অয়োময়

অয়োময়

জোবায়ের রাজু

এক সময়ে অধিক সম্পত্তির মালিক ছিলেন আজিজুর রহমান। এখন আর কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই। সারাবছর যে ভাইদের পড়ালেখার খরচ আর সুখ শান্তির পেছনে সময় ব্যয় করেছেন, সে ভাইয়েরা এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ভাইয়ের কোনো খোঁজ খবর রাখেনা বলতে গেলে। এই নিয়ে আজিজুর রহমানের মনে দুঃখ অনেক। সেই দুঃখের কেবল ভাগীদার পলাশ। আজিজুর রহমানের একমাত্র ছেলে।
সঠিক বয়সে বিয়ে করলেও দাম্পত্য জীবনের ষোল বছর পর সন্তানের মুখ দেখেন আজিজুর রহমান। এক পাখি ডাকা ভোরে পলাশের জন্ম। বাবা হতে পেরে আজিজুর রহমান সেদিন অঘোরে কেঁদেছেন সুখের কান্না।
২.
পলাশ এখন অনার্সে পড়ে। অভাব অনটনের দৃশ্য দেখে দেখে বড় হলেও পলাশ কখনো বাবার প্রাচুর্যের জীবন দেখেনি। সব সময়ে শুনে এসেছে বাবা তার চাচাদের জীবন যাপনে যথেষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সেই চাচারা আজ এতোই ব্যস্ত যে বাবার দিকে তাদের কোনো ভ্রæক্ষেপ নেই। বড় হতে হতে পলাশ দেখেছে তার চারপাশের কঠিন পৃথিবীকে। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে পলাশ বরাবরই উদ্বিগ্ন। সকাল সন্ধ্যা টিউশনিতে খুঁজে নিয়েছে আয় রোজগারের পথ। মাস শেষে ভালোই টাকা আসে। সে টাকায় অভাব খানিকটা দূর হয় বটে, কিন্তু পরিপূর্ণ স্বচ্ছলতা আসেনা।
৩.
বার্ধক্যের কারণে রোগ শোক পেয়ে বসে আজিজুর রহমানকে। ভীষণ শ্বাসকষ্ট। টানা এক বছর যাবত ইনহেলার ব্যবহার করছেন। পলাশ টিউশনির টাকায় মাস শেষে ইনহেলার কিনে এনে বাবার হাতে তুলে দিলে আজিজুর রহমান শব্দ করে কেঁদে ফেলেন আর ছেলের জন্যে দোয়া করেন। পলাশের আর যাই ভুল হোক, বাবার জন্যে ইনহেলার কিনতে ভুল হয় না।
রাতে পলাশের ফোনে ফারুকের কল আসে। ফারুক পলাশের বন্ধু। কল রিসিভ করে পলাশ। ফারুক ওপার থেকে পলাশের কাছে হাজারখানেক টাকা ধার চায়। কিন্তু পলাশ আশার বাণী শোনাতে পারেনা। আফসোসের সুরে বলে, ‘মাফ করিস ভাই। হাতে কেবল ৮০০ টাকাই আছে। বাজারের আনোয়ার ক্লথ ষ্টোরে একটি নীল শার্ট পছন্দ হয়েছে। ইচ্ছে থাকার পরও কিনতে পারছিনা। আর চারদিন পর বাবার জন্যে ইনহেলার কিনতে হবে। নীল শার্টের চেয়ে বাবার জন্যে ইনহেলার কেনাটাই জরুরি। সামনের মাসে ধার দিতে পারবো। কোনো সমস্যা হবে!’ ফারুক কোনো কথা না বলে চুপ করে থাকে।
পরদিন বিকেল বেলায় আজিজুর রহমান পলাশের কাছে এসে নত কণ্ঠে বলেন, ‘তোর কাছে কিছু টাকা হবে! দরকার ছিল।’ পলাশ টু শব্দ না করে পকেট থেকে ৮০০ টাকার সবগুলি বের করে বাবার হাতে দিয়ে দেয়। বাবার হঠাৎ টাকার কেন দরকার, জানতেও চায় না।
৪.
সন্ধ্যায় আজিজুর রহমান পলাশের হাতে একটি শপিং ব্যাগ তুলে দেন। ব্যাগের ভেতরে একটি নীল শার্ট দেখে পলাশ অবাক হয়। এই শার্টটিই তো সে আনোয়ার ক্লথ ষ্টোরে পছন্দ করেছে।
পলাশ বাবার কাছে এই শার্টের রহস্য জানতে চায়। আজিজুর রহমান হেসে বলেন, ‘কাল রাতে তোর ফোনালাপের সব কথা শুনেছি আড়াল থেকে। আমার ইনহেলারের জন্যে এই শার্ট তুই কিনতি না। তাই আমিই কিনে এনেছি। হা হা হা।’
বাবা হাসছেন। অনেকদিন পর বাবাকে এইভাবে হাসতে দেখেছে পলাশ। শপিং ব্যাগ খুলে নীল শার্টটি বের করতেই চোখ ভিজে এলো পলাশের।

 

আমিশাপাড়া, নোয়াখালী

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
মাকাল ফল

মাকাল ফল

রফিকুল নাজিম  মানুষ তুমি বাহির দ্যাখো ভিতর দ্যাখো কই, ভিতর দ্যাখতে মন লাগে চোখটা লাগে কই? এই জনমে বাহির দ্যাখে করলে সব বিচার, চকচকে সব ...
তাল তমালের বনে

তাল তমালের বনে

আশিক মাহমুদ রিয়াদ দুটি ঘর্মাক্ত শরীর একে অপরকে শেষ চুমু দিয়ে বিছানা থেকে উঠে কাপড় দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢেকে নেয়। মেয়েটি চুলগুলো গুছিয়ে খোপা করে ...
মুক্ত গগনে স্বাধীনতা

মুক্ত গগনে স্বাধীনতা

সুদীপ্তা চৌধুরী “মুক্ত গগনে স্বাধীনতা” মুক্ত গগনে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। কেমন করে এসেছে এই স্বাধীনতা – তাঁর পেছনের ছবিপট ছিল; শুধুই কান্নার আর্তনাদ, সম্ভ্রম হারানো ...
ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা/ শুভেচ্ছা কার্ড/SMS ২০২৪

ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা/ শুভেচ্ছা কার্ড/SMS ২০২৪

ঈদের চাঁদ দেখা গিয়েছে! [প্রিয় শুভানূধ্যায়ী, ছাইলিপির পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। দারুণ সব ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড নিয়ে ছাইলিপি হাজির হয়েছে ...
গরিব চাষি

গরিব চাষি

সেকেন্দার আলি সেখ   আগুন জ্বলে ক্ষেত খামারে গরিব চাষির বুকে পায়ে ফেলে মাথার ঘাম নেইকো কৃষক সুখে আগুন জ্বলে গ্রাম ছাড়িয়ে রুক্ষ মাঠের শেষে ...