মুজিব মানেই বাংলাদেশ

নাজিফা আক্তার শারিকা

“হে মুজিব, কে বলেছে তুমি মৃত?
কে বলেছে তুমি নেই?
৫৬ হাজার বর্গমাইলে আমি শুধু তোমায় খুঁজে পাই!!”
মুজিব আমার ভালোবাসার নাম।
আমার প্রিয় কবির নাম।
তিনি তো কবিই!
সাত কোটি বাঙালিকে নিয়ে তিনি যে পৃথিবীর সব থেকে জাগ্রত কবিতাটি লিখেছেন।
যে কবিতার নাম বাংলাদেশ।
তাই সবসময়ই অল্পবিস্তর নিজেকে মুজিব চর্চায় ব্যস্ত রাখি।আমার পড়ার টেবিলের একটা পাশ জুড়ে রয়েছে বিশাল মুজিব রাজ্য। তাঁর বই, দূলর্ভ ছবি,পত্রিকার কাটিং, আমার কাঁচা হাতে আকাঁ মুজিবের ছবি, কবিতা আরও কত কি!!!

ছোটোবেলা থেকেই পুরো লেন্সের চশমা পড়া সাদা কালো মুজিবকে খুব ভালো লাগতো।তাই আমার সাদা সালোয়ার কামিজের উপর বাবার কালো মুজিব কোট আর দাদুর পাওয়ারি চশমা দিয়ে মুজিব সাজতাম।সে কি বাঁধ ভাঙা উচ্ছাস আমার!!
যেন ৫২,৬৯,৭১ এর সেই অদম্য দুর্বার, স্বাধীনচেতা, সংগ্রামী মুজিব হয়ে যেতাম।
যে রক্তপিপাসু পাকিস্তানি হায়েনার মুখ থেকে ছিনিয়ে এনেছিল সোনার বাংলাকে।
প্রায়ই তার নির্ভীকতা নির্দেশক সেই তর্জনীর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম এরকম তর্জনী তুলেই হয়তো মুজিব হওয়া যায়। এর ভিতরেই রয়েছে সব তেজদীপ্ততার মূলমন্ত্র।ছোট থেকেই আমি একটু কাব্যপ্রেমী।প্রথম যেদিন শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনলাম বাবাকে মুগ্ধস্বরে বলেছিলাম, বাবা দেখ কি সুন্দর একটা কবিতা!একটা জ্বালাময়ী মহাকাব্য!!আচ্ছা বাবা এই কবিতার কবি কে??
বাবা তো আড়চোখে আমার দিকে তাকালেন।বললেন, তুই কবিতা কোথায় পেলি??এটা তো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ;যে ভাষণ এনে দিয়েছে একটা সোনার বাংলা!!আজকের বাংলাদেশ।

আমি তো হতবাক, এরকম মানুষ কে ই বা আছে যে কিছু শব্দসমষ্টিতে তাৎক্ষণিক বানিয়ে ফেলতে পারে একটা আস্ত মহাকাব্য,যার প্রতি শব্দের বুননে প্রতিবাদের ঢেউ খেলে যায় বাঙালির হৃদয়ে।যার নির্ভীকতা আর সাহসী কন্ঠস্বর প্রতিটা মানবের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বয়ে যেতে পারে সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গের মতো।
তাই সিদ্ধান্ত সেদিনই নিয়েছি,এই ভরদুপুরে প্রলয় সৃষ্টিকারী মানুষটা ছাড়া আমার প্রিয় কবি আর কেউই হতে পারে না। সেই থেকে মুজিব আমার প্রিয় কবি!! তারপর যে কতশত বার তার কাব্যকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি।স্কুল থেকে ফিরে,কিংবা ছুটির দিনে -একটু ফুরসত পেলেই বসে যেতাম প্রিয় কবির রেসকোর্স কাঁপানো সেই বজ্রকন্ঠের রেওয়াজে।চলত জোর প্রাকটিস।সেই থেকে শুরু মুজিবের মতো দুর্দান্ত, নির্ভক, অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার সংগ্রাম।
কিন্তু ৭৫ এর এক ভয়াল রাতে আবারও বাঙালিকে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল কিছু নরপশু,পঙ্গু করে দিয়েছিল বাঙালি সত্তাকে!এটাই যেন যেন আমার মুজিব হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে আমরা দেহে।মুজিব হারানোর প্রতিশোধ, প্রিয় কবি হারানোর প্রতিশোধ!! তবুও অন্তরে আর্তনাদ আর প্রতিবাদী আমি করে চলি স্বপ্নের লালন।
আমার স্বপ্ন, মুজিবের মতো আমিও একদিন দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠব-
“এদেশ পরাজিত শক্তিদের না, এদেশে শকুনের ঠাঁই নাই।”
চলো সব হানাহানি, রেষারেষি,দূর্নীতি বন্ধ করি
মুজিবের সোনার বাংলা গড়ি।”
ভালোবাসি তোমায় প্রিয় প্রতিবাদী কবি!!

 

নবম শ্রেনি
সৃজনী বিদ্যানিকেতন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
দুমকী, পটুয়াখালী।

এই লেখাটি শেয়ার করুন

সম্পাদকের কথা

লেখালিখি ও সৃজনশীল সাহিত্য রচনার চেষ্টা খুবই সহজাত এবং আবেগের দুর্নিবার আকর্ষণ নিজের গভীরে কাজ করে। পাশাপাশি সম্পাদনা ও প্রকাশনার জন্য বিশেষ তাগিদে অনুভব করি। সেই প্রেরণায় ছাইলিপির সম্পাদনার কাজে মনোনিবেশ এবং ছাইলিপির পথচলা। ছাইলিপিতে লিখেছেন, লিখছেন অনেকেই। তাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। এই ওয়েবসাইটের প্রতিটি লেখা মূল্যবান। সেই মূল্যবান লেখাকে সংরক্ষণ করতে লেখকদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। কোন লেখার মধ্যে বানান বিভ্রাট থাকলে সেটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ছাইলিপি সম্পর্কিত যে কোন ধরনের মতামত, সমালোচনা জানাতে পারেন আমাদেরকে । ছাইলিপির সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *