১৮+গল্পগল্পপ্রথম পাতাপ্রথম শারীরিক সম্পর্কের গল্পভালোবাসার গল্পশারীরিক প্রেমের গল্পসর্বশেষ

প্রীতির গায়ের গন্ধ [পর্ব-০৩]

আশিক মাহমুদ রিয়াদ

গত পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন {

গত পর্বের পর থেকে]

তমাল কি প্রীতিকে ভালোবেসে ফেলেছে? অথবা প্রীতির কি তমালকে ভালো লেগেছে? তার দু’জন এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজে নিজেদের অজান্তে। সেদিনের পর থেকে প্রীতি আর তমালের সামনে আসেনি। তমালও প্রীতির কাছে কেমন নিজেকে আড়াল করে রাখতো। তবে প্রীতিকে তমাল রাখতো চোখে চোখে, আড়াল থেকে দেখলেও প্রীতির সামনে যায়না তমাল।



একদিন বিকেলের ঘটনা, হালকা দরজা ভিজিয়ে দিয়ে প্রীতি পড়ছিলো তখন। সামনেই উচ্চমাধ্যমিকের ফাইনাল। তমাল বাইরের দেয়াল টপকিয়ে প্রীতিদের বারান্দা দিয়ে সোজা চলে যায় প্রীতির রুমে। পড়ার প্রতি এতই মনোযোগী ছিলো প্রীতি যে, তমাল কখন এসে তার রুমে ঢুকেছে তার খেয়ালই করেনি সে। তমাল একটি চকলেট বাড়িয়ে দেয় প্রীতির দিকে। প্রীতি আচমকা হাত দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে যায়,

-ফিসফিস করে বলে, তুই……তুই এখানে কি করিস?

-তমালও এবার ফিসফিস করে বলে, তুই আমার সাথে কথা বলিস না কেন?

-প্রীতি এবার কিছুটা অভিমানের স্বরে বলে, জানি না!

-তুই কি আমাকে ইগনোর করছিস?

-প্রীতি এবার তমালের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোট প্রসরণ করে সেই মৃদু হাসি দিয়ে বলে, জানি না!

তমাল এবার প্রীতির মাথায় ছোট্ট করে একটা চাটি দিয়ে বলে, জানিসটা কি?

 

(ওঘর থেকে ফিসফিস আওয়াজ পেয়ে প্রীতির মা প্রীতির নাম ধরে ডেকে বলে, এই প্রীতি; কার সাথে কথা বলিস রে?)

 

প্রীতি এবার ফিসফিসে কন্ঠে তার মা’কে জবাব দেয়…..কারও সাথে না মা!

প্রীতির এমন বোকামী দেখে হেসে ওঠে তমাল। তমাল শার্টের একটা বোতাম খুলে…..প্রীতিকে বলে আজকাল যে গরম পড়েছে !

প্রীতির চেয়ার ছেড়ে উঠে বলে, আমি পড়ছি… তুই আমার রুমে এসেছিস জ্বালাতে? সামনে পরিক্ষা আমার। যা বেরো ঘর থেকে।

তমাল মৃদু আহুতু হাসি হেসে বলে, সেদিনের শোধ নিচ্ছিস? ভাবলাম তুই আমার ওপর রাগ করেছিস! তাই আমি আরও এলাম তোর রাগ ভাঙাতে।



যাহ! আমার আসাটাই ভুল হয়েছে। এবার পকেট থেকে আরও কয়েকটি চকলেট বের করে প্রীতির পড়ার টেবিলে রেখে তমাল রুম থেকে বেরোনোর জন্য দরজার দিকে এগিয়ে যায়। প্রীতি এবার এক অদ্ভুত কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। তমালের হাত ধরে হেঁচকা টান দিতেই তমাল এসে যায় তার কাছে। এক হাত দিয়ে দরজা এটে, অন্য হাত তমালের মাথার পিছনে দিয়ে কাছে টেনে নেয় তমালের ঠোটকে। এরপর লম্বা একটু চুমুতে তমাল যেন সেদিনের বাকি অর্ধেক গল্পটি লিখে ফেলে। দুজন দুজনের ঠোটকে এত নিবিড়ভাবে চুষতে থাকে যেন তারা জন্মান্তরের তৃষ্ণায় নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। তমালের একটি হাত চলে যায় প্রীতির বুকে! প্রীতি অদ্ভুত সুখের মুর্ছনায় নিজেকে এবারও তমালের হাতে সমার্পণ করে দেয়।

তমালের দুটি হাত লিখতে থাকে প্রীতির শরীরকে উত্তপ্ত করের দীর্ঘ কবিতা। সেই কবিতায় ভেসে আসে ঘণ নিশ্বাসের শব্দ। তমাল এবারও এক অদ্ভুত সম্মোহন আবিস্কার করে নিজের অভ্যন্তরে, আন্দোলিত বিক্ষুব্ধ উত্তপ্ত রাজপথে। প্রীতির গায়ের গন্ধ! এ গন্ধে যেন কি এক অমৃত আছে! আছে স্বর্গনরকের উত্তপ্ত দোলাচল। আচমকা দরজায় টোকা পড়তেই তারা দুজন সরে যায়, তমাল প্রীতির শ্যাম বর্ণের মুখের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় লজ্জায়  প্রীতির মুখটি ডালিম ফুলের মতো রাঙা।

-‘কি রে তমাল! কখন এলি?’ , বলে প্রীতির মা।

-এই তো কাকিমা, প্রীতি আপুর কাছে একটু অঙ্ক বুঝতে এলাম।

তমাল হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে যায়,

-যাই কাকিমা!

– আরে এলি! একটু কিছু খেয়ে যা।

তমাল শোনে না সে কথা, সিড়ি থেকে সোজা নিচে নেমে পিছনার মাঠটায় চলে যায়।

প্রীতিকে কি সে ভালোবাসে? কে জানে!

সেদিন সারারাত অদ্ভুত এক নেশায় ঘুম চোখ থেকে উড়ে যায়। সারা শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত নেশাতুর সম্মোহন শক্তি হাত পা অবশ করে ফেলে প্রীতির।





****

‘স্যার, হোয়্যাট ডু ইউ নিড?’

‘আ হোয়াইট ইউনিকর্ণ’, জবাব দেয় শ্বেত বর্ণের লালচে চুলের পঞ্চাষোর্ধ লোকটি!

সাদা শার্ট, কালো-প্যান্ট আর গলায় নীল টাই পড়া লোকটি কিঞ্চিত ইতিবাচক হাসি দিয়ে বলে, ‘ওকে স্যার! উই উইল ম্যানেজ! হোট ইউ ওয়ান্ট। টেক রেস্ট! হ্যাভ আ সুইট নাইট’। শ্বেত বর্ণের লোকটির নাম হ্যারি, জার্মান নাগরিক এই বিদেশী বাংলাদেশে এসেছে একটি ব্রিজের কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

সাদা শার্ট পড়া লোকটি হোটেলের কামড়া থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে, একটি ডায়মন্ড গাউন পড়ে ঢোকে লোকটির কামড়ায়। মেয়েটির মুখের গড়নের সাথে ডায়নামিক মেকাপ যেন মেয়েটিকে আরও লাস্যময়ী করে তুলেছে। মেয়েটির পনিটেইল চুল, ঠোটে লাল ওয়াটার-প্রুফ লিপস্টিক, চোখে কৃত্রিম পাপড়ি (আইলেশ)

মিষ্টি কন্ঠে বলে, ‘মে আই কাম ইন?’

শ্বেত বর্ণের লোকটি বলে, ‘ওহ! হো হো! ইয়েস প্লিজ’

মেয়েটি এগিয়ে যায় বিদেশী সেই লোকটির কাছে! লোকটি শুয়েই থাকে।

শোয়া থেকে এবার উঠে বসে! মেয়েটির কানের পাশে আস্তে করে হাত রাখে। মেয়েটি নিচের ঠোটটা উপরের দাতের সাথে স্পর্শ করে কেমন একটা শীৎকার দেয়।

শ্বেত বর্ণের লোকটির এবার মেয়েটির ঠোটের দিকে নিজের ঠোটটি এগিয়ে দেয়।



‘ফিসফিসে কণ্ঠে বলে, আর ইউ হর্ণি বেবি?

মেয়েটি মাথা নাড়ায়,ইয়েস! ইউ আর টু মাচ সেক্সি!

‘দেন লেটস গেট সাম ফান’

 

মেয়েটির গলায় চুমু দিয়ে মেয়েটির গাউনের অর্ধেকটা খুলে ফেলতেই, হ্যারি ভীষণ অবাক হয়। মেয়েটির গা থেকে অদ্ভুত একধরণের ঘ্রাণ আসছে। এটা কি কোন পারফিউমের ঘ্রাণ? গলার নিচ দিয়ে মেয়েটিকে চুমু দিতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সেই চুমুর পরিণতি গড়ায় মেয়েটির সারা অঙ্গে। মেয়েটি কামুক হয়ে ভীষণ উত্তেজিত শব্দ করে। হ্যারি ধীরে ধীরে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

 

এভাবে চলে দুটি নগ্ন শরীরের দোলাচল। কতক্ষণ মেয়েটি থাকে ছেলেটির নিচে, মেয়েটি আবারও উঠে আসে ছেলেটির উপরে। বিদেশী লোকটি ভীষণ আনন্দ পায়। মেয়েটির চোখের দিকে তাকালেই যেন শরীরের ভিতর থেকে নিজের জমানো পৌরষ সত্ত্বা আরও প্রবলভাবে যেগে ওঠে। মেয়েটির ঠোট এগিয়ে নেয় হ্যারির ঠোটের দিকে। পনিটেইল চুলগুলো যেন স্বর্গের কোন মেঘফুলের মতো  দুলছে। দুলছে মেয়েটির সারা দেহ।



দুটি দেহের উত্তপ্ত ফাগুণ রাঙে সে রাতে! শেষবার হ্যারি মেয়েটিকে বলেছিলো, ডু ইয়্যু নিড সাম জ্যুস? মেয়েটি মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিলো – ইয়েস।

*

হোটেলের কামড়া থেকে বেড়িয়ে প্রীতি সোজা হেটে যায় এক্সিট গেটের দিকে। এক্সিট গেট থেকে বেরোবার আগে অবশ্য সে নিজেকে আয়নায় বেশ কয়েকবার পরোখ করে দেখেছিলো। কোথাও কোন সমস্যা আছে কি না! জার্মান লোকটিকে সে যতটা হিংস্র ভেবেছিলো লোকটি তার থেকেও ভীষণ কোমল ও লাজুক। সে অনুপাতে দেশের লোকগুলো বড্ড হিংস, তাদের ছোঁয়ায় কোন আর্ট নেই। তারা ইরোটিক বোঝে না, বোঝে না রোম্যান্স কাকে বলে। তারা মেয়েদের জামা-কাপড় ছাড়া দেখলেই ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পরে নিজের শরীরের সর্বৎস ঢেলে দিতে। সে কারণেই তারা বেশিদুর এগোতে পারে না। অথচ জার্মান লোকটি কত স্বাচ্ছন্দ্যে প্রীতিকে ইরোটিক ওয়েতে ইম্প্রেস করেছে। প্রীতিকে সম্পূর্ণ উত্তেজিত করেই তবে নিজের ক্রোধ প্রীতির শরীরে ঢালতে চেয়েছে।




হোটেল থেকে বের হয়ে ঠিক যখনই সিএনজিতে উঠতে যাবে ঠিক তখনই পিছন থেকে প্রীতির নাম ধরে ডাক দেয় কেউ একজন!

-‘এই যে প্রীতি!’

প্রীতি পিছন ফিরে তাকাতেই তার কেমন অস্বস্তিবোধ হয়। ভীষণ রাগ হয় নিজের প্রতি!

সেই কেউ একজন তমাল। প্রীতির কাছে এগিয়ে আসতেই প্রীতি ঠোটদুটো প্রসরণ করে সেই হাসি হেসে তমালকে বলে, ‘কোথায় যাচ্ছ তমাল?’

-তমালও ফিকে হেসে বলে, আমি যাচ্ছিলাম না কোথাও। আমার বাসা এখানে! দেখলাম তুমি যাচ্ছো। ডাক দিলাম। কোথাও যাচ্ছো?

প্রীতি মৃদু হেসে বলে, বাসায় যাচ্ছি।

তমাল হেসে বলে, আচ্ছা যাও তাহলে………………।



প্রীতি সিএনজিতে উঠে বসতেই তমাল সিএনজিওয়ালাকে ভাড়া জিজ্ঞেস করে সিএনজি ভাড়া দিয়ে দেয়। প্রীতি এতে জোড়াজুড়ি করে। এক পর্যায়ে প্রীতি বলে, আচ্ছা তুমি চলো আমার বাসায়!

তমাল বলে, আজ থাক অন্য একদিন যাব ।

প্রীতি এবার কিঞ্চিত অভিমানের গলায় বলে, চলো না হলে কিন্তু আমি রাগ করবো।

 

তমাল সিএনজিতে উঠে বসে! প্রীতির পাশে। সিএনজির গতি বেড়ে যায়, মৃদু বাতাস শেষে আসে বসন্ত শেষে ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা। শহুরে বাতাসে বসন্তের মিষ্টতা পাওয়া যায় না। তমাল চোখ বন্ধ করে লম্বা নিশ্বাস নেয়, প্রীতির গায়ের গন্ধ!

তমাল চেষ্টা করেও সে গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে না। তার নাকে ভেসে আসে ড্রেনের উটকো পঁচা গন্ধ, ডাস্টবিনের নোংরা গন্ধ।

 

[পরের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন]

এই লেখাটি শেয়ার করুন
ছাইলিপির ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ছাইলিপির কথা

লেখালিখি ও সৃজনশীল সাহিত্য রচনার চেষ্টা খুবই সহজাত এবং আবেগের দুর্নিবার আকর্ষণ নিজের গভীরে কাজ করে। পাশাপাশি সম্পাদনা ও প্রকাশনার জন্য বিশেষ তাগিদে অনুভব করি। সেই প্রেরণায় ছাইলিপির সম্পাদনার কাজে মনোনিবেশ এবং ছাইলিপির পথচলা। ছাইলিপিতে লিখেছেন, লিখছেন অনেকেই। তাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। এই ওয়েবসাইটের প্রতিটি লেখা মূল্যবান। সেই মূল্যবান লেখাকে সংরক্ষণ করতে লেখকদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। কোন লেখার মধ্যে বানান বিভ্রাট থাকলে সেটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ছাইলিপি সম্পর্কিত যে কোন ধরনের মতামত, সমালোচনা জানাতে পারেন আমাদেরকে । ছাইলিপির সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ছাইলিপির নতুন সংযোজন ছাইলিপির ইউটিউব চ্যানেল Chailipi Magazine। সাবস্ক্রাইব করার আহ্বান।

error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন ! বিশেষ প্রয়োজনে ইমেইল করুন [email protected]