়ারম্যান কোন কথা বলে না, চোখ বন্ধ করে কান খোঁচানি দিয়ে কান খোঁচে, কান খোঁচাও একটা শিহরণের ব্যাপার! আফরোজা বেগম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। তার কাঁদুনিতে কম্পিত হয় খাট, আজগর এক মণে এক ধ্যানে কান খোঁচেন! তার আধ-স্বর্গীয় সুখ কিছুক্ষণ বাদে বন্ধ হয়ে যায়, তিনি ধীরে ধীরে হাত বাড়ান আফরোজার শাড়ির ফাঁক থেকে বেড়িয়ে আসা দুধে আলতা গায়ের রঙ; ভাসা ভাসা পেটে হাত বাড়ায় নির্লিপ্ত আজগর। পেটে হাত পড়ার সাথে সাথেই আফরোজা, নড়ে ওঠে কুমারী মেয়ের মতো! আচমকা ঘুরেই চোখ বড় করে তাকায় আজগরের দিকে! কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আজগর কাঁকিয়ে ওঠে চরম ব্যাথায়।


আফরোজার হাতে মুষ্টিবদ্ধ আজগরের পৌরষসত্ত্বা। আফরোজা ভেঙচি কেটে বলে, “সারাদিন বেহায়াপনা কইরা বেড়াসা, খেয়াঘাটের খা%কির লগে। আর রাত হইলেই তোমার যৌবনে নাড়া দেয়? আমার লগে শুইতে মন চায়? তয় জাইনা রাখ পিশাচের বাচ্চা! তোর লগে আমার আর কোন দিন শারীরিক সম্পর্ক হইবো না। আজগর ফুঁসে ওঠে। এবার তার হাতে মুষ্টিবদ্ধ হয় আফরোজার চুলের মুঠি! চুলের মুঠি ধরে আফরোজার মুখ তার মুখের দিকে আনতেই আফরোজার বিহ্বল থুথুতে ভরে যায় আজগরের মুখ! ঘেন্নায় রাগ আরও বেড়ে যায় আজগরের, চুলের মুঠি ধরে আফরোজাকে ফেলে দেয় খাট থেকে! খাট থেকে নেমে এলোপাতাড়ি লাথি মারে আফরোজার শরীর জুড়ে। মধ্যরাত! বাইরে শুনশান নিরাবতার মধ্যে ভেঁসে আসে এক নারীর আর্তনাদ, ভয়ে কুকড়ে ওঠে রান্নাঘরে ঘুমানো কাজের মেয়েটি। কাজের ছেলেটি! গাল চুলকে আবারও দিকবিদিক ঘুমে সারা হয়। শেষ রাতে ভয়ংকর আর্তনাদে ভেসে আসে জীবন-মৃতদের হাহাকার!




পরের দিন সকাল বেলা,

“আম্মা আপনার ঠোট কাঁটলো কেমনে?” প্রশ্ন করে কাজের মেয়ে মর্জিনা!
আফরোজা কোন কথা বলে না, খানিক্ষণ চুপ করে থাকে।
এরপর গলার স্বর বাড়িয়ে আরেকবার প্রশ্ন করতেই আফরোজা বারুদের মত জ্বলে ওঠে।
কঠিন গলায় ধমক দেয় মর্জিনাকে, তোর কাজ তুই কর!

চেয়ারম্যান সাহেব বসে আছেন পুকুরের পাড়ের বৈটকখানায়৷ তার শরীর ভালো যাচ্ছে না আজকাল। সেদিন মনিরকে ধমক দিতে গিয়ে গলার রগে যে টান লেগেছে সেটা এখনো সারে নি। বিড়বিড় করে মনিরকে গালি দেয় আজগর। আজ পরিষদে গিয়ে বসা হয় কিনা কে জানে! গতকাল রাতে তার স্ত্রী এমন কান্ড বাঁধিয়ে বসবে কে জানে! সারারাত ধরে আফরোজার গোঙ্গানি আর, নিজের অন্ডোকোষের ব্যাথায় ঘুমাতে পারেননি তিনি।




পুকুরের পাড় ঘেসে বাড়ির পিছনের রোড দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো রনি। আজগর বললেন,’যাচ্ছিস কোথায়? ‘ রনি হাতদুটোকে পিছন মোড়া করে বলল,’যাই ঘুইরা আসি। ‘ আজগর বলল,’তোর নামে থানায় কেস কান্ড ঝুইলা আছে। ঝামেলা যা করছোস বহুত। আর করিস না। আমার কানে যেন আর কোন ঝামেলার কথা না আসে। ‘
রনির ঠোটের কোনে হাঁসির রেখা ফুটে উঠলো। যেন সে বাবার কথাকে গ্রাহ্য করেনি। রনি বলল,’আব্বা আপনার পিছনে যে মামলা গুলা আছে ঐগুলা সামলান আগে। নিজে পাপী হইয়া অন্য কাউরে পূন্যের কথা শোনানো উচিত না। ‘



