মধ্য রাইতের ক্ষুধা 

মতি মিয়া হাতরে হাতরে অন্ধকারে তার পিঠে হাত দিলো। সে হাত সরিয়ে নিলো। মতি মিয়া ঠান্ডা গলায় বললো, ফইর‍্যা আমার ক্ষুধা লাগছে। আমারে কিছু খাওন দে। আমি ক্ষুধায় মইরা গেলাম রে! আমারে কিছু খাইতে দে, নাইলে তোর শরীর দে। আমি গ্যালাম রে। ক্ষুধায় শ্যাষ হইয়া গ্যালাম। সে ঘুম জড়ানো গলায় বললো, মাইনক্যার পুত! মুড়ি খা। 

শ্রান্তির মচা 

মুখে ভীষণ তিক্ততা! মেজাজ টনটনে৷ কি একটা হলো সব ঠান্ডা হয়ে গেলো৷ শরীরের সব বিষাদ অলসতায় পরিনত হলো৷ একটু হাই, সঙ্গে একটু আড়মোড়া৷ হাতের আঙুল গুলো টসটস করে ফুটতে লাগলো৷ এবার পায়ের পালা৷ না পাওয়ার ক্ষোভ টোভ রাগটাগ সব দু চোখের পাতায় নেমে এলো৷ সে ঘুমিয়ে পড়লো৷ প্রায় কত রাত সে ঘুমায়নি এমন! 

আমার বাবার প্রতি কিঞ্চিত অভিমান হচ্ছে না৷ আপার ভাষ্যমতে, দুলাভাই আপাকে বলেছে…বাবা নাকি সদরঘাটের এক বেশ্যাকে বিয়ে করেছেন৷ বাবা নাকি বরিশাল থেকে এসে ওখানেই রাত্রীযাপন করতো। সেই বেশ্যা ছিলো শুধু বাবার জন্য বরাদ্দ। আমি আপাকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করলাম না। দুলাভাই এত খবর কোত্থুকে জানে? সেও কি সেখানে যায়? গোটা শহরটাকে আজ অচেনা মনে হচ্ছে! গোটা শহর আমায় বলছে “তোর বাবার সাথে বেশ্যার বিয়ে হয়েছে” আমি শহরকে উত্তর দিয়ে যাচ্ছি,’বেশ্যারাও মানুষ হয়’

মশলা জ্বর গল্পের অংশ বিশেষ (গল্পটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন)

পিছিয়ে নাকি? 

কত কিছুই তো মিস করে গেলাম! কত কিছুইতো হাত ফসকাইয়া ছুইটা গ্যালো। নিজেরেও ছুইট্যা ফ্যালাইলাম। মাঝেমধ্যে নিজেরে টাইট কইরা বান্ধিতে ইচ্ছা করে। তোমারে বন্ধিবার চেষ্টা আমি কহনো করি নাই। কাউরে বাইন্ধ্যা নিজেই শান্তিতে থাকোন যায় না। আমরা পিছায়া যাই, সবাই একসাথে গেলে আছাড় খাইয়া পইড়া যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি তো আর স্বার্থপর না।আমি কারোর ব্যথা সহ্য করতে পারি না৷ তাই পিছায়া যাই, বোকার মতো। গাধার মতো ঘাস খেয়ে যাই। তোমারে নিয়ে ভাবি, ছাগলের মতো জাবরকাটি। 

আরও পড়ুন – খাদ নিখাদ (১৮+ গল্প)

অলীক আসমান

আপনারে যদি বলা হয় যে আপনে এখন ঠিক কোন একটা বিষয় নিয়া কল্পনা করেন। তাইলে আপনার মাথায় সর্বপ্রথম কোন জিনিসটা আইবো। আপনে কি কল্পনা করবেন? অধিকাংশ অবিবাহিত যুবক পোলাপাইন ঘুমানোর আগে কি কল্পনা করে জানেন? একটা শরীরের। বাকিটা বিস্তারিত বললাম না । আপনে জানেন ভালো মতই। তবে আমারে যদি হুট কইরা কল্পনা করতে বলেন এবং আমার মাথা যদি ক্লিয়ার থাকে তাইলে আমি যে জিনিসটা কল্পনা করি সেইটা হইলো একটা নদী, ঐ নদীর মাঝখানে একটা চর। ঐ চরে আমি আর একটা নৌকা। সহজ কইরা বলি- আমি, নৌকা, চর, নদী। 

আমি মাঝেমইধ্যে কল্পনা করি, ঐ দৃশ্য পর্যন্তই। নদী, নৌকা ইত্যাদি। তবে আমার কল্পনায় নতুন একটা ভয় ঢুকছে। ঐ নদীতে আমি কুমির দেখছি। এইদিকে আবার খেয়াল কইরা দেখলাম নৌকার তলা ফুটা। ঐ দিকে নদীর পানি বাড়তাছে। মানে একটা হযবরল অবস্থা। বলা হয় মানুষ কল্পনায় নাকি বেশি সুখি। আমি তো শালা কল্পনাতেও আটকাইয়া গেছি। আমার কাছে কল্পনা হইয়া গ্যাছে একটা মিথ্যা আকাশ অথবা অলীক আসমান। তয় ঐ একটা কথাই রইলো, কল্পনা না থাকলে বাঁচুম কি নিয়া?

