অভিনেতা হৃতিক নাকি বাঙালি হৃতিক ?

অভিনেতা হৃতিক নাকি বাঙালি হৃতিক ?

হৃত্বিকের জন্ম জন্ম: ১০ জানুয়ারি, ১৯৭৪ সালে। চলচ্চিত্র পরিচালক রাকেশ রোশনের পুত্র হৃতিক বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং এক দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক-প্রাপ্ত অভিনেতাদের অন্যতম। ছ’টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার জয় করেছেন হৃতিক।

কয়েকটি ছবিতে হৃতিক শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। পরে রাকেশ রোশন পরিচালিত চারটি ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। কাহো না… প্যায়ার হ্যায় (২০০০) ছবিতে তিনি প্রথম বার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য অর্জন করেছিল এবং এতে অভিনয় করে হৃতিক বেশ কয়েকটি পুরস্কারও অর্জন করেছিলেন। ২০০০ সালে সন্ত্রাসবাদ নাট্যধর্মী ফিজা এবং ২০০১ সালে একাধিক তারকাসম্বলিত প্রণয়মূলক নাট্যধর্মী কভি খুশি কভি গম… ছবি দু’টি তাকে বিশেষ খ্যাতি অর্জনে সাহায্য করে। কিন্ত তার অভিনীত পরবর্তী কয়েকটি ছবি সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।


হৃতিক রোশনকে বলিউডের ‘গ্রিক গড’ বলা হয়। সেই ডেবিউ ছবি থেকে হৃতিক প্রেমে পাগল তার ভক্তরা। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে আছে তার ভক্ত। অভিনেতার নতুন ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেই আনন্দে মাতামাতি শুরু হয়ে যায় চারিদিকে। চলতি সপ্তাহেই মুক্তি পেয়েছে ‘বিক্রম বেদা’র টিজার। সিনেমায় তাকে দেখা যাবে সাইফ আলি খানের সঙ্গে। প্রথম দর্শনেই ভক্তদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

হৃতিক এর সাথে জুড়ে আছে বাংলার কিংবা বাঙালিয়ানার মেলবন্ধন। অভিনেতা হৃতিকলে হাফ বাঙালি বলা যেতে পারে। পুরো ঘটনা জানুন তবে এবার, হৃতিক রোশনের দাদি ইরা ছিলেন বাঙালি। বিয়ে করেছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ রোশন লাল নাগরাথকে। তিনি ছিলেন পাঞ্জাবি। আর সেই সূত্রেই হৃতিককে বাংলার ছেলে বলা যেতেই পারে!

আর সেই বাংলা সংযোগের জেরেই হয়তো রসগোল্লা খেতে খুব ভালোবাসেন। তাই যখনই কলকাতা যান, নিজের এই প্রিয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার কোনো সুযোগই ছাড়েন না হৃতিক।

অভিনেতার প্রথম পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স ছিল ২০০০ সালে কলকাতাতেই। দাদির ইচ্ছেপূরণ করতে প্রথম স্টেজ শো করেছিলেন তিনি তিলোত্তমায়।

সম্প্রতি হৃতিকের ছবি ‘বিক্রম বেদা’ বয়কটের ডাক উঠেছিল। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাল সিং চাড্ডা’ ও আমিরের ঢালাও প্রশংসা করেন হৃতিক। এমনকি আমিরের অভিনয় তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও লেখেন। আর তাতেই চটে বয়কট আমির ট্রেন্ডে যারা যোগ দিয়েছেন। আর তাই যে সকল সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার ‘বয়কট লাল সিং চাড্ডা’ রব তুলেছিল, এবার তাদের মুখেই ‘বিক্রম বেদা’কে বয়কটের ডাক।



২০০৩ সালে বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর কোই… মিল গয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করে হৃতিক দু’টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা) পান। এই ছবিটি তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ছবিটির দু’টি অনুবর্তী পর্ব নির্মিত হয়: কৃষ (২০০৬) ও কৃষ ৩। এই দু’টি ছবিতেও নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন হৃতিক এবং ছবি দু’টিও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছিল। ২০০৬ সালে রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্র ধুম ২-এ তিনি এক চোরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ২০০৮ সালে ঐতিহাসিক প্রণয়ধর্মী জোধা আকবর ছবিতে মুঘল সম্রাট আকবরের ভূমিকায় এবং ২০১০ সালে নাট্যধর্মী গুজারিশ চলচ্চিত্রে একজন কোয়াড্রিপ্লেজিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সর্বত্র প্রশংসা অর্জন করেন।

ছবিতে গ্যাংস্টার বেদার চরিত্রে থাকবেন হৃতিক। সাইফকে দেখা যাবে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। ১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের টিজার এসেছে আপাতত সামনে। পুরো টিজারজুড়েই রয়েছে থ্রিলার, রোমাঞ্চ এবং অ্যাকশান। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রাধিকা আপ্তে এবং রোহিত শরফ।

দর্শকের বহুল প্রত্যাশিত অভিনেতা হৃত্তিক ফিরেছেন নতুন সিনেমা দিয়ে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে ‘বিক্রম বেদা’।

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
অচিনপুরের দেশে : পঞ্চম পর্ব

অচিনপুরের দেশে : পঞ্চম পর্ব

পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় এবং গৌতম সরকার   (পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায়) কল্লোলিনী তিলোত্তমার মাথার ওপরেওতো এমনই গাঢ় নীল শামিয়ানা আছে; বর্ষার শেষে আর ভরা বসন্তে সেই নীলিমা মায়া ...
তর্জনী

তর্জনী

রেজা করিম সকল মৃত্যু মৃত্যু নয় – কিছু কিছু মৃত্যু সাময়িক প্রস্থান মাত্র, দৃশ্যপট বদলে আবার সদর্পে ফিরে আসা। সকল কান্না কান্না নয় – কিছু ...
কয়েকটি অণুগল্প

কয়েকটি অণুগল্প

আশিক মাহমুদ রিয়াদ  চাঁদনী উঠান চোখ জুড়ে দারুণ ঘুম নেমে আসে। আকাশের চাঁদ তখন মেঘের আড়ালে লুকিয়েছে৷ একটু আগেও কি সুন্দর ভরা জ্যোৎস্না ছিলো। সর্বনাশা ...
মাতৃভাষা

মাতৃভাষা

ছোটন গুপ্ত কুলিমজুর কবিতা হয়-  জানান তা নজরুল, দিনবদলের বোধন চেনান – সুকান্ত নির্ভুল। টুকটুকে লাল সকাল দেখান – সুভাষ মুখুজ্জে, নীরেন লেখেন,রাজার পোষাক নেই যে ...
ফ

ফ বাংলা ভাষার বাইশতম ব্যাঞ্জনবর্ণ হলো- ফ। ফ অক্ষরটি বাংলা বর্ণমালার তেত্রিশতম অক্ষর। ফ এর সাথে যখন আ যোগ হয়(+) তখন – ‘ফা’ হয় আবার ...
পাহাড় তুমি

পাহাড় তুমি

ডঃ গৌতম সরকার   পাহাড় তুমি আকাশ হতে যদি চাঁদ নামতো তোমার কোলে কোলে ফসল ভরা খেত ভরতো মেঘে, তুমি তখন  অনন্ত এলেবেলে ।   ...