চেয়ারম্যান রগচটা হয়ে জবাব দিলেন,’নেমকহারাম জন্ম দিছি একটা। কুত্তারবাচ্চা আমার সামনে দিয়া বিদায় হ৷ দুরে গিয়ে মর। ‘
রনির মুখে আবারও হাসির রেখা ফুঁটে উঠলো,সে বলল,’আব্বা, নিজের মুখের থুতু আকাশে ছিটাইলে নিজের মুখেই পড়ে। আপনি আমারে যে গালি দেবেন, সব আপনার গায়ে লাগবে।এই যে একটু আগে কুত্তার বাচ্চা কইলেন। তাইলে কি আপনি..?’
চেয়ারম্যান রাগন্বিত হয়ে ধমক দিতে গেলেন। আবারো গলার রগে টান খেলেন সজোরে। এবার ব্যথায় বসে পড়লেন।
রনি হনহন করে হাঁটা দিলো পুকুরের পাড় ঘেষে। চেয়ারম্যান ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে বললেন,’নেমক হারাম পয়দা করছি৷ মর তুই, গাঙ্গের জোয়ারে ভাইস্যা যা। ‘

বাজারের কাছে যেতেই পুলিশের কয়েকজন সদস্য রনিকে ধাওয়া করলো। উত্তরের বাগান লাফিয়ে কোন মতে এক জায়গায় লুকিয়ে পুলিশদের ফাকি দিয়ে নিরবে সরে পরলো রনি! পেছনের কবরস্থানের পাশের রাস্তা দিয়ে সোজা চলে গেলো খেয়াঘাটের দিকে, আশেপাশে কেউ আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিলো আগে। বেশ কিছুক্ষণ পর দীর্ঘনিশ্বাস নিলো সে! আশেপাশে কেউ নেই। মাথার উপর সূর্য হাসছে, উত্তপ্ত রোদে খা খা অবস্থা।




মাথার উপরে সিলিং ফ্যান ঘুরছে, অসহ্য গরম পড়েছে আজকাল। গরমে টেকা যায় না। চৈত্রমাসের অসহ্য গরম।
লোকজন খুব একটা আসে না আজকাল। যে গরম পড়েছে এতে গায়ে কাপড় রাখাই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চালান ও আসে না ঠিকঠাক মতো। এইরকম চলতে দেওয়া যাইবো না।
ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলো, ইলেক্ট্রিসিটি চলে গিয়েছে৷ পান খেয়ে ঘোল্লায় ধরেছে। পিকদানি তে পিক ফেলছে নদীবানু। সব থেকে খারাপ খবর হচ্ছে তার কাছে বড় চালানের লোকজন আসছে না। চালান না আসলে চোতাও আসবে না। দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ হলো। নদী বানু চেঁচিয়ে উঠে বলল,’কেডা? এই দুপুর বেলা? ‘ ওপাশ থেকে শ্লমা জড়ানো গলায় একজন বলল,’চোতা লইয়া আইছি খোল। ‘
নদী বানু বলল,শইল্যে কাপড়ের ঠিক নাই, এখন দরজা খুলবার পারুম না। গরমে বাঁচি না। ‘
ওপাশ থেকে রাগন্বিত হয়ে কেউ একজন বলল,’খোল মাগি! দরজা খোলার আগেই কাপড় খুইল্ল্যা বইয়া আছোস ক্যা?’
নদী বানু উঠে দরজা খুলে বলল,’বাপের খোঁজ নাই একসপ্তাহ পোলায় আমার হাজির! ওরে আমার কাছের পোলা!
রনি শার্টের বোতাম খুলছে , নদীর এমন কথা শুনে বলল,’খবরদার নটির ঘরের নটি! আমারে পোলা কইয়া ডাকবি না। নটির বেটি নটির মতো থাক। ‘
নদী রনির গায়ের কাছে ঘেষে গলায় মধুর সুর এনে বলে,’ওরে আমার সোহাগের ভাতার! এত রাগ হয় কেন?’ রনি নদীর উত্তপ্ত শরীরের দিকে চোখ বোলায়।নদী বানুর মুখ থেকে ভকভক করে জর্দার ঘ্রান বের হয়। শিহরণ বয়ে যায় তার সারা দেহে।নদীর গা থেকে মিষ্টি ঘামের গন্ধ বের হয়। রনি নাক দিয়ে ঘ্রান নিতে যায়। নদী ফিসফিসিয়ে বলে,’সেই তো দুই বাপ বেটা এসে এই নদীতেই ডুব দিস,আর কিছু বললেই দোষ? রনি দুরে সরে যায় হঠাৎ করে৷ নদীবানু খিলখিল করে হাসে। যে হাঁসি নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দের মতো।