অট্টালিকার গোধূলি 

ফেরিওয়ালা শহরের অলিতে গলিতে ঘুইরা ব্যাড়া৷ হাক – ডাক দেয়! এই হাক-ডাকে কারো কারো ঘুম ভাঙে। কেউ আবার পত্রিকায়  মনযোগ সইর‍্যা যায় দেইখা ছ্যান কইরা ওঠে। কেউ আবার মানাইয়া নেয়। শহরের জীবনই এমন, মানাইয়া নিতে হয়। ফেরিওয়ালা বসে, চা খায়; বিড়ি টানে। গলা খাকরি দেয়৷ গলাডা ভাইঙ্গ্যা গেলে আজকের ইনকাম শ্যাষ। ফেরিওয়ালার ইনকাম অর্ধেক থাকে গলায়,  একভাগ থাকে পায়। বাকিটা মাথায়। রাত হইলে পা থিকা মাথা পর্যন্ত ব্যথা হইয়া যায়। যে কয়টা টাকা পায়, দিনশেষে সেই টাকা থেইকা জন্মনিয়ন্ত্রণক কেনার আলাদা টাকা হয় না। এসবের কি দরকার? পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যায়। ফেরীওয়ালা বুড়ো হয়ে যায়, কখনো কখনো পেশা বদল করে। কেউ আবার বিরাট টাকা-পয়সাওয়ালা লোক হইয়া যায়৷ কেউ আবার শহুরের বস্তিতে শেষ জীবন কাটায়। গোধূলীর আলো এসে পরে অট্টালিকার গায়ে। রাত নেমে আসে শহরের বুকে, তারাও ঘুমায়। তাদেরও ঘুম আছে। 

চাঁন রাইতের বিড়াল

দুঃখ ব্যাপারটা ভাইরাসের থেইকাও বেশি সংক্রমণক। মনে করেন দুইটা ফ্লাট, এই ফ্লাটে হাসা হাসি চলতাছে৷ আর ঐ ফ্লাটে কান্না৷ যে ফ্লাটে হাসি ফাইট্টা পড়তাছে ঐ ফ্লাটে একটা ফোন কল আইলো। ব্যাস নিশ্চুপ হইয়া গেলো সব। চোখ দিয়া পানি ঝড়তে লাগলো। ব্যাপারটা সমতায় চইলা আসলো।  দুঃখ ব্যাপারটাই এমন, সংক্রামক! 

অথবা, ভাগ্যের কি এক খেলা। ভাগ্য আবার চান রাইতের বিড়ালের মতো। ভীষণ ভয়ংকর। চাঁন রাইতে কহনো বিড়ালের চোখে তাকাবেন না। চাঁন রাইত খুশির রাইত। এই রাইতে এমন একটা হিউমার বিশ্বাস করলে বাঁচবেন কেমনে? সুখে বাঁচেন। অসুখে  মইরা যান!  

ব্যাটারির ডিব্বা 

গল্প গুলান কেমন কইরা জানি ল্যাখা হইয়া গেলো। কিন্তু কেউ কেউ, কোন না কোন গল্পকার এই গল্পগুলো লিখলো না।তারা লিখলো ফ্যান্টাসির গল্প, রোমান্টিক সেক্সিজমের গল্প।  তারা টোকাই দের দু চোখে দেখতে পারলো না। তাদের সামনে ফ্যাকাসে চামড়ার হাত আসলে তারা সেই হাতরে তাড়াইয়া দিতো। সিগারেটে টান দিয়া কইতো যাহ যাহ!  কিন্তু কেউ কেউ চুপ কইরা এই গল্পগুলা লিখ্যা গেলো। তবে মানুষের সিম্পেথি পাইলো না। মানুষে বললো, গরিবের গল্প বেইচা ধনী হইবার চাও? সে চুপ কইরা রইলো। তার আর ভাগ্যের খেল বদল হইলো না। কয়েকবার জেলটেল খাটলো। বাইর হইয়া সে আর কলম ধরলো না। সে নিরুপায়। গল্পকার টোকাই হইয়া গ্যালো৷ তার গল্পে হটি-নটি ফ্যান্টাসি নাই। সে গল্প লিখতো টোকাইগো গল্প। রিক্সাওয়ালার প্যাডেলের গল্প। সুইপারের গল্প। 

একটা মানুষ কিরম কইরা নোংরা কালো পানিতে ডুব দেয় সেই গল্প। সে আর গল্প লিখলো না। অভিমান কইরা, না খাইয়া দাইয়া ফুটপাতে শুইয়া রইলো।

