কবিতা- নদী-ফকির

কবিতা- নদী-ফকির

 অনিরুদ্ধ সুব্রত 

 

এতো যে সর্দি কাসির দোষ, তবু শেষ অবধি জলের ধারার পাশে এসে

একচিলতে ঘর বেঁধে থিতু হলাম, কোনও রোগা নদীটিকে ভালবেসে

দেখলাম তো পাড় ছেড়ে, এলোমেলো গাছের পথ ছেড়ে কত যে লোক

চওড়া রাস্তা চড়ে অট্টালিকায় গিয়ে উঠেছে, কিন্তু আমার পছন্দ ছিল

আমার ভবিতব্য ছিল অথবা কর্মফল,গতি ,পরিণতি ছিল শিয়রে এক নদী।

 

এগিয়ে না গেলে, সে চাকার আয়ু ফুরিয়েছে মানুষ ধরে নেয়, ফেলে দেয়

গাড়ির গ্যারেজের আশপাশের জঞ্জালে জমে থাকা চাকার স্তূপ দেখেছি

যা বরাবর যন্ত্রণার, যা আয়নার মতো লেগেছে আমার, পিছিয়ে নদীর কাছে

যেতে ভালবাসা এসেছে আমার, স্কুলের দিনের মতো, কৈশোরের মতো

আমাকে যেতেই হতো হয়তো একটা আটপৌরে নদী-জল-পানার মিছিলে।

 

চিলতে ঘর আমার, তিলমাত্র উঠোন, কোজাগরী চাঁদ যখন নদীর কপালে

সন্ধের টিপ্ দেয়, নদী আমার বারান্দায় বয়ে যায়, শরীর আমার নৌকো হয়ে

বিনি বৈঠায় পাক খায়, নাচে দুঃখের কুশ-পুতুল,হেসে গড়িয়ে যায় জ্যোছনায়

হাজার বছরের গরিব-ঘর অসংখ্য নদী থেকে একটি নদীর চড়ায়, তখনই এই

জীবন আমার পুরোনো এক একতারা, যে তার-টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে রাত্রি হলো সারা ।

 

এখন হিম পড়ে সূর্য ডুবে গেলে, এখন হেমন্তের শুকনো ঘাট অন্ধকার গায়ে

পায়ের শব্দ-স্মৃতি মিলিয়ে নিতে চায়, মধ্য বয়সী মানুষের মতো নির্জলা কাঁদে

নির্জন পাড়ে, ঢালু মাটির বুক কখনও হঠাৎ ভারী পাথরের ভার হয়, মৃদু বাতাস

ছোপ ছোপ ঘাসের ডগায় লেগে ফিরে যায়, আমার একতারাটা এমনিই বাজে

হাত ছোঁয়ানোর বিলম্বের তীব্র অভিমানে, কী ব্যথা গাওয়া হয়নি, সে শুধু জানে।

 

এক জমিদারির রাখাল ছিলাম, মজুর ছিলাম বন্দরের, মালী ছিলাম বাগানে

নদীর পারে ফুটছে এখন পানাফুল, বর্ষার স্রোত গিয়েছে থেমে, ডিঙি বেয়ে

একটি ঢোঁড়া ডাঙার পথ ধরেছে, এই ঘাটে ওপারের কিছু মাটির মানুষ নামবে

মাঝি লগিতে ঠেলবে কাদা, জেলের জালে ঝুলে থাকবে কিছু সরল সাদা খয়রা

আমি ভাববো এই ভরা বাগান, এই বাণিজ্য নগরের গান,দেখব বাঁকা একটি গাছ।

 

 

সব হারিয়ে যায় না, সবটাই বিচ্ছেদের উড়ন্ত ধুলোর মতো ধূসর গন্ধ মেশা না

অনাথের নাথ তার গান, নির্জনে ঘর বেঁধে উঠোনে নদীর যাতায়াতে, ভিজে সুরে

যে গভীর পাওয়া বুকে অপেক্ষা করে, তাকে ফসলের মাঠের মতো দু’হাতে জড়িয়ে

ঘুমিয়ে পড়া, সেই সব কিছু ফিরে পাওয়া, গরিবের শাক-ভাত পেট পুরে খাওয়া সুখ

অনেক অনেক জীবন আরও পরে, শুয়ে থাকব জ্যোছ্না রাতে, এই নদীর বাহুতে ।

 

 

“বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া লেখা কপি করে ফেসবুক কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশ করেন, এবং সেই লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে
ছাইলিপি ম্যাগাজিন।”

সম্পর্কিত বিভাগ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
আফরিনের পরী মাওরি

আফরিনের পরী মাওরি

জাফরিন নূর আফরিন! এই আফরিন। কোথায় তুই? কী করছিস? -মা আমি এখানে। -সারাক্ষণ কী করিস তুই? -মা আমি আলতা দিচ্ছি। -তুই আবার এগুলো করছিস! কতদিন ...
ইচ্ছে ছিল পূর্ণতা- ফজলে রাব্বী দ্বীন

ইচ্ছে ছিল পূর্ণতা- ফজলে রাব্বী দ্বীন

ফজলে রাব্বী দ্বীন   ইচ্ছে ছিল সুন্দর এই দুপুরে রঙিন পাখির মতো উড়ে বেড়াবো, পূর্ণতায় ভরে দেবো সবুজের প্রাণ। অরণ্যের দাবানলে যে আকাশের মুখটি সাজে ...
ছোটগল্প-  বিভ্রান্ত পথিক

ছোটগল্প- বিভ্রান্ত পথিক

 সৌর শাইন গল্পটা ইমরান হাফিজ ও তার স্ত্রী ফাতেমার দীর্ঘ দ্বন্দ্ব নিয়ে। অন্ধকারে থাকা চোখ হঠাৎ আলো মানিয়ে নিতে পারে না। আচমকা আলোর ঝাপ্টা সৃষ্টি ...
আটঘর কুরিয়ানা ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার যেভাবে যাবেন

আটঘর কুরিয়ানা ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার যেভাবে যাবেন

 লেখা – আশিক মাহমুদ রিয়াদ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরিশাল। বলা হয়ে থাকে বাংলার প্রাচ্যের ভেনিস নামে খ্যাত বরিশালের নদীনালা, খাল-বিলে যুগ ...
প্রবন্ধ-  শীতের হাওয়ার লাগলো নাচন

প্রবন্ধ- শীতের হাওয়ার লাগলো নাচন

মিরাজুল হক  পৃথিবীর পূর্ব – গোলার্ধে  আমদের ভু- প্রকৃতির অবস্থান । কর্কটক্রান্তি রেখার উপরে । ফলে পুরোপুরি শীতের দেখা পায় না বাঙালী । তবুও এই ...
প্রভাতফেরী

প্রভাতফেরী

রফিকুল নাজিম  অপুদের বাড়ির পেছনে ইয়া বড় আমগাছ। সেই আমতলায় সবাই যথাসময়ে এসে হাজির হয়েছে। মোটামুটি প্রস্তুতিও শেষ। যাওয়ার আগে খুটিয়ে খুটিয়ে সবকিছু যাচাই করে ...