শোন, এত রাগারাগি না কইরা বস! চা করি চা খা। তার আগে একখান পান মুখে দে।
রনির উত্তপ্ত মুখ নদীর দিকে তাকিয়ে আছে, নদীর নাড়া চাড়ায় বুকের কাপড় অর্ধেক সরে গিয়ে ফুঁটে উঠেছে ধবধবে উত্তপ্ত যৌবনের দুটি নগ্নফুল। যে ফুল ক্রোধের মোহ বাড়িয়ে ডাকে পুরুষকে।
পানের বাটা থেকে পান বের করে রনির মুখে গুজে দেয় নদী। পান চিবতে চিবতে রনির কি একটা হয়ে যায় শরীরে। যে ওঠে ক্রোধের উত্তপ্ত যৌবনের প্রস্ফুটিত শেকড়! নি জের শরীরের সব থেকে নমনীয় বস্তুটিকে ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ওঠে, তার শক্ততা এতটাই প্রবল যে জিন্সের প্যান্ট ছিড়ে বেড়িয়ে আসার উপক্রম।

নদীর ফেঁটে পড়া উত্তপ্ত যৌবনের কূল কিনার না পেয়ে হাতরাতে থাকে রনি। পাপ বাপকেও ছাড়েনা!

এবার নদী লাইট অফ করে টিমটিমে ডিম লাইট।

[পরের পর্ব পেতে পাশে থাকা বেল আইকন থেকে সাবস্ক্রাইব করুন]

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
সুখের সন্ধানে

সুখের সন্ধানে

সেকেন্দার আলি সেখ রহমত নগরের বাদশা মীর জুমলা সভাসদদের ডেকে একটা ছোট্ট প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন -‘বলো তো, তামাম দুনিয়ার মধ্যে সব চেয়ে সুখী কে?’ ...
প্রবন্ধ-  শীতের হাওয়ার লাগলো নাচন

প্রবন্ধ- শীতের হাওয়ার লাগলো নাচন

মিরাজুল হক  পৃথিবীর পূর্ব – গোলার্ধে  আমদের ভু- প্রকৃতির অবস্থান । কর্কটক্রান্তি রেখার উপরে । ফলে পুরোপুরি শীতের দেখা পায় না বাঙালী । তবুও এই ...
মুজিব মানেই বাংলাদেশ

মুজিব মানেই বাংলাদেশ

নাজিফা আক্তার শারিকা “হে মুজিব, কে বলেছে তুমি মৃত? কে বলেছে তুমি নেই? ৫৬ হাজার বর্গমাইলে আমি শুধু তোমায় খুঁজে পাই!!” মুজিব আমার ভালোবাসার নাম। ...
অচিনপুরের দেশে: অষ্টম পর্ব

অচিনপুরের দেশে: অষ্টম পর্ব

পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় এবং গৌতম সরকার  গৌতম সরকার অনিশ্চিতপুর কোনো জাদু রাজ্য নয়। এখানে প্রবেশদ্বারে কোনো জাদুকর দাঁড়িয়ে থাকেনা যে আহুত-অনাহুত-রবাহুত আগন্তুকের গায়ে জাদুদন্ড বুলিয়ে তাদের ...
আখেরী চাহার সোম্বা ২০২৪

আখেরী চাহার সোম্বা ২০২৪

আখেরি চাহার সোম্বা মানে কী? আখেরী চাহার শোম্বা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। আখেরী চাহার শোম্বা আরবী ও ফার্সি ভাষার শব্দসমষ্টি। আখেরী আরবি শব্দ, ...
বাংলাদেশের পাঁচটি বিষধর সাপ

বাংলাদেশের পাঁচটি বিষধর সাপ

সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি ঘটনা ঘটেছে, তিন বছর বয়েসী একটি শিশুর কামড়ে একটি নির্বিষ সাপ মারা যায়।শিশুটে মেঝেতে বসে আপন মনে খেলছিলো তবে ‘ঘরগিন্নি নামে একটি ...