একদল টোকাই তখন ফুটপাত দিয়া ফিরতে ছিলো। টোকাইগুলান কইলো, এই মালে মাল খাইয়া হুইয়া রইছে। দ্যাখ কত শান্তি। আরেক টোকাই কইলো, পকেটে যে মাল আছে বাইর কইরা নে। তার পকেটে পাওয়া গেলো একটি কলম। ব্যাগে পাওয়া গ্যালো দুটো পান্ডুলিপি আর একটি কনডম। টোকাই গুলান কন্ডমডারে খুইলা ফুলাইতে ফুলাইতে রাস্তা ধইরা হাটতে রইলো। যাওয়ার আগে তার তল পেটে একটা লাত্থি দিয়া গ্যালো। লাথির ব্যথা, সে জ্ঞান ফির‍্যা পাইলো। উইঠা বইসা রইলো। বিশাল অট্টালিকার দিকে তাকাইয়া রইলো। পাশের ডাস্টবিন থেইকা একজন খাবার খুঁজতাছে। লেখক বসে রইলো। তার আর ভাগ্য বদল হইলো না। 

শহুরে গল্প 

যে গল্প জানে সবাই। সে কি জানতো! এমন একটা দিন তারে জড়াইয়া ফেলবো। সেকি জানতো? এই দিনে সে নিঃস্ব হইয়া যাইবো। সে কি জানতো, এমন একটা দিনে কেউ একজন তার হাত ছাইড়া দিবো।সেই মানুষটা তো তার অতি আপন।  সে কি জানতো? এই দুনিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস বইলা একটা কথা আছে? সে কি জানতো, পৃথিবীর প্রথম নিশ্বাস নেওয়ার কয়েকঘন্টা পরেই তার ডাস্টবিনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে হইবো? সে কি জানতো সে একটা মানব শিশু?

নিজের গান

আমারে কেউ ভালোবাসে না। এই একটা আক্ষেপ নিয়া বড় হইসিলাম। এখন দেখি সবাই আমারে ভালোবাসে। সবাই কাছেটাছে জড়াইয়া নেয়। সিম্প্যাথি দেখায়। মাইনষ্যে একটা আজব জিনিস জানে না। নিজেরে ভালোবাসার থেইকা আনন্দের কিছু নাই। তাও মানুষ আমার পাছায় পাছায় ঘোরে। আরে ব্যাটা আগে নিজেরে চুমা খা! তারপর না হয় দিবি পরের পোঁদে কামড়। 

প্যাথেটিক

আজকাল মানুষ অল্পেই বিষন্ন হইয়া যায়। বিষন্ন হইলে একটু আধটু খারাপ টারাপ লাগে। অনেকেই আছে কারো কাছ থেইকা পাত্তা পায় না। অনেকেই আছে বেটার অপশন খুঁজে। তারা চায় এর থেইকা ভালো সুযোগ আমার কাছে আসুক। আসতেই হবে। যতদিন বাঁইচা আছি ততদিন ভালো সুযোগ চাই। এই সুযোগের ভীড়ে, একে অন্যেরে ধাক্কা মাইরা ফ্যালাইয়া দেই। পরিনতি উল্টায়া যায়। উল্টায়া যায় খেলার নিয়ম। এরপর বিষন্নতা আইসা আমগো চুমা দেয়। মানুষগুলা মইরা যায় একটা হাতের আদরের আক্ষেপে। কি একটা কাব্যিক প্রেক্ষাপট। 

এই কাব্যিক প্রেক্ষাপট থেইকা বাইর হইতে আসলে কি লাগে? হযবরল কাহিনী ঘটানো লাগে। যেভাবেই হোক ঐ ফাঁদ থেইকা ফির‍্যা আসা উচিত। ফাঁদের লগে খেলতে যাইয়া কোন সময় ফাঁস পইড়্যা যায় টের পাওয়া যায় না। অনুভূতি ভোতা বানাইয়া ফেলতে হবে। এই কথা আমার গুরু আমারে বলছিলো। প্যাথেটিক গুরু। সেও এই জিনিস ট্রাই করতে গিয়া ঝুইলা পড়ছিলো। জীবনডারে সস্তা বানাইয়া, চইলা গ্যালো। মানুষ যে ক্যান বোঝে না, প্যাটের ক্ষুধার থেইকা আর বড় কোন জ্বালা এই পৃথিবীতে নাই। বাজান এইবার একটু বোঝ৷ ।

 

গল্পগুলো কতটা আপনাদের ক্ষুধা মিটিয়েছে তা জানা নেই আমার ! তবে গল্পগুলো ক্ষুধার্ত আপনাদের জন্যই লেখা হয়েছি। শ্লীল ও অশ্লীল দুটো ক্ষুধাই আমদের মধ্যে জাগ্রত। নিজের ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন! ভালো থাকুন!

এই লেখাটি শেয়ার করুন